দুর্ঘটনা-বিমায় অনাগ্রহ মালিক-চালকদের

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় যে ক্ষয়ক্ষতি হয়, তার পরিমাণ টাকার অঙ্কে ৩৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। উন্নত দেশে দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতি এড়াতে বিমার ব্যবস্থা থাকলেও বাংলাদেশে বিমায় আগ্রহ নেই পরিবহন মালিক-চালক কারোরই। কারণ হিসেবে বিমা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের কথা বলছেন তারা। তবে বিমা-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে বিমা করলে কমবে দুর্ঘটনা, সুরক্ষা পাবে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক কিংবা মালিকরাও।

সড়কে দুর্ঘটনা আর প্রাণহানি নিত্যদিনের চিত্র। যাত্রীকল্যাণ সমিতির হিসাবে ২০১৮ সালে সড়কে দুর্ঘটনা ঘটেছে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার। এতে খোদ ১২ শতাধিক চালক ও পরিবহন শ্রমিকসহ মারা গেছেন বিভিন্ন পেশার প্রায় সাড়ে সাত হাজার মানুষ। অথচ এসবের নেই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা। বিমা করা না থাকায় দুর্ঘটনার শিকার পথচারী বা যাত্রীরাও পান না কোনো আর্থিক সহায়তা। পরিবহন শ্রমিকরা বলছেন, কোনো ধরনের আইনি দায় বা থার্ড পার্টি ইনস্যুরেন্স করে পুলিশি ঝামেলা এড়াতেই বেশি আগ্রহ মালিকদের।

চালকরা বলেন, কোর্টে গেলে ৬০০ টাকা দিলেই ইনস্যুরেন্স পাওয়া যায়। তবে সেখান থেকে চালক-শ্রমিকরা কোনোভাবেই লাভবান হন না বলে জানান তারা। রাস্তায় পুলিশ আটকালে দেখানোর জন্যই শুধু, এর আর কোনো কাজ নেই। কোনো ক্ষতিপূরণও পাব না। পরিবহন মালিকদের দাবি, বিমা করলে বা নানা টালবাহানায় দাবি পরিশোধ করে না কোম্পানিগুলো। তবে ভিন্ন কথা বলছেন বিমা-সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খোন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, কোনো যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা কোনো গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ইনস্যুরেন্স কোম্পানি থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়া খুব দুষ্কর ব্যাপার। সাধারণ বিমা করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ শাহরিয়ার আহসান বলেন, রাস্তায় চলার জন্য যে ইনস্যুরেন্স, তারা সেটা করছেন। ইনস্যুরেন্স দিতে গেলে আমরা প্রথমে দেখব গাড়ির ফিটনেস আছে কিনা, ড্রাইভিং লাইসেন্স ভুয়া কি না, ওভারলোড করার কারণে কোনো সমস্যা হলে সেগুলো তো আমাদের কাভারেজের ভেতর আসবে না।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খোন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, এগুলো অনেক ক্ষেত্রে থাকে না, পাওয়া যায় না। কিন্তু যাদের এগুলো আছে, তারাও পান না। প্রগতি লাইফ ইনস্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জালালুল আজীম বলেন, তারা মনে করছে যে ইনস্যুরেন্স করলে যদি আমাকে বেনিফিট পেতে হয়, তাহলে তো আমাকে এ সমস্যাগুলো সমাধান করতে হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খোন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, ইনস্যুরেন্সটা বিআরটিএ সঙ্গে ট্যাগ করে দেওয়া উচিত।

টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হলে ২০২০ সালের মধ্যে দুর্ঘটনা নামিয়ে আনতে হবে অর্ধেকে। বিশেষজ্ঞ ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করা ব্যক্তিরা বলছেন, গাড়ি, চালক, যাত্রী এবং দুর্ঘটনার শিকার কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বিমার আওতায় এলে ক্ষতি কমিয়ে আনা যাবে অনায়াসে। আর কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার ক্ষতিপূরণও পাওয়া যাবে। তাই পরিবহনে বিমা বাধ্যতামূলক করারও দাবি তাদের।

 

"