ঢাবিতে বৈশাখবরণ

কোন্দলে ভাঙল ছাত্রলীগের বৈশাখী আয়োজন

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

ঢাবি প্রতিনিধি

বৈশাখবরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ছাত্রলীগ যে কনসার্টের আয়োজন করেছে, সংগঠনের অন্তর্কোন্দলে একটি পক্ষ আগের রাতে সেখানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে। কোমলপানীয়ের ব্র্যান্ড মোজোর সহযোগিতায় চৈত্রসংক্রান্তি ও বৈশাখবরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে এ কনসার্টের আয়োজন করে ছাত্রলীগ। এতে জেমস, মিলা, ওয়ারফেজ, আর্টসেল ও ফিড ব্যাকসহ বেশ কয়েকটি ব্যান্ডের সংগীত পরিবেশনের কথা। এই আয়োজনের মঞ্চ তৈরিসহ সামগ্রিক প্রস্তুতি গুছিয়ে আনার মধ্যে গতকাল শনিবার ভোররাতে একদল গিয়ে মঞ্চ ভাঙচুর এবং বিভিন্ন উপকরণে আগুন ধরিয়ে দেয়।

রাত ৩টায় মল চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, কনসার্টের মূল মঞ্চ এলোমেলো, পাশে মেলার স্টলগুলো ভাঙচুর ও কিছু স্টলের তাঁবু উল্টে আছে, বেশ কয়েকটি ফ্রিজ ভেঙে পড়ে আছে। এছাড়া ব্যানার-ফেস্টুন ছেঁড়া অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়, এর কিছু আগুনে পোড়া। ঘটনাস্থলে উপস্থিত মোজোর মার্কেটিং বিভাগের অপারেশন হেড (ব্র্যান্ড) আজম বিন তারেক বলেন, রাত ১টার পর এই হামলা হয়।

তিনি বলেন, ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল এসে গন্ডগোল বাধাতে গেলে আমি তাদের ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করি। এর পাঁচ মিনিটের মধ্যে আরো ১০০ থেকে ১৫০ জন এসে আমাকেসহ আমার ওয়ার্কারদের বের করে দেয়। ১০ থেকে ১২ মিনিটের মধ্যে পুরো জায়গায় ভাঙচুর চালায় এবং অগ্নিসংযোগ করে চলে যায়।

ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের কিছুক্ষণ পর হাজার খানেক নেতাকর্মী নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী, ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসাইন।

আজম বলেন, তারা আমাকে বলেন, যা হওয়ার হয়েছে, এখন আপনি প্রোগ্রাম রান করার চেষ্টা করেন। এখন আমি লোকজন পাঠিয়ে দিয়েছি বাইরে, যা ক্ষতি হয়েছে তা নিয়ে আসবে আর বাকিগুলো রিকভার করার চেষ্টা করছি।

আজম মোজোর পক্ষ থেকে এই আয়োজনের দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো সঠিকভাবে নিরূপণ করা যায়নি। তবে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার মালামালের ক্ষতি হয়েছে।

এখানকার যত ব্রান্ডিং ছিল সব নষ্ট করে দিয়েছে, ৩৪টি ঘর ছিল সব ফেলে দিয়েছে। ছয়টি ঘর পুড়ে ফেলেছে। ২২টি ফ্রিজের মধ্যে ১৭টি ফ্রিজ ভাঙচুর করেছে, একটিতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার সৌভাগ্য যে দামি জিনিসগুলোÑ সাউন্ড সিস্টেম আমি মাত্র গাড়ি থেকে নামিয়েছিলাম। না হলে ক্ষতির পরিমাণ আরো বেশি হতো। এদিকে রাতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের কিছুক্ষণ পর এএফ রহমান হলে শোভন সমর্থক কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মীর ওপর হামলা হয়।

হলের শিক্ষার্থীরা জানান, হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান তুষারের রুমের দরজা ভেঙে ভাঙচুর করা হয়। ৩১৩ এবং ৩১৫ নম্বর কক্ষে তালা দেওয়া হয়। এই কক্ষগুলোতে তুষারের অনুসারীরা থাকতেন। দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ কর্মী সাগর রহমানকে মারধর করে তার মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

 

"