মন্ত্রিসভায় উঠছে নতুন কাস্টমস আইন

মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আনা হলে পণ্য মূল্যের সর্বোচ্চ তিনগুণ অর্থদন্ড করা হবে

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

শাহজাহান সাজু

শিগগিরই মন্ত্রিসভায় উঠছে নতুন কাস্টমস আইন-২০১৯। খসড়া কাস্টমস আইনে নকল মুদ্রা, জালনোট, নকল দ্রব্য, অশ্লীল পুস্তক, অডিও ভিডিও, ছবি, নকল ট্রেডমার্ক যুক্ত পণ্য আমদানিকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এতে অর্থ পাচার, জালনোটের ব্যবসা, নকল পণ্য আমদানি-রফতানি কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) খসড়াটির সারসংক্ষেপ অর্থমন্ত্রীর দফতরে পাঠালে আ হ ম মুস্তফা কামাল আবারও পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। পর্যালোচনা শেষে শিগগিরই মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটি উপস্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক ও আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে কাস্টমস ব্যবস্থাপনাকে বিশ্বমানে উন্নীত করতে পাঁচ বছর আগে আইনের খসড়া প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বহুমুখী সংস্কার ও আধুনিকায়ন ছাড়াও আইনটি বাংলায় করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০১৪ সালে তৈরি হয় কাস্টমস আইন-২০১৪ এর খসড়া। এরপর চলে গেছে প্রায় পাঁচ বছর।

সূত্র জানায়, খসড়া আইনে চোরাচালান এবং চোরাই পণ্যের লেনদেন করলে সংশ্লিষ্ট পণ্য মূল্যের সমান বা সর্বোচ্চ দ্বিগুণ অর্থদন্ড ও পণ্য বাজেয়াপ্তের বিধান রাখা হয়েছে। পণ্যের অবৈধ অপসারণ করলে সংশ্লিষ্ট পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ককর পরিশোধ ছাড়াও পণ্য মূল্যের সর্বোচ্চ পাঁচগুণ পর্যন্ত অর্থদন্ড করার কথাও বলা হয়েছে। তবে ওই পণ্য করযোগ্য না হলে এবং তার ওপর শুল্কায়ন করা সম্ভব না হলে সেক্ষেত্রে প্রতিটি নিখোঁজ বা ঘাটতি প্যাকেজ আলাদা বস্তুর জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড এবং কালো পণ্যের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৫০ হাজার টাকা এবং সংশ্লিষ্ট পণ্যের মূল্যের দশগুণ অর্থদন্ডের বিধান করা হবে। মিথ্যা বিবৃতি দিয়ে পণ্য আনা হলে পণ্যমূল্যের সর্বোচ্চ তিনগুণ অর্থদন্ড দেওয়া হবে। এই আইন ভঙ্গকারী ব্যবসায়ী উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি চাকরীজীবীদের দন্ডের বিধান অতীতের তুলনায় অনেক শক্তিশালী করা হয়েছে। ফলে আইন ভঙ্গ করে পণ্য আমদানি-রফতানিতে শুল্কায়নের ক্ষেত্রে সবাই সঠিক ভূমিকা পালন করতে বাধ্য হবেন আশা করা হচ্ছে।

জানা যায়, খসড়াটি এরই মধ্যে দুই দফায় আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সম্পন্ন হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে মন্ত্রিসভা নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার পর বাকি ছিল শুধু জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের। এরই মধ্যে জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত হওয়ায় আইনি ফাঁদে (কার্যপ্রণালি-বিধির ৩১৮ নম্বর বিধি অনুযায়ী) আটকা পড়ে এটি। বিধি অনুযায়ী খসড়াটি বিল আকারে জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের আগে নতুন করে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের প্রয়োজন। তৃতীয় দফায় মন্ত্রিসভায় উত্থাপনের জন্য আনা হলে এটি পুনরায় পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী ।

জানা গেছে, কাস্টমস আইনের খসড়াটি ২০১৫ সালে মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তৎকালীন মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি করা হয়। ওই কমিটি ১৯টি মতামত দেন। সে আলোকে খসড়াটি কাস্টমস আইন-২০১৫ নামে পুনর্গঠন করা হয়। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের দফতর হয়ে এটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হলে তা সম্পন্নও হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো সারসংক্ষেপে এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেছেন, প্রস্তাবিত কাস্টমস আইনে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কাজে অর্থায়ন রোধ করার সঙ্গে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ট্রেড ফ্যাসিলিটেটিং, বিভিন্ন উপাদান অ্যাডভান্স রোলিং, স্টেক হোল্ডার কনস্যুলেশন, ন্যাশনাল ইকিউটি পয়েন্ট সংযুক্ত করা হয়েছে।

এনবিআরের সারসংক্ষেপে আরো বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত ও চূড়ান্ত অনুমোদন অনুযায়ী কাস্টমস আইন-২০১৮ এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। এ আইনে সরকারের আর্থিক সংশ্লেষ থাকায় সংবিধানের ৮২ অনুচ্ছেদ বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সুপারিশ গ্রহণ করে অর্থ বিল আকারে দশম জাতীয় সংসদের ২৩তম অধিবেশনে কাস্টমস বিল-২০১৮ শিরোনামে উত্থাপিত হয় এবং বিলটি পর্যালোচনার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কিন্তু এরই মধ্যে দশম জাতীয় সংসদ বিলুপ্তি হওয়া বিলটির ওপর ওই সংসদের অনুমোদন গ্রহণ সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে এনবিআরের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের কাস্টমস আইনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রণয়ন করা হয়েছে নতুন কাস্টমস আইন। তাই আইনটি হবে বিশ্বমানের। নতুন কাস্টমস আইন কার্যকর হলে বাইরের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য আরো সহজতর হবে। বর্তমানে ১৯৬৯ সালের আইনে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

"