ঢাকা-ওয়াশিংটন বৈঠকজুড়ে রোহিঙ্গা ইস্যু

খুনি রাশেদকে ফেরত চাইলেন মোমেন

প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর আগেই যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত চেয়েছে বাংলাদেশ। এ ব্যাপারে ওয়াশিংটনের সহযোগিতা চেয়েছে ঢাকা। এছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যু, বাণিজ্য সুবিধাসহ এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক অবস্থা নিয়েও আলোচনা করেছেন দুই দেশের দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। গত সোমবার ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বৈঠক করেন। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় প্রাপ্ত এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়।

ওইদিন সকাল ৯টায় রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরে বৈঠক করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট নানা বিষয় উঠে আসে। তবে ৫০ মিনিট স্থায়ী আলোচনার বড় অংশ জুড়ে ছিল রোহিঙ্গা ইস্যু।

এ প্রসঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র মর্গান ওরটাগুস জানান, প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু আশ্রয় দিয়ে যে উদারতার পরিচয় বাংলাদেশ দেখিয়েছে, মাইক পম্পেও তার প্রশংসা করেছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র মর্গান ওরটাগুস বলেন, সমস্যার মূল কারণ নির্ধারণের পাশাপাশি রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কিভাবে একযোগে কাজ করা যায়, সে বিষয়ে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলোচনা করেছেন।

মাইক পম্পেও এ কথা জোর দিয়ে বলেছেন যে, রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব মিয়ানমারের। উদ্বাস্তুরা যাতে স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে পারে, তার জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি সে দেশকেই করতে হবে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুুল মোমেন বলেন, রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের জন্য সম্ভাব্য সব সাহায্যের ব্যাপারে মাইক পম্পেও তাকে আশ্বাস দিয়েছেন। রোহিঙ্গাদের প্রতি আন্তর্জাতিক সাহায্যের পরিমাণ এরই মধ্যে কমে এসেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জাতিসংঘের মাধ্যমে যে আর্থিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তার মাত্র ১৯ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। আন্তর্জাতিক ত্রাণদাতাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এখন এক নম্বরে। রোহিঙ্গাদের প্রতি সাহায্য অব্যাহত থাকবে বলে বাংলাদেশকে আশ্বাস দিয়েছেন মাইক পম্পেও।

আবদুল মোমেন জানান, মাইক পম্পেও বাংলাদেশে অবস্থানরত উদ্বাস্তু রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য শিক্ষার তাগিদ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে প্রধান সংকট রোহিঙ্গাদের নিজস্ব ভাষায় শিক্ষাদানে সক্ষম শিক্ষকের।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আলোচনার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল রোহিঙ্গা ইস্যু। এই ইস্যুতে সব সময় বাংলাদেশের পাশে থাকার কথা জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও। আবদুল মোমেন বলেন, মিয়ানমার শিকার করেছিল তারা রোহিঙ্গাদের নিয়ে যাবে। কিন্তু এখনো তারা নিয়ে যায়নি। সে জন্য আমরা সহায়তা চেয়েছি।

বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন জানান, যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনি মৃত্যুদ-প্রাপ্ত রাশেদ চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের অব্যাহত উন্নয়নের কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই অগ্রযাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রকে অংশীদার হিসেবে চায় বাংলাদেশ।

আবদুল আরো মোমেন বলেন, আমাদের বিরাট সমুদ্র এলাকা আছে সেইসবে যদি আপনারা ব্যবসা বাণিজ্য করেন তাহলে আপনাদের জন্যও ভালো হবে। এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। এজন্য সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অগ্রগতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মাইক পম্পেও।

এদিকে, বৈঠক শেষে বাংলাদেশ দূতাবাসে আসেন এ কে আবদুল মোমেন। সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পরে দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

 

"