দুই ধাপে শুরু হচ্ছে ইসির তথ্য সংগ্রহ

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

গাজী শাহনেওয়াজ

দুই ধাপে নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রথম ধাপ সম্পন্ন হবে রমজানের আগে, এ সময় ২০২১ সালের ১ জানুয়ারিতে যাদের বয়স ১৮ বছর হবে তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপ শুরু হবে রমজানের পর, এ সময় ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির স্কুল ও মাদ্রাসা পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করবে কমিশন।

এবার ভোটার হালনাগাদে প্রথম ধাপে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র হালনাগাদের কাজ শুরু হবে। চলতি মাসের শেষে তথ্য সংগ্রহ শুরু করে মের মাঝামাঝিতে ওইসব নাগরিকের ছবি তুলে ভোটার করা হবে। সেই অর্থে বলা যায়, আগামী ৩ বছর পর যাদের বয়স ১৮ হবে অর্থাৎ যাদের জন্ম ২০০৩ সালের ১ জানুয়ারি তাদেরই তথ্য নেবে ইসি।

আজ সোমবার কমিশন সভায় হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু সংক্রান্ত বিষয়ে নথি উত্থাপন হবে; সেখানে সম্মতি মিললে চলতি মাসের শেষ সময়ে নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে। একসঙ্গে ১৩৭টি উপজেলায় এ কার্যক্রম শুরু হবে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এসব উপজেলার সংশ্লিষ্ট ভোটার যোগ্যদের তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন করা হবে। পরে দ্বিতীয় পর্যায়ে আরো শতাধিক উপজেলায় এভাবে কয়েক ধাপে তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন হবে।

পাশাপাশি ১০ থেকে ১৫ বছর (ষষ্ঠ-দশম শ্রেণি) বয়সী স্কুল শিক্ষার্থীদের জাতীয় পরিচপত্র প্রদানের অংশ হিসেবে তথ্য সংগ্রহ করবে কমিশন। ঈদুল ফিতরের পর সুবিধাজনক সময়ে এ কার্যক্রম শুরু করা হবে। এরই মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনু বিভাগ (এনআইডি) এ সংক্রান্ত বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবর ইসির দায়িত্বশীল সূত্রের।

ইসির তথ্য মতে, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধনের পাইলট কর্মসূচির আওতায় নাম তালিকাভুক্ত করা হবে। সেখানে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের নাম তালিকাভুক্ত করা হবে।

পরীক্ষামূলক প্রকল্পে ইসির লক্ষ্য অনুযায়ী সফলতা এলে দেশব্যাপী স্কুল পর্যায়ে ব্যাপক পরিসরে এ কার্যক্রম শুরু করা হবে। এছাড়া ১৮ বছরের কম শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার না থাকলেও তাদের ১০ আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ হালনাগাদ তথ্যের সঙ্গে একত্রে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। বর্তমানে স্মার্টকার্ড দেওয়ার আগে এই অতিরিক্ত তথ্যটি দিতে হচ্ছে ভোটার নাগরিকদের।

জানতে চাইলে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনু বিভাগের (এনআইডি) ডিজি ব্রি. জে. মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ নিয়ে একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। চলতি মাসের শেষদিকে এ কার্যক্রম শুরু হবে। দেশের উপজেলাগুলোতে কয়েক ধাপে ভাগ করে এবার তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

পাশাপাশি তিনি বলেন, এছাড়া ১৮ বছরের কম অর্থাৎ স্কুল শিক্ষার্থীদের (যাদের বয়স ১০-১৫ বছর) তথ্য সংগ্রহের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর জন্য দেশের ১১টি সিটির ১১টি ওয়ার্ডে অবস্থিতি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সমমান অর্থাৎ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের তথ্য নেওয়া হবে। সামরিক বাহিনীর এই কর্মকর্তা আরো বলেন, পরে এসব স্কুল শিক্ষার্থীরা ১৮ বছর বয়স হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার হয়ে যাবেন। এর জন্য তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ নাগরিক পরিচয় হিসেবে ১০ আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশের ছবি নিতে তথ্য সংগ্রহকারীদের নির্দেশনা দেওয়া হবে, যোগ করেন প্রেষণে এনআইডির ডিজির দায়িত্ব পালন করা এই কর্মকর্তা।

জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয় গত ৩০ ডিসেম্বর। এ উপলক্ষে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা থেকে বিরত থাকে ইসি। ইসির সিদ্ধান্ত ছিল, সুবিধাজনক সময়ে হালনাগাদ শুরু করা। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি মাসের শেষে ভোটারযোগ্য নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করবে কমিশন। গত ১ এপ্রিল থেকে হালনাগাদ কার্যক্রম শুরুর চিন্তা থাকলেও পরবর্তীতে সময়ে পরিবর্তন আনে। আগামী সোমবার কমিশন সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। রমজানের মধ্যে এ কার্যক্রম শেষ করে স্কুল শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহে নেমে পড়বে ইসি।

কমিশনের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দেশের ১১টি সিটি করপোরেশন এলাকার ১১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের নাম তালিকাভুক্ত করে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান করবে কমিশন। শিক্ষার্থীদের ভর্তি, ব্যাংক একাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে পাসপোর্ট তৈরিসহ সব ধরনের সেবামূলক কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে সম্পন্ন করতে কমিশন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

"