পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা

লাইফ সাপোর্টেই নুসরাতের অস্ত্রোপচার

এখনই সিঙ্গাপুরে নয়

প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক ও ফেনী প্রতিনিধি

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার শিকার নুসরাত জাহান রাফিকে লাইফ সাপোর্টে রেখেই তার অস্ত্রোপচার করেছেন চিকিৎসকরা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১০টা থেকে প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে অস্ত্রোপচার হয়। তার অবস্থার উন্নতি না হলেও আগের চেয়ে সামান্য কিছুটা ভালো। তবে নুসরাতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এখনই সিঙ্গাপুরে পাঠানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন। এদিকে, নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় গ্রেফতার চারজনকে ৫ দিন করে রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল বিকালে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সরাফ উদ্দিন আহম্মেদ এ আদেশ দেন। রিমান্ডপ্রাপ্ত চারজন হলেন নুর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন ও সাহিদুল ইসলাম। অন্যদিকে, নুসরাতকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় শম্পা নামের এক ছাত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, মেয়েটির ফুসফুস কার্যকর করতে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থাতেই তার শরীরে অস্ত্রপচার করা হয়েছে। সকাল সোয়া ১০টা থেকে প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে এই অস্ত্রোপচার হয়। তার অবস্থার উন্নতি না হলেও আগের চেয়ে সামান্য কিছুটা ভালো। তবে নুসরাতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এখনই সিঙ্গাপুরে পাঠানো সম্ভব নয়।

ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, সিঙ্গাপুরে যেতে হলে মেয়েটিকে দীর্ঘ সময় বিমানে থাকতে হবে। কিন্তু তার যে শারীরিক অবস্থা তাতে এক দীর্ঘ ভ্রমণ তার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই আমরাই তার যথাসাধ্য চিকিৎসা করব। মেয়েটির বাবা ও ভাইকে ডেকে কথা বলেছি। তারা আমাদের চিকিৎসায় সম্মতি জানিয়েছে। অন্যদিকে, গতকাল দুপুরে সোনাগাজীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক জানান, চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ‘ডাইং ডিক্লারেশনে’ (মৃত্যুশয্যায় দেওয়া বক্তব্য) নুসরাত শম্পার কথা জানিয়েছিলেন। নুসরাত বলেন, নেকাব, বোরকা ও হাতমোজা পরিহিত চারজন তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন। ওই চারজনের একজনের নাম ছিল শম্পা। এই নামের একটি মেয়েটিকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে এসেছি। তাকে আমরা তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদ করছি।

কোর্ট পরিদর্শক গোলাম জিলানী জানান, মাদরাসাছাত্রীর গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ৭ জনের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সোনাগাজী মডেল থানার পরিদর্শক কামাল হোসেন। সাতজনের মধ্যে নুর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন ও সাহিদুল ইসলামকে আদালতে তোলা হয়। শুনানি শেষে চারজনকে ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক।

অপর তিনজনের মধ্যে গত ২৭ মার্চ শ্লীলতাহানির ঘটনায় আটক অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ দৌলা, মাদ্রাসার ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠী আরিফুল ইসলামের রিমান্ড আবেদনের শুনানি হয়নি।

উল্লেখ্য, ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতর ওই ছাত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। গত শনিবার সকালে সোনাগাজী পৌর এলাকার ইসলামিয়া সিনিয়ার ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ওই ছাত্রী আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত কক্ষ থেকে ছাদে ডেকে নিয়ে কয়েকজন বোরকাপরা নারী পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা।

তারা জানান, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলা তুলে না নেওয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ তথ্য ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্থানীয় পুলিশকেও জানিয়েছেন ওই শিক্ষার্থী। তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের ১০২ নম্বর কক্ষে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।

 

"