স্বাধীনতার সুফল যেন মানুষ পায় : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন তার সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে দেশের প্রত্যেক গ্রাম ও ঘরে ঘরে স্বাধীনতার সুফল পৌঁছে দেওয়া। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন হবে; কেউ ক্ষুধার্ত, গৃহহীন থাকবে না এবং চিকিৎসাবঞ্চিত রইবে না। প্রতিটি মানুষের জীবন অর্থপূর্ণ, সুন্দর ও উন্নত হবে। এটি আমাদের লক্ষ্য এবং তা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। স্বাধীনতার সুফল যেন দেশের মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছায়, সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়ার কথাও বলেন শেখ হাসিনা। যারা দেশের কল্যাণে, মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের খুঁজে বের করে পুরস্কৃত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গতকাল সোমবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন সরকারপ্রধান।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি এইটুকু আহ্বান করব, আজকের বাংলাদেশ যেমন এগিয়ে যাচ্ছে, এক্ষেত্রে যাদের অবদান রয়েছে তারা গ্রাম বাংলায় ছড়িয়ে আছেন। আপনারা দেখবেন অনেকে তাদের ক্ষুদ্র অল্প একটু সম্পদ নিয়েও হাজারো মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাদের সহযোগিতা করেন। এই ধরনের যারা অবদান রাখে দেশের কল্যাণে, জনগণের কল্যাণে, মানুষের কল্যাণে, মানুষের জন্য আমি মনে করি তাদের আমাদের খুঁঁজে খুঁজে বের করা প্রয়োজন। তারা যে মানব কল্যাণে অবদান রেখেছেন সেজন্য তারা পুরস্কারপ্রাপ্তির যোগ্য।

শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার সুফল যেন বাংলার মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে পারি এবং আর্থসামাজিকভাবে যেন আমরা উন্নত হতে পারি, উন্নত জাতি হিসেবে বিশ্বে যেন আমরা একটা মর্যাদা ফিরে পেতে পারি, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। সরকার সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে এবং দেশবাসী তার সুফল পাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এবার জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বলল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ অনুষ্ঠানে ১৩ জন ব্যক্তি এবং একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির হাতে স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য শহীদ বুদ্ধিজীবী মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী (মরণোত্তর), শহীদ এ টি এম জাফর আলম (মরণোত্তর), মুক্তিযোদ্ধা আবদুল খালেক (মরণোত্তর), অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ (মরণোত্তর), সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার শওকত আলী খান (মরণোত্তর), মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ ক ম মোজাম্মেল হক, সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এবং ডা. কাজী মিসবাহুন নাহার স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন।

চিকিৎসায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. নুরুন্নাহার ফাতেমা বেগম, সমাজসেবা/জনসেবায় অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ, সংস্কৃতিতে মুর্তজা বশীর, সাহিত্যে হাসান আজিজুল হক, গবেষণা ও প্রশিক্ষণে অধ্যাপক হাসিনা খাঁনকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটকে স্বাধীনতা পদক দেওয়া হয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শ্রেণিতে।

২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বছর এ পুরস্কার দিয়ে আসছে। পুরস্কারজয়ী প্রত্যেকে পেয়েছেন ১৮ ক্যারেট মানের ৫০ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক, ৩ লাখ টাকার চেক ও একটি সম্মাননাপত্র।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব শফিউল আলমের পরিচালনায় এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

"