সৌদির বিনিয়োগ আনতে গঠন করা হচ্ছে বিজনেস কাউন্সিল

প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

শাহজাহান সাজু

বাংলাদেশের ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে সৌদি আরব। আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ বিনিয়োগ বৃদ্ধির ভিশন ঠিক করেছে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিশালী অর্থনীতির এ দেশটি। সৌদি আরবের বড় অঙ্কের বিনিয়োগ আনতে এবং তা বাস্তবায়নে বিজনেস কাউন্সিল গঠন করা হচ্ছে। সঠিক পরিকল্পনায় এই বিনিয়োগ কীভাবে এবং বাংলাদেশের কোন কোন খাতে ব্যয় করা হবে, তা নির্দিষ্ট করে দেবে বিজনেস কাউন্সিল। এই কাউন্সিলের নাম দেওয়া হবে ‘সৌদি-বাংলাদেশ জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটি ফর ইনভেস্টমেন্ট।’ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, সৌদি সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এ কমিটির নেতৃত্ব দেবেন। এ ছাড়া কমিটিতে বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, পরিকল্পনা, বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে এ কমিটির সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জানা যায়, জ্বালানি তেলনির্ভর আরব বিশ্বের শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ সৌদি আরব বেশ কয়েক বছর ধরে বিনিয়োগের জন্য নতুন নতুন উৎস খুঁজছে। এর মূল কারণ হচ্ছে, তেলের ওপর থেকে নির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদনমুখী শিল্প ও অবকাঠামো খাত থেকে রাজস্ব আয় বাড়ানো। এ ক্ষেত্রে সৌদি আরবের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশের নাম। এরই মধ্যে বাংলাদেশে সৌদি আরবের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সফরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, জনশক্তিসহ কটি খাতে বিনিয়োগের জন্য সৌদি আরবের সঙ্গে দুটি চুক্তি ও চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের ওই অনুষ্ঠানেই সৌদি আরবের বাণিজ্য ও বিনিয়োগবিষয়ক মন্ত্রী মাজিদ বিন আবদুল্লাহ আল কাসাভি বলেছেন, আমরা ২০৩০ সাল নাগাদ একটি ভিশন ঠিক করেছি। বাংলাদেশ করেছে ভিশন-২০২১ ও ২০৪১। দিন শেষে এই ভিশন একটিই বার্তা দেয়, দুদেশকে এখন একত্রে কাজ করতে হবে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং এ ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তা দূর করতে সৌদি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করছে।

তিনি আরো বলেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন রয়েছে। সৌদি আরব নিজেদের অর্থনৈতিক শক্তি আরো মজবুত করতে লক্ষ্য স্থির করেছে। এ জন্য সৌদির সরকারি-বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ করতে উন্মুখ হয়ে আছে। সৌদি প্রতিনিধিদল এখানে এসেছে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন খাত উন্নয়নে পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা এবং সর্বোপরি তা বাস্তবায়ন করতে। বাংলাদেশের বিনিয়োগ প্রস্তাব সৌদি আরব খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। সহযোগিতার নতুন নতুন সুযোগগুলো বের করতে জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটি কাজ করবে। বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে সংলাপ শুরু হয়েছে মাত্র। রিয়াদে পরবর্তী ধাপের সংলাপের জন্য বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দুদেশের সরকারি পর্যায়ের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে যেসব কাজ করা যায়, সেগুলো খুঁজে বের করা হবে।

জানা যায়, বর্তমান সরকারের ধারাবাহিকতা ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বিনিয়োগে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। বিশেষ করে অবকাঠামো খাতে সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ নিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখছেন বিদেশি উদ্যোক্তারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পদ্মা সেতুসহ দশ অগ্রাধিকার প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা বাস্তবায়নের পথে। এ পর্যায়ে ভারত, চীন, জাপানসহ বিশ্বের অনেক দেশ বাংলাদেশে বিনিয়োগে এগিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় সৌদি আরবের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় ও বাণিজ্য বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় বর্তমান সরকার। সৌদি আরবের বিনিয়োগ আকর্ষণে এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কয়েক দফা সৌদি আরব সফর করেছেন। সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক এখন অন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের আরো প্রায় ১২টি প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। রিয়াদে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে বড় ধরনের অগ্রগতি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল এরই মধ্যে বলেছেন, গত বছর সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের কাছ থেকে বাংলাদেশে ২৬০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা মোট রেমিট্যান্সের ১৮ শতাংশ। সৌদি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। তারা আমাদের চাহিদা জানতে চেয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বেশ কটি প্রকল্পের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ট্রেন, ঢাকা-বরিশাল ট্রেন লাইনসহ আরো কয়েকটি প্রকল্প উল্লেখযোগ্য। তাদের কাছে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। তারা সঙ্গে সঙ্গে এ নিয়ে একটি কমিটি করার প্রস্তাব দিয়েছে। এ কমিটির প্রকল্পগুলো যাচাই-বাছাই করে পর্যালোচনামূলক রিপোর্ট দেওয়ার পরই সৌদির বিনিয়োগ আসা শুরু হবে।

 

"