টাইগারদের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা

চমক আবু জায়েদ

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ভারতের পর এবার ২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা করল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। দলে চমক বলতে আবু জায়েদ রাহি। ২০১৮ সালের জুলাইতে টেস্ট অভিষেক হলেও ডানহাতি এ পেসারের এখনো ওয়ানডের জার্সি গায়ে জড়ানো হয়নি। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কাল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করা প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর মতে, এটাই বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে ভালো ও অভিজ্ঞ দল।

আবু জায়েদের অন্তর্ভুক্তিতে মূল্য দিতে হয়েছে আরেক পেসার তাসকিন আহমেদকে। ইনজুরির কারণে নিউজিল্যান্ড সফর মিস করেন তিনি। শুধু বিশ্বকাপ দলই নয়, বিশ্বকাপের আগের আয়ারল্যান্ডে হতে যাওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজের ১৭ সদস্যের দলেও ঠাঁই পাননি তাসকিন।

অন্য বড় অন্তর্ভুক্তির মধ্যে আছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ২০১৮ সালের এশিয়া কাপের পর আর ওয়ানডে খেলেননি তিনি। এশিয়া কাপে বাজে পারফরম্যান্সের জন্য পরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ থেকে বাদ পড়েছিলেন মোসাদ্দেক। যদিও হেড কোচ স্টিভ রোডস আগে থেকেই বলে আসছিলেন, বিশ্বকাপের প্ল্যানের স্পষ্ট অংশ মোসাদ্দেক। দল ঘোষণার পর কোচের সেই অভিব্যক্তি সত্যি হয়েছে। শুধু একজন ব্যাটসম্যান নয়, অলরাউন্ডার হিসেবেই দলের শক্তি বাড়াতে পারেন মোসাদ্দেক। ঠিক এমনটাই বলেছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নুও। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ফর্মেই আছেন মোসাদ্দেক। ৪৭.৫৫ গড়ে এই সময়ে ১২ ম্যাচে একটি সেঞ্চুরিসহ তিনি রান করেছে ৪২৮।

দল ঘোষণা আগে অবশ্য বেশকিছু প্রশ্ন চারদিকে ঘোরাফেরা করেছে। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ডের কাছে ওয়ানডে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হারের কারণে। চক্রাকারে ঘোরা প্রশ্নের মধ্যে ছিল ইমরুল কায়েসকে স্কোয়াডে ফেরানো উচিত কি না? দলে ইনজুরির মিছিল থাকায় প্রশ্ন ছিল, কে ফিট? বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি স্পিন, তাতে সাকিব-মিরাজের ব্যাকআপ কে? ২০১৮ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের ক্যাপ পাওয়া খেলোয়াড়ের সংখ্যা দুই অঙ্কে পৌঁছেছে। ফলে প্রশ্ন ছিল, আনক্যাপ কেউ কি বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ডাক পাবেন? দল ঘোষণার মধ্যে দিয়ে প্রায় সব প্রশ্নেরই উত্তর মিলেছে। নিউজিল্যান্ড সিরিজে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় পর ইমরুল কায়েসকে বাদ দেয়ার বিষয়টি আরো গোলমেলে হয়ে উঠেছে।

কিউই সফরের আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ধুঁকলেও তার আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুর্দান্ত ব্যাট করেন কায়েস। তিন ম্যাচ সিরিজে ১১৬ গড়ে তিনি রান করেন ৩৪৯। ফলে ১৫ সদস্যের দলে এই বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যানের নাম দেখাটা কঠিন। তবে ইমরুলের জায়গায় যাদের নেয়া হয়েছে সেই সৌম্য সরকার ও লিটন দাস ফর্ম ইস্যুতে পিছিয়ে থাকলেও কার্যকর ম্যাচ উইনার বিবেচনায় ডাক পেয়েছেন।

বিশ্বকাপ সামনে রেখে বাংলাদেশ দলে একরকম ইনজুরির মিছিল। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন সবাই। পেস ব্যাটারির প্রধান অস্ত্র মুস্তাফিজুর রহমান আঙুলে ইনজুরি থেকে ফিরে এখনো পুরোপুরি ফিট নন। নতুন করে পেয়েছেন গোড়ালিতে চোট। মাত্র কয়েক দিন আগ থেকে অনুশীলন শুরু করেছেন মাহমুদুউল্লাহ। ইনজুরির সমস্যা আছে রুবেল হোসেনেরও। তবে বিসিবির প্রধান চিকিৎসক জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের আগে তারা সবাই সুস্থ হয়ে যাবেন।

ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশের অন্যতম সেরা অস্ত্র স্পিন। এটা কোনো গোপন বিষয়ও নয়। এখনো পর্যন্ত সত্য প্রমাণিত এই ডিপার্টমেন্টে সাম্প্রতিককালের সফর বোলার সাকিব ও মেহেদী হাসান মিরাজ। ২০১৮ থেকে এপর্যন্ত দুজনেই ২০টির বেশি উইকেট নিয়েছেন। দুজনেরই ইকোনোমি রেট আবার চার থেকে পাঁচের মধ্যে। এ দুজনের ব্যাকআপ হিসেবে কাউকে নেয়া হয়নি। তবে তাদের সাহায্য করতে পারবেন মাহমুদুউল্লাহ ও মোসাদ্দেক।

২০১৮ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ওয়ানডে দলে ১০ জনের অভিষেক হয়েছে। ফলে এর বাইরে আনক্যাপ কেউ বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ডাক পাবেন কি না তা নিয়ে ছিল আলোচনা। আনক্যাপ রাহিকে নিয়ে চমক দিয়েছেন নির্বাচকরাও।

আবু জায়েদকে দলে নেয়া হয়েছে তার সক্ষমতার জন্যেই। বল সুইং করানোর ক্ষমতাই তাকে পছন্দের ক্ষেত্রে সহজ করেছে। নিজের সক্ষমতার প্রমাণ সবশেষ নিউজিল্যান্ড সফরে দেখিয়েছেন জায়েদ। নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনের সঙ্গে ইংল্যান্ডের কন্ডিশনের মিল থাকায় জায়েদকে নিয়ে বাড়তি চিন্তা করতে হয়নি। চলতি ডিপিএলেও ভালো করছেন রাহি। ওয়ানডে টুর্নামেন্টটিতে এখন পর্যন্ত ১২ উইকেট নিয়েছেন তিনি।

আগামী ২ জুন দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে মাশরাফির বিশ্বকাপ অভিযান।

বিশ্বকাপের বাংলাদেশ দল : মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), লিটন দাস, মাহমুদুউল্লাহ, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ মিঠুন, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, মুশফিকুর রহিম, মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, সাব্বির রহমান, সৌম্য সরকার, তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান (সহ-অধিনায়ক), মোসাদ্দেক হোসেন, আবু জায়েদ চৌধুরী।

 

"