লোকসভা নির্বাচন

ড্যামেজ কন্ট্রোলে অমিত শাহ মোদির বিরুদ্ধে সরব রাহুল

প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

পার্থ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা থেকে

শেষ পর্যন্ত ভোট শুরুর দুদিন আগে, দলের মধ্যেই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামতে হলো নরেন্দ্র মোদির সেনাপতি অমিত শাহকে। লালকৃষ্ণ আদভানি, মুরলিমনোহর জোশির মতো প্রবীণ নেতাদের দলের প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার বেশ কদিন পর, তাদের সঙ্গে দেখা করে এসেছেন বিজিবি সভাপতি অমিত শাহ। আদভানি-জোশিদের ক্ষোভ প্রশমনে এবং দলের অস্বস্তি ঢাকতে তার এই দেখা করা। ইশতেহার প্রকাশের আগেও এই সাক্ষাৎ হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন চরমে উঠেছিল। বিজেপির বর্ষীয়ান দুই প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের সঙ্গে দেখা করে ইশতেহার এবং সাম্প্রতিক দলের অবস্থান নিয়ে কথা বলেছেন অমিত শাহ। অন্যদিকে, আগ্রাসী এবং দূরদর্শিতার কোনো ছাপ নেই, বিজেপির ইশতেহারকে এই ভাষাতেই আক্রমণ করেছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। একই সঙ্গে টুইট করে তিনি বলেছেন, এই ইশতেহারে মিলছে এক বিচ্ছিন্ন মানুষের কণ্ঠস্বর।

৭৫ বছরের বেশি বয়সের নেতাদের এবার লোকসভা ভোটে টিকিট দেয়নি বিজেপি। সেই সূত্রেই প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়েছিলেন গান্ধীনগর থেকে পরপর ছবার জয়ী সাংসদ লালকৃষ্ণ আদভানি এবং কানপুরের সাংসদ মুরলিমনোহর জোশি। আর সেই গান্ধীনগরেই, লালকৃষ্ণ আদভানির বদলে এবার অমিত শাহকে প্রার্থী করেছে দল। কিন্তু দলের অন্যতম দুই প্রবীণ নেতার সঙ্গে যে ব্যবহার করেছে দল, তাতে দুজনই ক্ষুব্ধ। দুই রাজনৈতিক গুরুর সঙ্গে মোদি-অমিত শাহ যে ব্যবহার করেছিলেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক শিবিরে সমালোচনার ঝড় ওঠে। কংগ্রেসসহ বিরোধীরাও এ নিয়ে তীব্র আক্রমণ শুরু করেছিলেন। দুই রাজনৈতিক গুরুকে বিজেপি যথাযথ সম্মান দেয়নি বলে শুরু হয়েছিল কটাক্ষ, ব্যঙ্গ ও বিদ্রƒপ। নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ জুটি দলের রাশ হাতে নেওয়ার পরই লালকৃষ্ণ আদভানি, মুরলিমনোহর জোশির মতো প্রবীণ নেতাদের মার্গদর্শকম-লীতে স্থান দিয়ে কার্যত রাজনৈতিক সন্ন্যাসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। গত কয়েক বছরে একটিও মার্গদর্শকম-লীর বৈঠক হয়নি। দুই নেতাও রাজনীতির মূলস্রোত থেকে নিজেদের কার্যত সরিয়েই নিয়েছিলেন। কিন্তু প্রার্থী না করার ঘোষণার পর রাজনৈতিক শিবিরে যে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়, তাতে আর চুপ থাকতে পারেনি বিজেপি। দুই নেতাকে নিয়ে অস্বস্তি ঢাকতেই তাই শেষ পর্যন্ত, নরেন্দ্র মোদির সেনাপতি অমিত শাহ, তাদের সঙ্গে দেখা করলেন। দলীয় সূত্রে খবর, দলের ইশতেহার এবং তার বিষয়বস্তু সম্পর্কে দুই নেতাকেই তথ্য দিয়েছেন অমিত শাহ। ইশতেহার নিয়ে দুই নেতার মতামতও নিয়েছেন বিজেপি সভাপতি। কেন দল ৭৫ বছর বয়সের বেশি নেতাদের প্রার্থী না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন অমিত শাহ। কিন্তু প্রার্থী না করার সিদ্ধান্ত দলের শীর্ষ নেতারা না জানিয়ে সাধারণ সম্পাদক রাম লালকে দিয়ে বার্তা পাঠানো হলো কেন, তা নিয়ে সম্ভবত আলোচনা হয়নি।

