লোকসভা নির্বাচন : প্রথম দফায় রক্তপাত

সাতবার স্নাইপারের টার্গেটে রাহুল

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

শুরু হলো ভারতের সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। শুরুর দিনই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ইভিএম ভাঙচুর, সংঘর্ষ, প্রার্থীর ওপর হামলা এবং সহিংসতায় প্রাণহানিসহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছে। ১৮ রাজ্যের ৯১টি কেন্দ্রে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ হয়েছে। ভোট হয় দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেও। এদিকে প্রথম দফাতেই ঝরল রক্ত। অন্ধ্রপ্রদেশে রাজনৈতিক সংঘর্ষে টিডিপির এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। আর সাতবার স্নাইপারের টার্গেট হয়েছিলেন স্বয়ং রাহুল গান্ধী। নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে আম জনতার মধ্যে মিশে যাওয়ার নজির অনেক বারই রাহুলের রয়েছে। কিন্তু বড়সড় ‘গলদ’ ধরা পড়ল সেই কংগ্রেস সভাপতির নিরাপত্তাতেই। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং অবশ্য রাহুলের নিরাপত্তা বিঘিœত হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ওই ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখেছেন এসপিজির কর্তারা। প্রাথমিক তদন্তের পর তিনি জানিয়েছেন, সবুজ রঙের ওই লেজার রশ্মি মোবাইল ফোনে ছবি তোলার সময় হতে পারে। ওই ফটোগ্রাফারও কংগ্রেসেরই। প্রাথমিক তদন্তে রাহুলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার মতো কোনো বিষয় নজরে আসেনি। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধী হত্যার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে কংগ্রেসের বক্তব্য, রাহুলের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। দাবি জানানো হয়েছে নিরাপত্তা বাড়ানোর।

অন্যদিকে ভারতে লোকসভা নির্বাচনে জম্মু ও কাশ্মীর মহাসড়ক বন্ধ ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই কাশ্মীরের ছয়টি লোকসভা আসনের দুটিতে ভোট হয়। পরিবহন বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার পরে বাহিনীর কনভয় চালানোর জন্য ৩১ মে পর্যন্ত রোববার ও বুধবার জম্মু-শ্রীনগর সড়কের বড় অংশ সাধারণ পরিবহনের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যপালের প্রশাসন। তবে সড়ক বন্ধের সময় অতি জরুরি যোগাযোগের জন্য হাতের তালুতে সিল মারার মাধ্যমে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে অনেককেই।

গতকাল অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুর জেলায় ভোটকেন্দ্রে সংঘর্ষে তেলুগু দেশম পার্টির (টিডিপি) এক সমর্থক নিহত হয়েছেন। ভোট শুরুর পর ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টির সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষে তিনি নিহত হন বলে খবরে বলা হয়েছে। নিহত টিডিপির সমর্থকের নাম এস ভাস্কর। সংঘর্ষে টিডিপির আরো এক কর্মী আহত হয়েছেন। এছাড়া মহারাষ্ট্রের গাদচিরলি আসনের একটি ভোটকেন্দ্রের কাছে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গাদচিরলি আসনের একটি ভোটকেন্দ্রের কাছাকাছি আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। এই অঞ্চলে মাওবাদীরা অত্যন্ত সক্রিয়। মাওবাদীরা ভোটারদের ভোটদান থেকে বিরত থাকার হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর আগে সকাল ৭টা থেকে ১৮টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ৯১টি আসনে প্রথম দফায় ভোট দিচ্ছে জনগণ। ভোটগ্রহণ চলে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। ২০১৪ সালে রাজ্য ভাগ হওয়ার পর এটাই সবচেয়ে বড় ভোট। অন্ধ্র প্রদেশের প্রায় ৪ কোটি ভোটার ১৭৫টি বিধানসভা এবং ২৫টি লোকসভা কেন্দ্রের জন্য ভোট দেন। ভোটের ময়দানে ছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু থেকে শুরু করে জগনমোহন রেড্ডিরা।

এবারের লোকসভা নির্বাচনে দেশের প্রায় ৯০ কোটি ভোটার ভোট দিচ্ছেন। গতবারের থেকে এবার ভোটারের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ। ১৩ কোটি নতুন ভোটার এবার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তবে ২০১৪ সালে নতুন ভোটারের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল।ভারতীয় ভোটারদের দুই-তৃতীয়াংশের বয়স ৩৫ বা তার থেকে কম। এবারের নির্বাচনে ডিজিটাল মিডিয়ার প্রভাব খুবই বেশি। ২০১৪ সালে দেশের ৫৪৩টি আসনের মধ্যে ২৮২টি তে জিতে সরকার করে বিজেপি। পরাজিত হয় কংগ্রেস। জনসংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় এবং আয়তনের দিক থেকে সপ্তম ভারতের ভোটে অংশ নিচ্ছে ২ হাজারটি দল আর প্রার্থীর সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার। এবার সারা দেশে প্রায় ১০ লাখেরও বেশি গণনা কেন্দ্রে ভোট নেওয়া হবে। শুধু ভারতে নয় গোটা বিশ্বের হিসেবে এটা একটি রেকর্ড মোট ১১ লাখ ইভিএমে নিজেদের মত জানাবেন ভোটাররা এবারের নির্বাচনে ভি ভি প্যাট ও থাকছে।

প্রসঙ্গত, প্রথম দফার পর আগামী ১৮ এপ্রিল দ্বিতীয় ধাপে ১৩ রাজ্যের ৯৭ আসনে; ২৩ এপ্রিল তৃতীয় ধাপে ১৪ রাজ্যের ১১৫ আসনে; ২৯ এপ্রিল চতুর্থ ধাপে ৯টি রাজ্যের ৭১ আসনে, ৬ মে পঞ্চম ধাপে সাত রাজ্যের ৫১ আসনে, ১২ মে ষষ্ঠ ধাপে সাত রাজ্যের ৫৯ আসনে এবং ১৯ মে সর্বশেষ ধাপে ভোট হবে ৮ রাজ্যের ৫৯টি আসনে। সাত ধাপে ভোটগ্রহণের পর ২৩ মে ভোট গণনা করে ফল প্রকাশ করা হবে।

 

"