একনেকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

সরকারি কর্মকর্তাদের গ্রামেই থাকতে হবে

প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে যাদের পদায়ন গ্রামাঞ্চলে, তাদের গ্রামেই থাকতে হবে বলে নির্দেশনা দিয়েছেন। তবে এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গ্রামে ধরে রাখার উপযোগী পরিবেশ তৈরির জন্যও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার শেরেবাংলা নগরের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এ নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। এদিকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) এ তথ্য প্রকাশ করে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানিয়েছেন, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ৯ মাসে (জুলাই থেকে মার্চ) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার ৪৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের এ হার ছিল ৪৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ। সেই হিসাবে আগের অর্থবছরের তুলনায় এ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার বেড়েছে ১ দশমিক ৫৯ শতাংশ। একই সময়ে সরকারের মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর অর্থ খরচের পরিমাণও বেড়েছে।

গতকাল এনইসি বৈঠকে আখাউড়া-সিলেট সেকশনের মিটারগেজ রেললাইনকে ডুয়েলগেজ রেললাইনে রূপান্তরসহ সাতটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নে মোট খরচ ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ১৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে অবশ্য আখাউড়া-সিলেট রেললাইন প্রকল্পের ব্যয়ই ১৬ হাজার ১০৪ কোটি টাকা।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনমন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি জানান, অনুমোদিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সরকারি তহবিল থেকে ৬ হাজার ৬২২ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ১১ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা খরচ করা হবে।

বৈঠকে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন কোনো প্রকল্পের জন্য কৃষিজমি বা গরিব মানুষ ও বর্গাচাষিদের জমি নেওয়া যাবে না। একান্তই যদি জমি নিতে হয়, তাহলে জমির দাম তিনগুণ দেওয়ার পাশাপাশি প্রকল্প শুরু আগেই তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া প্রতি বছর নদীগুলো ড্রেজিং করারও নিদেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

পরিকল্পনামন্ত্রী আরো বলেন, সরকার রেলপথকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই নির্দেশনা দিয়েছেন পর্যায়ক্রমে দেশের সব রেলপথকে ব্রডগেজে রূপান্তরিত করতে হবে। অতীতে যারা রেলকে অবহেলা করেছিলেন, তারা অন্যায় করেছেন।

পরিকল্পনমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, একনেকে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেন মাঠ পর্যায় থাকেন, তার ব্যবস্থা করতে হবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা গ্রামে থাকতে চান না। আবার তারা গ্রামে থাকলেও তাদের পরিবার থাকে ঢাকায়। এ অবস্থায় তাদের মন পড়ে থাকে পরিবারের কাছে। ফলে জনগণকে সঠিক সেবা দিতে পারেন না। এ অবস্থায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেন পরিবার নিয়ে গ্রামের কর্মস্থলেই থাকতে পারেন। সেজন্য পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

এম এ মান্নান ব্রিফিংয়ে বলেন, গ্রামে এখন থেকে যেসব ভবন তৈরি হবে, সেগুলো যেন খোলামেলা হয়, যেন দর্শনার্থীরা সহজেই হাঁটাচলা করতে পারেন এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এছাড়া যেসব পুকুর রয়েছে, সেগুলো কোনোভাবেই ভরাট করা যাবে না। প্রয়োজন হলে নতুন করে পুকুর কাটতে হবে, যেন কোথাও আগুন লাগলে সেই পুকুরের পানি ব্যবহার করা যায়।

একনেক বৈঠকে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলেও জানান পরিকল্পনামন্ত্রী।

একনেকে অনুমোদিত প্রকল্প : একনেকে অনুমোদিত আখাউড়া-সিলেট সেকশনের মিটারগেজ রেললাইনকে ডুয়েলগেজ রেললাইনে রূপান্তর প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ১০৪ কোটি টাকা; পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৪৪ কোটি টাকা; মাগুরা-শ্রীপুর জেলা মহাসড়ক বাঁক সরলীকরণসহ সম্প্রসারণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২১৫ কোটি টাকা; খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের নতুন কার্যালয় ভবন ও অডিটরিয়াম নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৩৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা; মিরসরাইয়ে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৯১৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা; বিসিএসআইআর ঢাকা ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর শুঁটকি মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ইনডোর ফার্মিং গবেষণা সংক্রান্ত সুবিধা স্থাপন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৮৯ কোটি টাকা; কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ঘুঘুমারী থেকে ফুলুয়ার চরঘাট ও রাজিবপুর উপজেলা সদর (মেম্বারপাড়া) থেকে মোহনগঞ্জ বাজার পর্যন্ত এলাকা ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন থেকে বাঁচাতে বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৪৭৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা সচিব নুরুল আমিন, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, আইএমইডি সচিব আবুল মনসুর মো. ফায়জুল্লাহসহ পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা।

 

"