শপিংমলে বাড়ছে ভিড় ও কেনাকাটা

পাঞ্জাবি-শাড়ি পছন্দ ক্রেতাদের

প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

হাসান ইমন

বাংলা নতুন বছর ১৪২৬, শুরু হতে আর মাত্র চার দিন বাকি। বর্ষবরণের জন্য চলছে নানা প্রস্তুতি। রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী চলছে উৎসবের নানা আয়োজন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালির প্রাণের উৎসবের ঢেউ লেগেছে সবখানে। মঙ্গল শোভযাত্রা ও গ্রামীণ মেলা বাংলা নববর্ষের উৎসবের সঙ্গে এরই মধ্যে যুক্ত হয়ে গেছে। সব বয়সিরা কিনতে শুরু করেছেন নতুন পোশাক আশাক। জমে উঠেছে বেচাকেনা। রাজধানীর মার্কেটগুলোতে বাড়ছে ভিড়।

রাজধানীর শপিংমলগুলো থেকে শুরু করে ছোট-বড় বিপণিবিতানগুলোতে কেনাকাটা বেড়েছে। পরিবার-পরিজনসহ নানা রঙের নতুন পোশাকে নিজেকে সাজাতে ভিড় বাড়ছে ক্রেতার। লাল, সাদা, নীলসহ বাহারি রঙে নিজেকে সাজাতে খুঁজে ফিরছেন পছন্দের পোশাকটি। জমকালো পাঞ্জাবি, দৃষ্টিনন্দন শাড়ি আর জামায় এবারেও তারা ফুটিয়ে তুলেছেন বাঙালিয়ানাকেই। ছোটদের জন্য রয়েছে সাদা-লালের বাহারি জামা, ফতুয়া, স্কার্ট, থ্রিপিসসহ বিভিন্ন ডিজাইনের দেশীয় পোশাক। নিজেদের পছন্দের শাড়ি, জামার সঙ্গে ম্যাচিং চুড়ি, মালা, দুল কিনতে অনেকে আবার ভিড় করছেন গয়নার দোকানে।

নানা রঙের নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাক এনেছে রাজধানীর নিউমার্কেট ও আজিজ সুপার মার্কেট। সেখানে ঘুরে দেখা গেছে, পরিবার-পরিজনসহ কেনাকাটায় ভিড় করছেন নগরবাসী। অনেকে ঘুরে ফিরে দেখছেন, আবার অনেকে কিনে ফিরছেন পছন্দের পোশাক।

ক্রেতা তৌফিক এ ইলাহী বলেন, বৈশাখ উপলক্ষে কেনাকাটা করতে এসেছি। নিজের জন্য শার্ট ও স্ত্রীর জন্য শাড়ি কিনেছি। আজিজ সুপার মার্কেটে পাঞ্জাবি দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী সামিউল হক। তিনি বলেন, বৈশাখের উৎসবের জন্য পাঞ্জাবি কিনেছি। নন্দন কুটিরের ম্যানেজার জানান, দেশীয় ডিজাইনের কালেকশন তোলা হয়েছে। এ পর্যন্ত ক্রেতা সমাগম ভালো। আশা করছি, সামনে আরো ক্রেতা আসবে। আমাদের দোকানে ৪০টির ওপরে বৈশাখের নতুন পোশাক এসেছে। যেগুলো ৪ হাজার থেকে শুরু করে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আজিজ সুপার মার্কেটের ব্যতিক্রম ফ্যাশন হাউসের উদ্যোক্তা মো. ওমর ফারুক বলেন, এই মার্কেটকে বৈশাখের আঙিনা বলা হয়। মার্কেটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কালেকশন আমাদের। আমরা রিজেনেবল প্রাইজের মধ্যে নতুন ও মানসম্মত পোশাক নিশ্চিত করে থাকি। সবাই যেন বৈশাখের আনন্দ উপভোগ করতে পারে। তবে গতবারের থেকে আমাদের বিক্রি বেশ ভালো। সামনের দিনগুলোতে তা আরো বেশি হবে বলে প্রত্যাশা করছি।

নিউ সুপার মার্কেটের মাশাআল্লাহ এন্টারপ্রাইজের উদ্যোক্তা মো. শাহজাহান বলেন, বৈশাখের ব্যাপক কালেকশন আছে। থ্রিপিস, শাড়ি; বলতে গেলে সবই নতুন কালেকশন। এছাড়া নিজেদের তৈরি ডিজাইনের কাপড় আছে। বৈশাখে লাল-সাদা কাপড়ে আগ্রহ ক্রেতাদের। এসব কাপড় ৪০০ থেকে শুরু করে এক হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া নিউমার্কেট, চাঁদনী চক, গাউছিয়া এবং হকার্স মার্কেটে রয়েছে সব বয়সি মানুষের জন্য স্বল্প বাজেটে বাহারি রঙের সব পোশাক। আর দামের ক্ষেত্রেও রয়েছে ভিন্নতা। নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে সব শ্রেণির মানুষের বাজেটের মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে বাহারি রঙের সব পোশাক। একাধিক ফ্যাশন হাউসের উদ্যোক্তারা জানান, বৈশাখে সবসময় বাড়তি আয়োজন থাকে। এবারে ফ্যাশন হাউসগুলোতে লাল সাদার রঙের পোশাক বেশি। আর একে বৈশাখি রঙ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

অন্যদিকে ফুটপাতজুড়ে বৈশাখি আয়োজনে সাদা-লালে ছেয়ে গেছে। রকমারি পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। বৈশাখে নিজের পছন্দের শাড়ি কিনতে এসে মাইশা ফারজানা রাফা জানান, পহেলা বৈশাখে সাদা-লালের ছোঁয়াটা বেশ প্রাধান্য পায়। তবুও নিজের জন্য একটু ভিন্নধর্মী শাড়ি বেছে নিতে চান তিনি। আরেক তরুণী মোনালিসা বলেন, বৈশাখে নতুন কিছু কেনা যেন বাধ্যবাধকতাই। অবশ্য এই দিনে নিজেকে শাড়িতেই দেখতে চান মোনা।

এদিকে পোশাক বিক্রেতাদের সঙ্গে জমজমাট বেচাবিক্রি করছেন কুটির ও মৃৎশিল্পের বিক্রেতারা। নগরের বিভিন্ন স্থানে যে বৈশাখি মেলার আয়োজন করা হয়েছে, সেখানে মাটি, বাঁশ, বেতের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। বৈশাখে খাবারের আয়োজনে ক্রেতা শুধু ইলিশ নিয়েই যে ব্যস্ত তা নয়, মুড়ি, মুড়কি, নাড়–সহ মজাদার বিভিন্ন বাঙালি মিষ্টান্নের বিক্রেতারাও এখন জমিয়ে বেচাবিক্রি করছেন। বিক্রেতারা বলছেন, মার্চ মাসের বেতনের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বৈশাখি ভাতা পাওয়ায় বৈশাখ আয়োজন ঘিরে বিগত বছরগুলোর মতো এবারও বেচাবিক্রি ভালো হবে বলে তারা আশাবাদী।

 

"