বাংলাদেশের চোখ তিস্তা চুক্তিতে

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের সময়ে উভয় দেশের সরকারের চলতি মেয়াদেই তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সইয়ের প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যদিও এরপর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টানা তৃতীয় দফায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন শেখ হাসিনা।

তিস্তা নিয়ে মোদি সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সে সময় উভয় দেশের সরকারের চলতি মেয়াদেই অভিন্ন পানিবণ্টন চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও বিষয়টি সুরাহা হয়নি। এদিকে ভারতে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোট গ্রহণ শুরু হচ্ছে আজ সকালে। ২০টি রাজ্যের ৯১টি আসনে ভোট শুরু হবে। ১৯ মের মধ্যে সাত ধাপে লোকসভা নির্বাচন হবে। ভোট গণনা হবে আগামী ২৩ মে অর্থাৎ সেদিনই জানা যাবে বিজেপি আবার ক্ষমতায় আসবে কি না।

নির্বাচনে ভারতের যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, দেশটির স্বদিচ্ছা না থাকায় তিস্তা নিয়ে বাংলাদেশকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা এ সময়ে এসে ক্ষীণ বলে মনে করছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে তারা বলছেন, ঢাকার পক্ষ থেকে দিল্লিকে বিষয়টি বারবার মনে করিয়ে দেওয়া হলেও অগ্রগতি আসছে না।

২০১৭ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লি সফরে যান। তখন নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে শেখ হাসিনা ২০১১ সালের জানুয়ারিতে উভয় দেশের সম্মতি অনুযায়ী তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি করতে অনুরোধ জানান। জবাবে মোদি বলেন, এ ব্যাপারে দ্রুত চুক্তি সম্পাদনে তার সরকার ভারতে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর মমতা ব্যানার্জির উপস্থিতিতে মোদি ঘোষণা দেন বাংলাদেশ-ভারতের বর্তমান সরকারের মেয়াদেই তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি হবে।

হাসিনা-মোদি বৈঠকে সে সময় ফেনী, মনু, মুহুরী, খোয়াই, গোমতী, ধরলা ও দুধকুমার নদীর মতো অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন-সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশও দেন। এ দিকে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি না হলেও চট্টগ্রাম ও মোংলাবন্দর ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে দেশটি। অথচ এর আগে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ঢাকা সফরের সময় তিস্তার পানিবণ্টনে অপারগতা প্রকাশ করায় সে সময় ভারতকে বন্দর দুটি ব্যবহারের সম্মতিপত্র সই থেকে বিরত ছিল বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে থাকা তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়টি হাসিনা-মোদির আমলের মধ্যে সুরাহা না হওয়ায় দেশটির নির্বাচন-পরবর্তী উভয় দেশের সরকার বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে কতটা আন্তরিক হবে, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহল শঙ্কিত।

এ নিয়ে আলাপকালে সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেছেন, মোদি চুক্তির বিষয়টি বলেছেন ঠিকই কিন্তু কাজের কাজ তো কিছুই হয়নি। চুক্তি হওয়ার জন্য যে ঘটনাপ্রবাহ তৈরি হওয়ার দরকার তেমন কিছুই তো আমরা দেখিনি। মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি না হওয়ায় চট্টগ্রাম ও মোংলাবন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তিস্তা চুক্তি না হলেও এবার চট্টগ্রাম ও মোংলাবন্দর ব্যবহারের সে সুযোগ পেতে যাচ্ছে ভারত। আমরা যে উদারতা দেখাচ্ছি, ভারত তেমনিভাবে উদারতা দেখাচ্ছে না।

 

"