বর্ষবরণে ইলিশে উত্তাপ

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

হাসান ইমন

সারা বছর ইলিশ নিয়ে তেমন মাতামাতি না থাকলেও বৈশাখ এলে আলাদা কদর বাড়ে রুপালি ইলিশের। পহেলা বৈশাখ উদযাপনে খাবারের তালিকায় ইলিশকে প্রাধান্য দিতে বাঙালিরা সাধ্যমতো চেষ্টা করেন। পান্তা-ইলিশ গ্রাম-বাংলায় নববর্ষ উদযাপনের অংশ না হলেও কালের পরিক্রমায় নাগরিক মধ্যবিত্তদের কাছে পহেলা বৈশাখে ইলিশের চাহিদা অন্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। কাল রোববার উদযাপিত হবে বাঙালির ঐতিহ্যময় উৎসব পহেলা বৈশাখ। বরণ করা হবে বাংলা বছরের প্রথম ও হালখাতার মাস বৈশাখকে। নববর্ষকে কেন্দ্র করে বাজারে এক কেজির কিছু বেশি ওজনের একটি ইলিশের দাম চাওয়া হচ্ছে আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকা। যা সপ্তাহখানেক আগেও দেড় হাজার টাকার কাছাকাছি ছিল। নববর্ষের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তাপ বাড়ছে রুপালি ইলিশের।

গতকাল শুক্রবার সকালে কারওয়ানবাজারে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম আকারের ইলিশ বিক্রি করেছেন ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা পিস, যা গত বছর ছিল ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি করেছেন ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা পিস, যা গত বছর ছিল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। আর ৩৫০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি করেছেন ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা জোড়া, যা গত বছর ৮০০ টাকা হালি ছিল।

কথা হয় বাজারটির মাছ ব্যবসায়ী সুকুমারের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি কারওয়ানবাজারে এক যুগ ধরে মাছের ব্যবসা করছি। প্রতিবারই দেখেছি, পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই ইলিশের দাম বহুগুণে বেড়ে যায়। তবে গত দুই বছর বৈশাখের সময় ইলিশের দাম একটুও বাড়েনি বরং কমে গিয়েছিল। দুই বছর বিরতি দিয়ে ইলিশের দাম এবার কিছুটা বেড়েছে। তবে বৈশাখের আগে যেমন ইলিশ বিক্রি হতো এখন তেমনটা হচ্ছে না।

তিনি বলেন, বৈশাখ উপলক্ষে এক সময় আমরা দুই তিন মাস ধরে ফ্রিজে ইলিশ সংরক্ষণ করতাম। গত দুই বছর ফ্রিজে ইলিশ রেখে অনেকেই ধরা খেয়েছেন। এ কারণে এবার মজুদের পরিমাণ কম। আবার জেলেদের জালে এখন ইলিশ খুব একটা ধরা পড়েনি। ফলে বাজারে ইলিশের সরবরাহ তুলনামূলক কম, এ কারণে হয়তো এবার ইলিশের দাম কিছুটা বেশি।

বাজারটির আরেক ব্যবসায়ী তারা মিয়া বলেন, এখন বাজারে সব থেকে বড় আকারের যে ইলিশ মাছ পাওয়া যাচ্ছে তার ওজন ৯০০ গ্রাম থেকে এক কেজি। দুই মাস আগে এ আকারের ইলিশ বিক্রি করেছি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা পিস। আর এখন বিক্রি করছি ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকায়।’

কারওয়ানবাজারে বাজারে ইলিশ কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী অমিত বলেন, বাজারে ইলিশ কিনতে আসলাম। ৮০০ টাকা দিয়ে একটি কিনেছি। বিক্রেতা ওজন বলছেন ৭০০ গ্রাম। জানি না আসলে কতটুকু হবে। তবে দাম নিয়ে কোনো ক্ষোভ নেই। মাছটা যেন বার্মিজ না হয়ে দেশি ইলিশ হয়।

এছাড়া গত সপ্তাহের মতো সব থেকে কম দামে বিক্রি হয়েছে তেলাপিয়া মাছ, দাম ১৬০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। পাঙাশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি, রুই ৩৫০ থেকে ৬০০, পাবদা ৬০০ থেকে ৭০০, টেংরা ৭০০ থেকে ৮০০, শিং ৪০০ থেকে ৬০০, বোয়াল ৫০০ থেকে ৮০০, চিতল ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।

রাজধানীর বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৫৫০ টাকা। আর খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা। আর ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা কেজি। লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হয়েছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা। আর কক মুরগির দাম অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে কেজি ৩০০ টাকায় পৌঁছে গেছে। এখন বাজারভেদে কক মুরগি বিক্রি হয়েছে ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি।

চড়া দামে বিক্রি হওয়া সবজির দাম এ সপ্তাহে অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে নতুন আসা সবজি বরবটির বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি। পটোল ৫০ থেকে ৬০, করলা ৭০, ঢ্যাঁড়স বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। একই দামে বিক্রি হচ্ছে কচুরলতি। শিম বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি, ফুলকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা পিস, ধুন্দুল ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি, বেগুন ৩০ থেকে ৪০, মূলা বিক্রি হয়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি।

দাম অপরিবর্তিত থাকার তালিকায় রয়েছে দেশি পেঁয়াজ। বাজারভেদে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি। আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ আগের মতোই ১৮ থেকে ২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

 

"