দেশকে এগিয়ে নিন গবেষণার মাধ্যমে

প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে গবেষণার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যেকোনো দেশের উন্নয়নের জন্য

গবেষণা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সরকার গবেষণার জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছে। গবেষণায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেই বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। তাই গবেষণার মাধমেই দেশকে এগিয়ে নিন। গতকাল বুধবার ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি, যারা এখানে বিজ্ঞানী ও গবেষক আছেন, আরো ভালো করে গবেষণা করুন, যাতে আরো কিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বেশি উৎকর্ষ লাভ করতে পারে। কোথায় কোথায় আমাদের আরো বেশি বিনিয়োগ করা দরকার, সেভাবেই আমাদের দেশের জলবায়ু, মাটি, পানি সবকিছু নিয়েই আপনাদের কাজ। কাজেই সেদিকে লক্ষ রেখে সবাই কাজ করবেন, সেটাই আমি চাই। কারণ বিশ্বের সঙ্গে আমরা তাল মিলিয়ে চলব, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

সরকার প্রধান বলেন, যারা জঙ্গিবাদের লালন পালনকারী, দেশে যারা অগ্নি সন্ত্রাস সৃষ্টি করে তারা দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে পারেন না। আল্লাহর রহমতে এখন আমরা উন্নয়নশীল দেশ। অর্থনৈতিকভাবেও আমরা যথেষ্ট স্বাবলম্বিতা অর্জন করেছি উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, কাজেই আমাদের দেশে আরো বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ এবং গবেষক তৈরি হোক সেটাই আমাদের লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা ‘বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ অন সাইন্স অ্যান্ড আইসিটি’ প্রকল্প বাস্তবায়িত করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের চলতে ও সব কাজ করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ অনেক মেধাবী। কাজেই তারা পিছিয়ে থাকতে পারে না এবং থাকবেও না। সেই সুযোগটা আমাদের করে দিতে হবে। এদেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করতে ১৯৭৩ সালে এক অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমান সরকার বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের পথ ধরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে একটি প্রযুক্তিনির্ভর, জ্ঞানভিত্তিক, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত দেশ গড়তে বদ্ধপরিকর।

বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি এই উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমাদের বিজ্ঞানী গবেষক যারা আছেন তাদের বিরাট অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে। আপনারা আরো মনোযোগের সঙ্গে নিজ নিজ কাজটি করবেন সেটাই আমার আশা।

তিনি বলেন, আজকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বিশ্বে যে স্বীকৃতি আমরা আদায় করেছি সেই পথ ধরেই ২০২০ সালে যেমন আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন করব ঠিক তেমনিভাবে বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে আমরা প্রতিষ্ঠা করব। এদেশে আর তখন হতদরিদ্র বলে কিছু থাকবে না।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ অথবা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের যেন কোনো ক্ষতি না হয়, বাংলাদেশের জনগণ যেন উন্নত জীবন পায় এবং সুন্দরভাবে বেঁচে থাকতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। শতবর্ষ পর আমাদের যে প্রজন্মের পর প্রজন্ম আসবে তাদের জীবনযাত্রার মান কেমন হবে সেটা মাথায় রেখেই আমাদের এই পরিকল্পনা।

তিনি বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমি মনে করি আমাদের বিজ্ঞানী, গবেষকÑ তাদের একটা বিরাট দায়িত্ব জাতির কাছে আছে। কাজেই সেই দায়িত্বটা আপনারা পালন করবেন। সেটাই আমি আশাকরি।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আ ফ ম রুহুল হক।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের মাঝে বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ এবং গবেষকদের মাঝে গবেষণা অনুদানের চেক বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে ১৪ জনকে বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ, ৩৭ জনকে গবেষণা অনুদান ও ৩০ জনকে এনএসটি ফেলোশিপ প্রদান করা হয়।

 

"