এমএমসির সাবেক ছাত্র

লোটে আসছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রীরূপে

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

বিবিআইএন দেশগুলোর মধ্যে স্থলপথে যোগাযোগের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছে বাংলাদেশ-ভুটান। উভয় দেশের মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়তে নজর দেওয়া হচ্ছে ট্রানজিট ও কানেকটিভিটিতে। জলবিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে সহযোগিতার বিষয়েও বেশ সক্রিয় রয়েছে উভয় দেশ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে ৪ দিনের সফরে আজ সকালে ঢাকা আসছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং। তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (এমএমসি) থেকে এমবিবিএস করেছেন। সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়েই মূলত তার সফরের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। পরে তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

আগামীকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হবে। সেখানে নৌ কার্গো চলাচল, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাত, অভ্যন্তরীণ নৌপথসহ বেশ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই হবে। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া নৈশভোজে যোগ দেবেন তিনি। এদিন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হবেন লোটে শেরিং। এছাড়া বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গেও মতবিনিময় হবে তার।

বাংলাদেশ সফররত দেশটির প্রধানমন্ত্রী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এদিন সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে চ্যানেল আই আয়োজিত সুরের ধারার আয়োজনও উপভোগ করবেন। ময়মনসিংহ মেডিকেল এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করবেন। সেখানে তিনি আড্ডায় মিলিত হবেন শিক্ষার্থী জীবনের বন্ধুদের সঙ্গে। ২০০৩ সালে ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার ১৫ বছর পর ২০১৮ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশি অ্যালামনাই ভুটানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

পররাষ্ট্র সচিব এম শহিদুল হক বলেছেন, তার এ সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে। বাংলাদেশ শুধু ভুটানের চিকিৎসকই তৈরি করছে না, সেখানকার নেতাও তৈরি করছে। এজন্য বাংলাদেশ গর্ব করতে পারে। দেশটি বাংলাদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নিতে আগ্রহী। তাছাড়া শিক্ষা খাতে বিশেষ করে মেডিকেল কলেজে আরো শিক্ষার্থী পাঠাতে চায়। জলবায়ু এবং বাংলাদেশ-ভুটানের জনগণের মধ্যে যোগাযোগের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

এদিকে ভুটানের পররাষ্ট্র সচিব সোনেম সং গত এপ্রিলে বাংলাদেশ সফরের সময় বলেন, দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাংলাদেশ নিজের দেশের মতোই। বাংলাদেশে ১০ বছর শিক্ষাজীবন কাটিয়েছেন তিনি। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশে এসে বিদেশি কোটায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস ২৮তম ব্যাচে ভর্তি হন এবং ১৯৯৯ সালে এমবিবিএস পাস করে ঢাকায় সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এফসিপিএস কোর্স সমাপ্ত করেন। ২০১৩ সালে তিনি সিভিল সার্ভিস থেকে অব্যাহতি নিয়ে রাজনীতিতে যোগদান করেন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর ভুটানে অনুষ্ঠিত প্রথম দফা নির্বাচনে তার রাজনৈতিক ডিএনটি দল জয়লাভ করে।

 

"