পরিবর্তন আসছে ভোটব্যবস্থায়

প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

গাজী শাহনেওয়াজ

নির্বাচনের অনিয়ম বন্ধে কঠোর হচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নানা কৌশল ও বিভিন্ন নির্বাচনে নেওয়া পদক্ষেপ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ায় এখন ভোটগ্রহণ ব্যবস্থার পরিবর্তন আনতে কাজ করছে ইসি। এখন কী ধরনের এবং কোন কোন স্তরে সংস্কার আনা হবে, এ নিয়ে চলছে বিশ্লেষণ। প্রাথমিক অবস্থায় ভোটসামগ্রী কেন্দ্রে পৌঁছানোর সময়, ভোটগ্রহণের সময় এবং ভোট নেওয়ার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে নেওয়া হচ্ছে নানামুখী উদ্যোগ। কমিশন সচিবালয়ের সবস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীও এসব সংস্কারের পক্ষে একাট্টা। তবে ভোটের সামগ্রী ও ভোটগ্রহণের সময়ে ঐকমত্য থাকলেও যন্ত্রের (ইভিএম) ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হওয়া নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত নির্বাচনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

তারা বলছেন, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কতটুকু সঠিক তা আগে নিজেদের মধ্যে আস্থা অর্জন করা উচিত, এরপর ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হলে নতুন করে বিতর্ক দেখা দেবে না। কিন্তু কমিশনের শীর্ষ পর্যায়ের সংশ্লিষ্টরা প্রযুক্তির সহায়তায় ভোটদানে বেশি আগ্রহী।

জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, হঠাৎ করে নির্বাচনী ব্যবস্থায় সংস্কার আনা হচ্ছে না। বিভিন্ন নির্বাচনে সংঘটিত অনিয়মের ধরনগুলো পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্তের দিকে অগ্রসর হচ্ছে কমিশন। কাগজের ব্যালটে ভোটগ্রহণের কারণে অনেক সময় সকালে কেন্দ্রে এসব সামগ্রী পাঠানো নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তবে কেন্দ্র পাশাপাশি হলে সেক্ষেত্রে ভিন্নতা থাকে। দূরের কেন্দ্রে বস্তা বস্তা ব্যালট পাঠানোটি চ্যালেঞ্জ। আমরা ভোটের সকালে ব্যালট পেপার কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যেসব কেন্দ্র খুব কাছাকাছি, সেসব কেন্দ্রে সকালে ব্যালট পেপার পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা একটি সিদ্ধান্ত এ রকমভাবে গ্রহণ করেছি, আসন্ন যে পৌরসভায় নির্বাচনগুলো হবে; সেগুলোতে ব্যালট পেপার সকালে পাঠাব। আর সকালে যেখানে প্রশ্নপত্র পাঠানো সম্ভব, সেখানে সকালেই ব্যালট পেপার পাঠানো হবে। একই সঙ্গে ভোটগ্রহণের সময় সকাল ৮-৪টার পরিবর্তে ৯-৫টা হবে, যা আগামী পৌরসভা নির্বাচন থেকে কার্যকর হবে।

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) বিষয়ে তিনি বলেন, ইভিএম একটি নির্দিষ্ট সময়ের আগে ব্যবহার করা যায় না। সকাল ৮টার আগে এটি ওপেন করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা যদি ভোট সকাল ৯টায় শুরু করি, এর আগে ইভিএম ব্যবহারের সুযোগ নেই। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে সবগুলো কেন্দ্রেই ইভিএম ব্যবহারের চিন্তাভাবনা আছে। সকালেই প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সব উপকরণ নিয়ে কেন্দ্রে যাবেন।

যদিও এর আগে থেকে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার নির্বাচনী ব্যবস্থায় সংস্কার আনতে নানা ধরনের প্রস্তাব দিয়ে যাচ্ছেন। তার দেওয়া সব প্রস্তাবই লিখিত। সর্বশেষ সোমবার দেওয়া এ কমিশনের লিখিত প্রস্তাবে নির্বাচনী ব্যবস্থায় সংস্কার আনার ওপর অধিক তাগিদ দিয়ে তিনি বলেছেন, ভোটারদের মধ্যে আস্থা আনতে হলে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন সম্পন্ন করতে ইসির হাতে ক্ষমতা দিতে হবে। তাই নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি ফেরাতে ভোটব্যবস্থাপনায় কিছুটা পরীক্ষামূলক সংস্কার আনা হচ্ছে। এসব সংস্কারের মধ্যে ভোটের সামগ্রী সকালবেলা অর্থাৎ ভোটগ্রহণের আগে কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া। এত দিন ধরে ভোটগ্রহণের আগের দিন এগুলো সশস্ত্র পুলিশ পাহারায় কেন্দ্রে নেওয়া হতো।

কমিশনের যুক্তি হচ্ছে, সারা দেশের চাকরি ও স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সকালে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছানো গেলে নির্বাচনী সামগ্রী কেন পৌঁছানো যাবে না। একই সঙ্গে কাগজে মুদ্রিত ব্যালট থাকার কারণে পেশিশক্তি ও ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সহজে ব্যালটে সিলমেরে বাক্সভর্তি করা সহজ হয়। কিন্তু ইভিএমে ভোট হলে এটা করা অসম্ভব। কারণ যন্ত্রে ভোট নিলে অপারেটর ছাড়া এটাকে চালু করা সম্ভব নয়; একাধিক ভোট দিলে মেশিন অচল হবে।

এ ছাড়া সকাল ৮টায় ভোট শুরুর কারণে অনেক ভোটার কেন্দ্র পৌঁছানোর আগেই দেখা যায়, সন্ত্রাসী বাহিনী কেন্দ্র দখল করে সাধারণ ভোটারদের উপস্থিতি বাড়তে থাকলে তাদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয় না। তাই ভোটগ্রহণ সকাল ৮টার বদলে ৯টায় শুরু করে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নেওয়ার চিন্তা করছে কমিশন। আগামী বছরের শেষ সময়ে সারা দেশে যে ৩১৭টি পৌরসভা নির্বাচন হবে, ওই নির্বাচন থেকে কমিশন এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করবে। এর আগে ছোট ছোট নির্বাচনে পাইলট প্রকল্প হিসেবে কাজ করবে ইসি।

কমিশন আশা করছে, নির্বাচনী ব্যবস্থায় এসব সংস্কার আনা হলে নির্বাচন নিয়ে যে অনিয়ম ও জবরদখল শুরু হয়েছে, তা অনেকাংশে কমে আসবে।

 

"