ঋণ বিতরণ কমলেও তারল্য সংকটে ব্যাংক

প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বেসরকারি খাতে ঋণ দেওয়ার হার (ঋণ প্রবৃদ্ধি) আরো কমে গেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ঋণ প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১২ দশমিক ৫৪ শতাংশ। গত এক মাসের ব্যবধানে ব্যাংক খাতের আরো তারল্য কমেছে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা। এতে বাড়ছে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে সুদের হার। গত কয়েক বছরের মধ্যে ঋণ প্রবৃদ্ধি এত কমতে দেখা যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আসছে পবিত্র রমজান উপলক্ষে পণ্য আমদানিতে নিয়মিত ডলার কিনতে হচ্ছে ব্যাংকগুলোকে। এ কারণে ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা নগদ টাকা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। তা ছাড়া ব্যাংকগুলো আগের মতো আমানতও সংগ্রহ করতে পারছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্য একটি প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত বছরের জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে মোট তরল সম্পদের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৬৪ হাজার ২৬৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। ছয় মাস পর গত ডিসেম্বরে তা কমে দাঁড়ায় ২ লাখ ৫৫ হাজার ১৬৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা। উল্লিখিত সময়ে ব্যাংকগুলোর কাছে বিনিয়োগযোগ্য অতিরিক্ত নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ১৬ হাজার ২২৭ কোটি টাকা। গত জানুয়ারিতে অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৪১৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। উল্লিখিত সময়ে ব্যাংকগুলোর কাছে বিনিয়োগযোগ্য অতিরিক্ত নগদ অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ হাজার ৬২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। হিসাব করে দেখা গেছে, এক মাসে ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত বিনিয়োগযোগ্য নগদ অর্থ কমেছে ৬ হাজার ১৬৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা। অন্যদিকে সাত মাসের (জুন-জানুয়ারি) ব্যবধানে ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ কমেছে ১৫ হাজার ৮৪৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকার সংকট বেড়ে যাওয়ায় গত ৩ এপ্রিলে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার থেকে ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ সুদে টাকা ধার নেওয়ার হয়েছে। গত পাঁচ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এর আগে সর্বশেষ ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ সুদহার উঠেছিল ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ। তারও আগে ২০১৩ সালের শুরুতে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ঋণপ্রবাহে ভাটা পড়ে, যা পরের বছরেও প্রলম্বিত হওয়ায় ঋণপ্রবাহে মন্দাভাব দেখা দেয়। ২০১৪ সালে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে ১৩ শতাংশে নেমে আসে। আবার ২০১৫ সাল থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর হয়। তখন ঋণের প্রবৃদ্ধিও বাড়তে থাকে। ব্যাংকগুলো আগ্রাসীভাবে ঋণ বিতরণ করতে থাকে। ২০১৮ সালের শুরুতে এই প্রবৃদ্ধি ১৯ শতাংশে পৌঁছায়। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৫৪ শতাংশ। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ১৬ দশমিক ৫০ শতাংশ নির্ধারণ করলেও এটি ১৩ শতাংশেরও নিচে নেমে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বেসরকারি খাতে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৭০ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময় শেষে ঋণ ছিল ৮ লাখ ৬২ হাজার ২২৫ কোটি টাকা। এ হিসাবে গত এক বছরে ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ১২৪ কোটি টাকা। গত বছর দেশের এসএমই খাতে ব্যাংকঋণ কমেছে ৭ শতাংশ। ২০১৭ সালে দেশের এসএমই খাতে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনবিএফআই) বিতরণ করা ঋণের স্থিতি ছিল ২ লাখ ২ হাজার ৪১০ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে তা নেমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ২৪৫ কোটি টাকায়। দেখা গেছে, এক বছরের ব্যবধানে এসএমই খাতে ঋণ কমেছে প্রায় ১৪ হাজার ১৬৫ কোটি টাকা।

 

"