জারের পানিতে ক্ষতিকর উপাদান

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীতে বিক্রি হওয়া জারের পানির ৯৬ শতাংশেই রয়েছে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান। আর পোলট্রি মুরগির মাংসে পাওয়া গেছে অ্যান্টিবায়োটিক এবং ক্ষতিকর ধাতবের উপস্থিতি। কম দামে বেশি পানি পাওয়ার কারণে জারভর্তি পানি রাজধানীতে বেশ জনপ্রিয়। ছোট দোকান থেকে শুরু করে হোটেল রেস্তোরাঁ সব জায়গায় ব্যবহার বেড়েছে জারভর্তি পানির। এর উৎস নিয়ে সন্দেহের কারণে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের পুষ্টি বিভাগের গবেষণায় উঠে এসেছে ভয়ংকর তথ্য। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার জারের পানির ২৫০ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে মাত্র ৪ শতাংশ পানি নিরাপদ পেয়েছেন তারা।

জার কিংবা বোতল উভয়তেই সমস্যা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের পুষ্টি বিভাগের পরিচালক মনিরুল ইসলাম এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান।

পুষ্টিবিদরা জানিয়েছেন, ৩৫টি ব্র্যান্ডের বোতলজাত পানিতে সমস্যা মেলেনি। তবে এসব বোতল দুইবারের বেশি ব্যবহার না করার পরামর্শ তাদের। সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছেন, স্কুলের শিক্ষার্থীরা যেসব কমদামি ফ্যান্সি পানির বোতল ব্যবহার করে তার বেশিরভাগই নিরাপদ নয়। জারের পানির মতোই বিপদ সংকেত মিলেছে মুরগির মাংসে। কয়েক বছর আগে গবেষণায় দেখা যায়, পোলট্রি খামারে বেড়ে ওঠা মুরগির খাবারে থাকে ক্ষতিকর ধাতব পদার্থ। এসব মুরগির অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যু রোধে যে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার হয়, মুরগির বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গে তা রয়ে যায়। পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে কি না জানতে সাম্প্রতিক গবেষণায়ও পাওয়া গেছে একই ধরনের ঝুঁকির তথ্য। এসব দেখতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ চালু হলেও জনবল মাত্র ১৬ জন। এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৪০০ ব্যক্তিকে কারাদ- দিলেও ২ কোটি রাজধানীবাসীসহ দেশবাসীর নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা ও সমন্বয়ের দায়িত্ব সহজ নয় বলে জানান সংস্থাটির কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান।

ঝুঁকি এড়াতে বিশেষজ্ঞরা রাইস বার্ন তেল বিরতি দিয়ে এবং কম দামের লিপস্টিক ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন। ডিম পুরোপুরি সেদ্ধ করে খাওয়ার পরামর্শও তাদের। তবে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফল ও সবজিতে।

"