স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় বৃদ্ধি, গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণে অর্থায়ন, আর্থিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নসহ সব পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। গতকাল সোমবার সচিবালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সরকার বিভাগের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির সূচকগুলোর লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ নিশ্চিতকরণ-সংক্রান্ত সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব এস এম গোলাম ফারুকসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দফতরপ্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

তাজুল ইসলাম সভায় পরিকল্পিত, নিরাপদ ও টেকসই নগর অবকাঠামো উন্নয়ন, বর্জ্যব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, পথচারীদের যাতায়াতের অধিকার প্রতিষ্ঠা, প্রতিবন্ধী সংবেদনশীল ফুটপাত নির্মাণ, পাবলিক টয়লেটের সংখ্যা বৃদ্ধিসহ বিদ্যমান সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য দিকনির্দেশনা দেন। তিনি মহানগরী ও পৌর এলাকায় ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীকে আধুনিক জনবান্ধব নগর সেবা দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির অর্জনগুলোর জন্য সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং যে সূচকগুলোয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি, তা খতিয়ে দেখে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেন।

সভায় জানানো হয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ২০১৮ সালের ৪ জুলাই ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ ছাড়া সরকারি কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির আওতায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিবের সঙ্গে এ বিভাগের আওতাধীন ১৯টি দফতর ও সংস্থাগুলোর প্রধানরা গত বছরের ১২ জুন ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

এদিকে এর আগে গত রোববার কুমিল্লার মনোহরঞ্জে উপজেলা প্রশাসন ও লাকসাম উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘সম্প্রীতি তৈরি হলে

বর্ষবরণ সার্থক হবে। ক্ষমতাসীন ও ক্ষমতাহীনদের মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করতে হবে। সম্মিলিত অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিদারুণভাবে দেশকে ভালোবাসতেন বলে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সোনার বাংলা গড়ার জন্য। বর্তমানে দেশের অনেক উন্নতি হয়েছে, সব শ্রেণি-পেশার মানুষ আগের তুলনায় ভালো আছে। আমরা আনন্দ-উৎসাহের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ়প্রত্যয়ী।

মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম বানু শান্তির সভাপতিত্বে ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লাকসাম সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান, এলজিইডি কুমিল্লা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সোহরাব আলী, কুমিল্লা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী আবদুল বারেক, জেলা পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট তানজিনা আক্তার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা কুসুম, উপজেলা প্রকৌশলী আল-আমিন সরদার প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রীকে উপজেলা প্রশাসন, মনোহরগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা স্মারক গ্রহণ করেন। এ ছাড়া এলজিআরডিমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম পোমগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

"