মোদির কপালে চিন্তার ভাঁজ

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

পার্থ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা থেকে

দেড় মাস ধরে চলা সাতের মধ্যে প্রথম দফার ভোটের পরই দুশ্চিন্তায় দেশের শাসক দল বিজেপি। পাঁচ বছর আগের মোদি হাওয়া যে আর নেই তা অমিত শাহের চেয়ে কেউ ভালো জানেন না। কিন্তু তিন রাজ্যের বিধানসভার ভোটে পরাজয়ের পরও বিজেপি নেতারা আশাবাদী ছিলেন, ভোটের বল গড়াতে শুরু করলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। কারণ কংগ্রেসের পক্ষে একার দ্বারা দিল্লিতে সরকার গঠন যে এবারও সম্ভব নয়, তা রাহুল গান্ধী নিজেও জানেন। সেক্ষেত্রে অখিলেশ, মায়াবতী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা চন্দ্রবাবু নাইড়–দের সঙ্গে সরকার গড়াও যে জেনেশুনে বিপদ ডেকে আনা, তাও জানেন কংগ্রেস নেতারাও। এই অবস্থায় বিজেপির স্বস্তিতে থাকার কথা থাকলেও, কপালে ভাঁজ চওড়া হচ্ছে নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহদের।

আর তা বুঝতে পেরে, ভোট প্রচারে যা তা বলছেন বিজেপিবিরোধী নেতানেত্রীরা। বাংলাদেশ লাগোয়া আসামের অন্যতম বিরোধী দল অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের প্রধান বদরুদ্দিন আজমল তোপ দেখিয়ে নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে বলেছেন, চলতি নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী মোদির মহাজোট ভয়ংকরভাবে হারবে এবং এই হারের পর মোদিকে চা-পাকোড়া বিক্রি করতে দেখা যেতে পারে। বদরুদ্দিন আজমল আসামের ধুবরির সংসদ সদস্য। তিনি একের পর এক বিজেপি বিরোধী মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, নরেন্দ্র মোদিবিরোধী যত সংগঠন রয়েছে, অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট তাদের সঙ্গে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদিকে তিনি নির্বাচনে হারাবেনই।

অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশ ও বাংলা মিলে দেশের আগামী প্রধানমন্ত্রী ঠিক করবে বলে দাবি করেছেন অখিলেশ যাদব। ওই মন্তব্য সমর্থন করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, সিপিএম শুধু কেরলের দল। কংগ্রেস সব জায়গায় নেই। কংগ্রেসকে ভোট দিয়ে লাভ নেই। তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গে শক্তিশালী, ওরা অন্য জায়গায় লড়াই করুক। এখানে তৃণমূল কংগ্রেস ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে লড়বে।

তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, তিনি চান, সব জায়গায় আঞ্চলিক দলগুলো ভালো করুক। গতকাল শনিবার শিলিগুড়িতে প্রচারে মমতার কথায়, সিপিএম কেরলের দল। ওরা এখানে কেন ভোট কাটছে। আমি তো কেরলে ওদের ডিসটার্ব করি না। কংগ্রেস সাইনবোর্ড। ওদের ভোট দেওয়া মানে বিজেপিকে দেওয়া। ভোট বাটোয়ারা করতে দেবেন না। এরপরই বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী। বলেছেন, প্রথম দফার ভোটে ৯১টি আসনের মধ্যে ১০টিও পাবে না বিজেপি। আগে তিনি বলেছিলেন ৫৪৩টি আসনের মধ্যে ১০০টির বেশি পাবে না বিজেপি।

ঠিক একইভাবে না হলেও দুশ্চিন্তা বাড়ছে বিজেপির। যে ২০টি রাজ্যে প্রথম দফায় ভোট হয়েছে, সব জায়গা থেকে রিপোর্ট সংগ্রহ করেছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা। বুঝতে পারছেন প্রাথমিক লক্ষণ আদৌ বিজেপির পক্ষে স্বস্তির নয়। কারণ হিসাবে বলা হচ্ছে, অধিকাংশ রাজ্যে গত লোকসভার থেকে কম ভোট পড়েছে। গত ভোটে মনমোহন সিংহ সরকারকে সরিয়ে নরেন্দ্র মোদিকে ক্ষমতায় আনার একটি তাগিদ ছিল জনতার মধ্যে। মোদি-ঝড় ছিল গোটা দেশে। কিন্তু এবারে তেমন কোনো কংগ্রেস বা বিরোধীদের বিরুদ্ধে ঝড় দেখা যাচ্ছে না। মোদিকে পরাস্ত করতে হবে, এমন ভাবনাও অবশ্য জনগণের মধ্যে নেই। কিন্তু দেশজুড়ে নরেন্দ্র মোদির পক্ষে জোরালো হাওয়া না থাকায় স্থানীয় বিষয়গুলো বড় হয়ে উঠেছে। প্রথম দফার ভোটের গতিপ্রকৃতি দেখে কেন্দ্রীয় নেতারা অনেকেই মনে করছেন, ভোটারদের বুথ পর্যন্ত নিয়ে যেতেও সর্বত্র সক্ষম হচ্ছে না বিজেপি ও সহযোগী সংগঠনের কর্মীরা। ঠিক এই পরিস্থিতিই তৈরি হয়েছিল কয়েক মাস আগে মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও ছত্তিসগড়ের বিধানসভা নির্বাচনে। আশঙ্কা, গোটা দেশে বিজেপি ১৫০ থেকে ১৬০টি আসনে নেমে আসবে। দলের সব থেকে বেশি লোকসান হবে উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও মহারাষ্ট্রে। খবর খুব ভালো ফল হলে, যা হতে পারে ২০০ থেকে ২১০। তাতেও সরকার গোড়ার জন্যে প্রয়োজনীয় ম্যাজিক সংখ্যা থেকে অনেক দূরে থেকে যাবে বিজেপি। আর তাতেই কপালে ভাঁজ চওড়া হচ্ছে নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহদের, বলছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

 

"