ময়মনসিংহ সিটি নির্বাচন

প্রথম ভোটকে দৃষ্টান্ত করতে চায় ইসি

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

গাজী শাহনেওয়াজ

নবগঠিত ময়মনসিংহ সিটি নির্বাচনের ভোট আগামী ৫ মে। প্রথমবার হতে যাওয়া এ নির্বাচনকে ঘিরে তাই ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর উপজেলা নির্বাচনও শেষ পর্যায়ে। ওই দুটি নির্বাচন থেকে আসন্ন সিটি নির্বাচনে দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখাতে চায় সহিংসতামুক্ত নির্বাচন উপহার দিয়ে কমিশন। কিভাবে নির্বাচনের কর্ম-পরিকল্পনা নির্ধারণ করলে তাদের প্রত্যাশানুযায়ী ফল আসবে তা নিয়েও ভাবছে ইসি। আর নির্বাচনে কোন ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণ প্রতিফলিত না হয়, সেজন্য নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে এগোচ্ছে সাংবিধানিক সংস্থা ইসি। ভোটের আগে কমিশন থেকে কি নির্দেশনা দেওয়া হবে কিংবা তারা কি চাইছেন তা জানান দিতে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে সিটি এলাকা সফরে যাচ্ছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। তাকে স্বাগত জানাতে সিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এদিকে ব্যালটমুক্ত এ সিটি নির্বাচনের ১২৭ কেন্দ্রের সব কক্ষে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএমে) ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে ইভিএমের কারিগরি টিমগুলোকে প্রস্তুত করা হচ্ছে, যাতে নির্বিঘেœ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে সক্ষম হন সাধারণ ভোটার নাগরিকরা। নির্বাচনের সহিংসতা ও আগাম ইভিএমে ভোট মারা ঠেকাতে ভোটের দিন সকালে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হতে পারে নির্বাচনের সামগ্রী।

এছাড়া ময়মনসিংহ সিটির কয়টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ তা চিহ্নির কাজ করছে পুলিশ। সাধারন ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে র্ফোস নিয়োগে থাকবে আলাদা পরিকল্পনা।

সিটি নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বলছে, ময়মনসিংহ সিটি নির্বাচন হবে অতীতের যেকোনো নির্বাচন থেকে মডেল। কোনো ধরনের অনিয়ম এখানে বরদাশত করা হবে না। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী সব প্রার্থীই তাদের কাছে সমান। তারা আরো বলেন, সিটি নির্বাচনে ভোটার কিংবা প্রার্থীদের গতিবিধি নজরদারি করতে সিসি ক্যামেরা না রাখা হলেও নির্বাচন কমিশন থেকে গোপনে তাদের চলাফেরা মনিটরিং চলছে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, ময়মনসিংহ সিটি নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট হবে। রোজার আগেই এই নির্বাচন। তাই শান্তিপূর্ণ করতে যত ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার সবই করা হবে। আমরা সব কেন্দ্রে ইভিএমে রেখেছি যাতে কারচুপি কিংবা কেন্দ্র দখল করে কেউ ভোটাধিকার প্রয়োগ না করতে পারে। বর্তমান কমিশনের সময়ে যত নির্বাচন হয়েছে নবগঠিত সিটির নির্বাচন হবে সব থেকে ব্যতিক্রমী ও দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে আগামীর নির্বাচনগুলোর জন্য। কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না, যোগ করেন কমিশন সচিব।

আর সিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলিমুজ্জামান বলেন, সিটি এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ বিরাজ করছে। নির্বাচনে কোনো থ্রেট নেই। কমিশন থেকে আমাদের নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে, সহিংসামুক্ত নির্বাচন সম্পন্ন করতে। এসব সার্বিক দিক বিবেচনা করেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিনই নির্বাচনী পরিবেশ তদারকি করতে সিটির বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখছি, এখন পর্যন্ত অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি।

ইসি ও সিটির তথ্য মতে, নবগঠিত এই সিটিতে প্রথমবার ভোট আগামী মাসে। এখানে মেয়র পদসহ ৩৩ ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর ও ১১টি ওয়ার্ডে সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ভোট হবে।

এর জন্য নির্বাচনী এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। আর ব্যালটের বদলে ইভিএমে ভোট আয়োজন করায় বাড়তি অনুপ্রেরণা ও কৌতুহল কাজ করছে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে। নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপে তার সত্যতা পাওয়া গেছে।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, ২০১৮ সালের ২ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) বৈঠকে ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহ পৌরসভাকে দেশের ১২তম সিটি করপোরেশন করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে ১৪ অক্টোবর ভৌগোলিক সীমানা নির্ধারণ করে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের গেজেট প্রকাশ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

গেজেট অনুযায়ী, ময়মনসিংহ টাউন, গোহাইলকান্দি, গলগন্ডা, বলাশপুর, কাশর, ভাটিকাশর, সেহরা, কৃষ্ণপুর, কেওয়াখালী, চকছত্রপুর, রাক্তা, ঢোলাদিয়া, মাসকান্দা, বয়রা ভালুকা, ছত্রপুর, আকুয়া, বাড়েরা, কল্লা, চরসেহড়া, হাসিখালী, বাদেকল্পা, বাইসাখাই, খাগডহর, সুতিয়াখালী, রহমতপুর, কিসমত, বেলতলী, দাপুনিয়া, চরঈশ্বরদিয়া, গোবিন্দপুর, চররঘুরামপুর ও জেলখানার চরমৌজা নিয়ে সিটি করপোরেশন গঠন করা হয়। এ সিটির আয়তন ৯০ দশমিক ১৭৩ কিলোমিটার। মোট জনসংখ্যা ৮ লাখ ১৩ হাজার ১৪১ জন।

এর আগে ২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোনা জেলা নিয়ে বিভাগ গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন দেয় নিকার। পরে ওই বছরের ১৪ অক্টোবর ময়মনসিংহ বিভাগ গঠন করে গেজেট প্রকাশ করা হয়।

 

"