ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লালগালিচা সংবর্ধনা

ঢাকার চাহিদা বিদ্যুৎ থিম্পু চায় ডাক্তার

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিংকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে। গতকাল শুক্রবার চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে লোটে শেরিং বাংলাদেশে এলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জে তাকে স্বাগত জানান। এ সময় ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বিমানবন্দর থেকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে পৌঁছালে সেখানে ডা. লোটে শেরিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসক নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ভুটান। একই সঙ্গে ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করতে চায় বাংলাদেশ। এছাড়া উভয় দেশের মধ্যে কানেক্টিভিটি বাড়াতে একমত পোষণ করেছে ঢাকা-থিম্পু।

ডা. লোটে শেরিং শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর সদস্যদের একটি সুসজ্জিত চৌকষ দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সংশ্লিষ্ট সচিব, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনৈতিক কোরের ডিন এবং পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, আমরা বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে কানেক্টিভিটি বাড়াতে চাই। ভুটান একটি ল্যান্ড লক দেশ। বাংলাদেশের সঙ্গে কানেক্টিভিটি বাড়ালে তাদেরই বেশি লাভ হবে। ভুটানে হাইড্রো বিদ্যুৎ রয়েছে। ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানির জন্য আমরা দেশটিকে প্রস্তাব দিয়েছি।

এছাড়া বাংলাদেশ থেকে তারা চিকিৎসক নিতে চান। আমরা বলেছি, বাংলাদেশের চিকিৎসকদের ভালো বেতন দিলে স্পেশাল প্যাকেজের আওতায় তারা ভুটানে যেতে পারেন। ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিবিআইএন (বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল) উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেছি। আগামীতে সবক্ষেত্রে উভয় দেশের মধ্যে আরো যোগাযোগপূর্ণ সম্পর্ক তৈরিতে নজর দেওয়া হবে।

এদিকে শুক্রবার দুপুরে ডা. লোটে শেরিং রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। এছাড়া তিনি সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শনিবার ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে (পিএমও) এক বৈঠকে মিলিত হবেন। বৈঠকের পরে দুটি দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, অভ্যন্তরীণ কার্গো চলাচল সংক্রান্ত সহযোগিতা, স্বাস্থ্য এবং কৃষি খাত সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।

১৪ এপ্রিল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সুরের ধারা আয়োজিত বর্ষবরণের সাংস্কৃতিক আয়োজনে যোগ দেবেন শেরিং। একই দিনে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী এবং ভুটানের প্রধানমন্ত্রী সেখানকার পুনর্মিলনীতে যোগ দেবেন। তিনি সেদিন বিকেলেই রাজধানীতে ফিরে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্শির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। সফর শেষে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ১৫ এপ্রিল সকালে ঢাকা ত্যাগ করবেন।

বঙ্গবন্ধু ও বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন : ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ঢাকা পৌঁছানোর পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে তিনি রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। এর আগে তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

 

"