পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা

সেই ছাত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক মেডিকেল বোর্ড গঠন

মাদ্রাসায় পাঠদান স্থগিত * অধ্যক্ষ সাময়িক বরখাস্ত

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক ও ফেনী প্রতিনিধি

ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষা কেন্দ্রে কেরোসিন ঢেলে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া শিক্ষার্থীর চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। ৯ সদস্যের ওই মেডিকেল বোর্ডের প্রধান করা হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেনকে। গতকাল রোববার সকাল ১০টায় এই বোর্ড গঠন করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট। এর আগে সকালে তাকে বার্ন ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ছাত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। যেকোনো সময় যেকোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। শারীরিক অবস্থা যেকোনো দিকে মোড় নিতে পারে। বোনের শারীরিক সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তার বড় ভাই। এদিকে, ওই ঘটনায় মাদ্রাসার পাঠদান কার্যক্রম স্থগিত করেছে পরিচালনা পর্ষদ। একইসঙ্গে জেলহাজতে আটক মাদ্রাসা অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাকে যৌন হয়রানির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।

৯ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডে রয়েছেন বার্ন ইউনিটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জাতীয় সমন্বয়ক অধ্যাপক সামন্ত লাল সেন, অধ্যাপক আবুল কালাম, অধ্যাপক রাইহানা আউয়াল, অধ্যাপক নওয়াজেশ খান, অধ্যাপক লুৎফর কাদের, অধ্যাপক বিধান সরকার, অধ্যাপক মহিউদ্দিন, ডাক্তার জাহাঙ্গীর আলম ও জহিরুল ইসলাম।

মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পি কে এম এনামুল করিম বলেন, পরিচালনা পর্ষদের সভায় ভিকটিমকে চিকিৎসার জন্য মাদ্রাসার তহবিল থেকে ২ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও মাদ্রাসা এলাকায় সিসি ক্যামরা স্থাপন, জ্যেষ্ঠ শিক্ষক হোসাইন আহমদকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান এবং হত্যাচেষ্টায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে সার্বিক সহযোগিতা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাহ এমন অভিযোগ এনে ছাত্রীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে থানায় মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ তাৎক্ষণিক অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়। এরপর গত ৬ এপ্রিল সকাল ১০টায় প্রশ্নপত্র দেওয়ার আগ মুহূর্তে ওই মাদ্রাসাছাত্রীকে কৌশলে ছাদে ডেকে নিয়ে তার গায়ে কোরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করে কয়েকজন দুর্বৃত্ত। নৈশপ্রহরী মোস্তফা ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। ওই ছাত্রীর শরীরের ৮০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাদ্রাসার প্রভাষক আবছার উদ্দিন ও দুজন আলিম পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে।

"