লোকসভা নির্বাচন

মোদি না রাহুল!

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

গেল এক বছরে রাজনীতিবিদ হিসেবে কতটা পরিণত হয়েছেন রাহুল গান্ধী? তার রাফাল ইস্যু কীভাবে দেখছেন ভোটাররা? বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সক্রিয় রাজনীতিতে আসাতেও বা কতটা লাভবান কংগ্রেস? তবে রাজনীতিতে ভোটারের আস্থা নেতানেত্রীদের অন্যতম পুঁজি। ভোটারদের আস্থায় কে এগিয়েÑ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি না কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী? এমন সব জল্পনা-কল্পনা সঙ্গী করেই প্রবল উত্তেজনার মধ্য দিয়ে ভারতের ১৭তম লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। লোকসভার ৫৪৩টি আসনের মধ্যে প্রথম দফায় ২০ রাজ্যের ৯১ আসনের জন্য ভোট নেওয়া হবে। এসব আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ১ হাজার ২৮৫ জন প্রার্থী। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার আসনও রয়েছে। একই সঙ্গে অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা, সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশে বিধানসভারও ভোট হবে। ওড়িশা বিধানসভার ক্ষেত্রে ভোট নেওয়া হবে চার দফায়। গত ১০ মার্চ দেশটির নির্বাচন কমিশন লোকসভা নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করেন। মোট সাত দফায় এই নির্বাচন হচ্ছে।

আলিপুরদুয়ারের এক ভোটার গণমাধ্যমকে বলেছেন, আমরা নির্বিঘেœ এবং সুষ্ঠুভাবে যেন ভোট হয়Ñ সেই প্রত্যাশাই করছি। ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন সবাই। গ্রীষ্ম হোক বা শীত, জাতীয় নির্বাচন কমিশন ভোট ঘোষণা করলেই আমরা প্রবল উৎসাহে দাঁড়িয়ে পড়ি ভোটের লাইনেÑ আমাদের এই উৎসাহে যে ভাটা না পড়েÑ সেদিকে নজর রাখাটাই জরুরি। ভারতে ভোট মানেই যে বিশাল একটা ব্যাপার, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। খবরের কাগজে চোখ রাখলে এর কিছুটা আন্দাজও পাওয়া যাচ্ছে। রোজই কিছু-না কিছু ঘটছে। নিশ্চিত এর ভালো-মন্দ প্রভাব ভারতের লোকসভা ভোটেও পড়বে।

ভারতের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এডিআর এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রথম দফার নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী প্রার্থী হলেন কংগ্রেসের কোন্ডা বিশ্বেশ্বর রেড্ডি। তিনি লড়ছেন তেলেঙ্গানা রাজ্যের চেভেল্লা আসনে। তার সম্পদের পরিমাণ ৮৯৫ কোটি। এই দফার সবচেয়ে গরিব প্রার্থী হলেন ওই আসনেরই প্রেম জনতা দলের নাল্লা প্রেম কুমার। তার সম্পদের পরিমাণ মাত্র ৫০০ রুপি।

সংবাদ মাধ্যম বলছে, জানুয়ারির সমীক্ষা অনুযায়ী নরেন্দ্র মোদির ওপর ট্রাস্ট রেখেছিলেন ৬৭ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ। আর রাহুল গান্ধীর ওপর ট্রাস্ট ছিল ৪৯ শতাংশ মানুষের। এপ্রিলের সমীক্ষা অনুযায়ী, মোদির ওপর ট্রাস্ট বেড়ে হয়েছে ৭১ দশমিক ১ শতাংশ। রাহুলের ওপর ট্রাস্ট কমে হয়েছে ৪৩ দশমিক ২ শতাংশ।

জাতীয় স্তরে নরেন্দ্র মোদির অন্যতম প্রতিপক্ষ হিসেবে উঠে এসেছেন রাহুল গান্ধী। ভোটের মুখে রাজনীতির ময়দানে নিয়ে এসেছেন বোন প্রিয়াঙ্কাকেও। ভোটের মুখে ভাইবোন সম্পর্কে কী ভাবছেন মানুষ?

প্রশ্ন ছিল দেশের সমস্যা সমাধানে, গত এক বছরে রাহুল গান্ধি কি যথেষ্ট বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন। সমীক্ষায় ৪১ শতাংশ রাহুলের পক্ষে মত দিয়েছেন। ৩৪ শতাংশ বলেছেন বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে ব্যর্থ কংগ্রেস সভাপতি। ৩৭ দশমিক বলছেন প্রিয়াঙ্কা সক্রিয় রাজনীতিতে আসায় লাভ হবে কংগ্রেসের। ৩২ শতাংশের মতে, প্রিয়াঙ্কা ফ্যাক্টরের ফায়দা তুলতে পারবে না কংগ্রেস শিবির।

রাফাল যুদ্ধবিমান চুক্তিতে দুর্নীতির অভিযোগ প্রথম সরব হয়েছিলেন রাহুলই। ভোটের ময়দানে সেই রাফালই অন্যতম ইস্যু। গেরুয়া শিবিরের গলার কাঁটাও। সেই রাফাল ইস্যুকে কীভাবে দেখছেন ভোটাররা? ৩০ শতাংশ মানুষ বলছেন রাফাল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কংগ্রেসের অভিযোগ সঠিক। বিপরীত মত ৩৯ শতাংশের। বাকিটা বলবে ভোটের ফল।

নির্বাচন শেষ হবে ১৯ মে। আর ফল প্রকাশ হবে ২৩ মে। গত একমাস ধরে শাসক ও বিরোধীদের প্রবল তরজা চলছে। এবারের নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ ভারতীয় জনতা পার্টি এবং কংগ্রেস। এই দুই পক্ষই শরিকদের নিয়ে জোট তৈরি করে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছে। কংগ্রেসের নেতৃত্বে সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চা (ইউপিএ) বনাম বিজেপির নেতৃত্বে জাতীয় গণতান্ত্রিক মোর্চার (এনডিএ) প্রচারে আক্রমণ ও প্রতি আক্রমণে কোনো পক্ষই পিছিয়ে থাকতে রাজি হয়নি।

অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগে সরগরম হয়ে উঠেছিল প্রথম দফার প্রচার পর্ব। তবে এবারের লোকসভা নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টি, লোকদল, তৃণমূল কংগ্রেস, তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতি, তেলেগু দেশম, আম আদমি পার্টির মতো আঞ্চলিক দলগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে। আঞ্চলিক দলগুলো প্রথম থেকে চেষ্টা চালিয়েছে বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে সরানোর লক্ষ্যে একজোট হওয়ার। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায় দেশের ২১টি বিরোধী দলকে একসঙ্গে ইউনাইটেড ইন্ডিয়ার ছাতার তলায় সমবেত করেছিলেন। সেই জোটের প্রতি কংগ্রেসও সমর্থন জানিয়েছিল। কিন্তু বিরোধীদের সেই জোট ভোটের ময়দানে অনেকটাই ক্ষতবিক্ষত। আর তাই উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজ পার্টি মহাজোট তৈরি করে লড়াইয়ে নেমেছে। তবে কংগ্রেসকে তারা সঙ্গী করতে রাজি হয়নি। ফলে উত্তর প্রদেশের মতো বৃহৎ রাজ্যে কংগ্রেস একাই লড়াই করছে ভোট ময়দানে। বিরোধী শিবিরের এই ছত্রভঙ্গ অবস্থা আরো অনেক রাজ্যেও।

 

"