সড়কে বেপরোয়া যানবাহন

যশোরে পা হারাল স্কুলশিক্ষার্থী, প্রাণ গেল ৯ জনের

প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পারে হানিফ পরিবহনের দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই স্কুলছাত্রী ও নাটোরে দুজন নিহত হয়েছেন। এদিকে যশোরে স্কুলে যাওয়ার পথে পল্লীবিদ্যুতের একটি পিকআপভ্যানের ধাক্কায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীর পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পারে হানিফ পরিবহনের দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো ১০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম সংযোগ সড়কের সয়দাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ও আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। আহতদের সিরাজগঞ্জ শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানা পুলিশের ওসি সৈয়দ শহীদ আলম বলেন, যাত্রীবাহী হানিফ পরিবহনের বিপরীতমুখী দুটি বাস একই লেনে ঢুকে পড়লে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে একজন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর দুজন মারা যান। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ চালান বলেও জানান ওসি সৈয়দ শহীদ আলম।

সিরাজগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আবদুল হামিদ বলেন, বিকেলে হানিফ পরিবহনের একটি বাস উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। সয়দাবাদ এলাকায় পৌঁছালে একই কোম্পানির ঢাকাগামী অপর একটি বাসের চালক রোড ডিভাইডার থাকা সত্ত্বেও ভুল রুটে ঢুকিয়ে দেন। এ সময় বাস দুটির মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে এক যাত্রী নিহত হন। সেই সঙ্গে আরো ১২ জন যাত্রী আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন দুজন মারা যান। আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও জানান তিনি।

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) : গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই স্কুলছাত্রী নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে সুন্দরগঞ্জ থেকে গাইবান্ধা আঞ্চলিক মহাসড়কে জরমদনী ২ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ববিতা রানী (৬) নামে প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রী অটোবাইকের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে মাহিগঞ্জ নামক স্থানে পৌঁছালে ববিতা রানী মারা যায়। ববিতা রানী উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের জরমনদী গ্রামের স্বপন কুমার বর্মণের মেয়ে। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা সড়ক অবরোধ করেন। জানতে পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার থানা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরোধকারীদের অনুরোধের মাধ্যমে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনেন। এ ঘটনার সাড়ে তিন ঘণ্টা আগে সুন্দরগঞ্জ থেকে রংপুরগামী আঞ্চলিক মহাসড়কে মালবাহী চাপায় সুমী অক্তার (১৫) নামে বাইসাকেল আরোহী নবম শ্রেণির এক ছাত্রী নিহত হয়েছে। এ সময় শাহনাজ আক্তার নামে অপর এক ছাত্রী আহত হয়েছে। বুধবার সকালে সুন্দরগঞ্জ ছাইতানতলা বাজারে শাখা মারা ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সুমী আক্তার উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের রামভদ্র (জানেরপাড়) গ্রামের আবদুল গণির মেয়ে। বিষয়টি নিশ্চিত করে থানার ওসি এস এম আবদুস সোবহান জানান, নিহতের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং ঘাতক ট্রাকটি আটকের জন্য জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সোলেমান আলী জানান, পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই স্কুলছাত্রীর পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ হাজার করে ২০ হাজার টাকা ও আহত ছাত্রী শাহনাজ আক্তারকেও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

বেনাপোল (যশোর) : যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের নাভারণে স্কুল যাওয়ার পথে পল্লীবিদ্যুতের একটি পিকআপভ্যানের ধাক্কায় ভ্যানগাড়ি আরোহী মোফতাহুল জান্নাত নিপা নামে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীর পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্নের ঘটনায় পিকআপভ্যানে অগ্নি সংযোগ ও মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় ভ্যানে থাকা অপর দুই শিক্ষার্থী একই স্কুলের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী রিপা ও ৭ম শ্রেণির ছাত্রী স্মৃতি আহত হয়।

বুধবার সকাল ৯টায় যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের নাভারণে স্কুলের সামনেই এ ঘটনা ঘটে। নিপা শার্শার নাভারণ বুরুজ বাগান গ্রামের রফিকুলের মেয়ে ও বুরুজবাগান পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী।

স্থানীয় ও পুলিশ জানায়, একটি ভ্যানে চড়ে তিন ছাত্রী স্কুলে আসছিল। এ সময় যশোরের দিক থেকে দ্রুত গতিতে আসা পল্লীবিদ্যুতের একটি পিকআপভ্যান ছাত্রীদের বহনকারী ভ্যানে ধাক্কা দেয়। এতে তিনজন ছাত্রী ভ্যান থেকে ছিটকে পড়ে মারাত্মক আহত হয়। এ সময় স্থানীয়রা এসে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে নাভারণ পরে নিপার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নিপার ডান পা কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

এদিকে এ খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে নাভারণ অঞ্চলের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শিক্ষার্থীরা নাভারণ সাতক্ষীরা মোড়ে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় যশোর-বেনাপোল ও যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের সব যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পল্লীবিদ্যুতের সেই পিকআপটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ দেখায়। মহাসড়ক অবরোধ করায় যশোরের সাথে বেনাপোল ও সাতক্ষীরা সড়কে প্রায় এক ঘণ্টা সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।

স্থানীয় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মঞ্জু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলক কুমার ম-ল, শার্শা থানার ওসি এম মশিউর রহমান ও জেলা পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ এস এম ইব্রাহিম খলিল শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস দিলে সকাল দশটার সময় সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেয় প্রতিবাদী শিক্ষার্থীরা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পুলক কুমার মন্ডল জানান, এমন ঘটনা দুঃখজনক। আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোমিনুর রহমান জানান, চালকের অসতর্কতায় এই দুর্ঘটনা। সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র-ছাত্রীরা রাস্তায় নেমেছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

নাটোর : নাটোরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছে। নাটোরের বড়াইগ্রামে পিকআপভ্যান খাদে পড়ে একজন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ১৪ জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নাটোরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে নাটোরের বড়াইগ্রাম ও সিংড়ায় এ দুটি দুর্ঘটনা ঘটে।

 

"