বিজিএমইএ ভবন সিলগালা : ভাঙা হবে ডিনামাইটে

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর হাতিরঝিলের কারওয়ান বাজার অংশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বিজিএমইএ ভবনে সিলগালা করে দিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউক। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে পরিচালিত অভিযানে ভবন মালিকদের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার জন্য কয়েক দফা সময় দেওয়ার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রধান ফটকে সিলগালা করে দেওয়া হয়। রাজউক পরিচালক (প্রশাসন) খন্দকার অলিউর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু করা হলো। আধুনিক পদ্ধতিতে ভবন ভাঙার প্রক্রিয়া হিসেবে ডিনামাইটের ব্যবহার করার ইঙ্গিত দেন কর্মকর্তারা।

খন্দকার অলিউর রহমান গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘আমরা ভবন মালিকদের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার জন্য কয়েক দফা সময় দিয়েছি। আজ (মঙ্গলবার) বিকেল ৫টার মধ্যে তাদের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলা হলে তখন পর্যন্ত বিভিন্ন ফ্লোর থেকে মাত্র ৭০ ভাগ মালপত্র সরানোর কাজ সম্পন্ন হয়। এরপর তারা সময় চাওয়ায় আরো দুই ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়। এর পরও দেখা গেছে, কোনো কোনো ফ্লোরে বেশ কিছু মালামাল রয়ে গেছে। সেগুলো নেওয়ার জন্য মালিকরা যদি রাজউকের কাছে আবেদন করেন, তাহলে রাজউক বিবেচনা করবে কীভাবে সেগুলো তাদের কাছে হস্তান্তর করা যায়। কিন্তু আজ আমরা সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভবনটির ফ্লোরগুলো সিলগালা করে দিয়েছি।

এর আগে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিট থেকে ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে সিলগালা করে দেওয়ার পর সাড়ে ৭টার দিকে প্রধান ফটকে সিলগালা করা হয়।

ভবন ভাঙতে ‘ডিনামাইট’

পনেরোতলা এই ভবন কীভাবে ভাঙা হবেÑ জানতে চাইলে রাজউক কর্মকর্তা অলিউর কিছু স্পষ্ট না করে বলেন, তারা আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করবেন। ‘আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে ভাঙা হবে। সেটা ডিনামাইট ব্যবহার বা অন্য কোনো পদ্ধতিতে হতে পারে।’

এক যুগ আগে তেজগাঁওয়ের সেই র‌্যাংগস টাওয়ার ভাঙার সময় দুর্ঘটনায় কয়েকজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। ওই ঘটনা স্মরণ করে হাতিরঝিল প্রকল্পের পরিচালক এ এস এম রায়হানুল ফেরদৌস সাংবাদিকদের বলেন, এ ভবন ভাঙতে চীনা প্রকৌশলীদের সহযোগিতা নেওয়া হবে। ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। তবে এখানে বেশ কিছু টেকনিক্যাল বিষয় আছে, তেমনিভাবে ম্যানেজমেন্টের বিষয়ও আছে।’

উল্লেখ্য, রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই গড়ে ওঠা বিজিএমইএর এই ভবন ভাঙা নিয়ে আলোচনা শুরু হয় প্রায় ৯ বছর আগে। ২০১০ সালে একটি জাতীয় দৈনিকে ভবনটি নির্মাণে রাজউকের অনুমোদন না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনটি হাইকোর্টের নজরে আনা হলে ভবনটি কেন ভাঙা হবে না, তা জানতে চেয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন আদালত। পরে ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ ভবনটি ভেঙে ফেলার রায় দেন। ওই রায়ে, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অধিগ্রহণ করা জমি ১৯৯৮ সালে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো যেভাবে বিজিএমইএকে দিয়েছে, তা বেআইনি বলে উল্লেখ করা হয় এবং রায় প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে ভবনটি ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জলাধার আইন ভেঙে নির্মিত বিজিএমইএ ভবনকে সৌন্দর্যম-িত হাতিরঝিল প্রকল্পে ‘একটি ক্যানসার’ বলে মন্তব্য করেন হাইকোর্ট।

এরপর হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ আপিল করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে বিজিএমইএর ওই আপিল খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। পরে ২০১৭ সালের ৫ মার্চ আপিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে করা বিজিএমইএর আবেদনটিও খারিজ হয়ে যায়। এর পরও ভবন না ভাঙতে আদালতের কাছে বারবার সময় চায় বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ। তবে সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২ এপ্রিল মুচলেকা দিয়ে ভবন ভাঙতে এক বছর সময় পায় বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ। গত ১২ এপ্রিল এ সময় পার হওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার বিজিএমইএ ভবনটি ভাঙার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।

 

"