অন্যদিকে, বিজেপির ইশতেহারকে আক্রমণ করে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী টুইট করে বলেছেন, ইশতেহারে মিলছে এক বিচ্ছিন্ন মানুষের কণ্ঠস্বর। নাম না করলেও এই কটাক্ষ যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশেই, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই কারো। বিজেপির ইশতেহার প্রকাশের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, ঠা-া ঘরে বসে থেকে দারিদ্র্যের মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এক দিন পর কংগ্রেস শিবির থেকে দেওয়া হয়েছে তার উত্তর। আর উত্তর দিয়েছেন খোদ সভাপতি রাহুলই। টুইট করে বিজেপির ইশতেহার নিয়ে নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন রাহুল। সেখানে তিনি লিখেছেন, আলোচনার মধ্য দিয়ে তৈরি হয়েছিল কংগ্রেসের ইশতেহার। লাখ লাখ মানুষের কথা আছে এই ইশতেহারে। সেখানে বিজেপির ইশতেহার বানানো হয়েছে বদ্ধঘরে, এই ইশতেহার আগ্রাসী এবং তাতে দূরদর্শিতার চিহ্নমাত্র নেই।

ভারতের ভোট : ঘুম নেই ফেসবুকের

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়া খবর ছড়িয়ে যাতে জনমতে প্রভাব ফেলা না যায়, তার জন্য পৃথিবী জুড়ে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ভারতের নির্বাচনের ওপর নজর রাখছে ফেসবুক। আমেরিকা, সিঙ্গাপুর ও আয়ারল্যান্ডের তিনটি অফিস থেকে ২৪ ঘণ্টা এই নজর রাখার কাজ করছে ৪০টি দল, যেখানে কাজ করছেন প্রায় ৩০ হাজার কর্মী। রিপোর্ট অনুযায়ী, শুধু ভারতের নির্বাচনের জন্য পৃথিবীর তিনটি শহরে খোলা হয়েছে তিনটি নজরদারি কেন্দ্র। মূল কেন্দ্রটি আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায়, অন্য দুটি কেন্দ্র হলো সিঙ্গাপুর এবং আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন। দরকার পড়লেই যেকোনো মুহূর্তে এই কর্মীদের তলব করতে পারে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থেকে ব্রেক্সিট গণভোট এবং মেক্সিকোর সাধারণ নির্বাচনÑ তিনটি ক্ষেত্রেই ফেসবুক ইউজারদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে জনমত প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছিল। এই কেলেঙ্কারির কথা স্বীকার করে নিয়েছিলেন ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গও। কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা নামের একটি সংস্থা ফেসবুকের কাছ থেকে এই তথ্য হাতিয়ে তা ব্যবহার করেছিল অবৈধভাবে। এই তথ্য সামনে আসার পর প্রশ্ন উঠেছিল ফেসবুকে ইউজারদের তথ্য কতটা সুরক্ষিত, তা নিয়েও। আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ফেসবুক। এরপরই ইউজারদের তথ্যসুরক্ষায় বিপুল পরিমাণ টাকা বরাদ্দ করার কথা জানায় ফেসবুক।

ফেসবুকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভারতের ক্ষেত্রে, সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ, ভাষার বৈচিত্র্য। তাই, ফেসবুকের বিভিন্ন যন্ত্র যাতে ভারতের বিভিন্ন ভাষা পড়তে পারে, সেই প্রযুক্তিতে সব থেকে বেশি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। স্বয়ংক্রিয় অনুবাদ পদ্ধতি এবং তার মাধ্যমে কোনো পোস্টের ভুয়ো বা আপত্তিকর অংশ চিহ্নিত করার ক্ষেত্রেও ফেসবুক, এখন অনেক বেশি শক্তিশালী। কোথাও কোনো সংকট দেখা দিলে এখন ফেসবুক অনেক তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা নিতে পারছে।

 

"