১৫ মাস পর ফিরলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান

প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিখোঁজ হওয়ার সাড়ে ১৫ মাস পর পরিবারের কাছে ফিরেছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান। ধানমন্ডি থানার ওসি আবদুল লতিফ গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় এ তথ্য জানিয়েছেন। বিদেশ ফেরত মেয়েকে বিমানবন্দর থেকে এগিয়ে আনতে ২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর ধানমন্ডির বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন মারুফ জামান। তিনি এতদিন কোথায় ছিলেন, কে বা কারা তাকে নিয়ে গিয়েছিলÑ সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ।

ওসি লতিফ বলেন, তার মেয়ে বলেছেন, গতরাতে তিনি বাড়ি ফিরেছেন। তার শরীর ভালো না। তিনি কারো সঙ্গে কথা বলার অবস্থায় নেই। পরে পুলিশের ধানমন্ডি জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. আবদুল্লাহেল কাফি বলেন, গতকাল রাত ১টার দিকে উনি ধানমন্ডি ৯/এ সড়কে তার বাসার কাছে উদভ্রান্তের মতো ঘোরাফেরা করছিলেন। বাসার নিরাপত্তা কর্মীরা দেখে তার মেয়েকে খবর দেন। এরপরে মেয়ে এসে তাকে বাসায় নিয়ে যান।

তিনি সর্বশেষ ভিয়েতনামে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকায় রাজনীতিক, শিক্ষক, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীসহ ডজনখানেক মানুষ নিখোঁজ হন। তাদের মধ্যে ব্যবসায়ী অনিরুদ্ধ রায়সহ কয়েকজন কিছু দিনের মধ্যেই পরিবারের কাছে ফিরে আসেন। মারুফ জামান নিখোঁজের পরদিন ধানমন্ডি থানায় একটি জিডি করা হলেও এতদিন তার কোনো খবর দিতে পারেনি পুলিশ।

নিখোঁজ হওয়ার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মারুফ জামান ধানমন্ডির বাসা থেকে গাড়ি নিয়ে বেরোনোর ঘণ্টাখানেক পর তিনি বাসায় ফোন করে কয়েকজন লোক গেলে তাদের কাছে তার ল্যাপটপ দিতে বলেন বলে সে সময় জানিয়েছিলেন তার ভাই রিফাত জামান। পরে তিনজন ‘সুঠামদেহী’ লোক বাসায় আসেন, যাদের দুজন ইয়াং। তারা একটি ল্যাপটপ, কম্পিউটারের সিপিইউ, ক্যামেরা ও একটি স্মার্টফোন নিয়ে যান, উনার ঘরে তল্লাশিও করেন, বলেছিলেন তিনি। পরে ওই রাতে কুড়িল বিশ্বরোড থেকে পূর্বাচলমুখী ৩০০ ফুট সড়কে মারুফ জামানের গাড়িটি পাওয়া গিয়েছিল।

তার ভাই রিফাত জানান, ২০১২ সালের এপ্রিলে তাদের মা মারা যান। এরপর ওই বছর ডিসেম্বরে ভাইয়ের স্ত্রীর মৃত্যু হয়। পরের বছর বাবা মারা যান। এসব কারণে ভাই (মারুফ জামান) মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। ধানমন্ডিতে পৈতৃক জমিতে করা ছয়তলা ভবনের তৃতীয়তলায় থাকেন মারুফ জামান।

রিফাতের ভাষ্য অনুযায়ী, মারুফ জামান ১৯৭৭ সালে সেনাবাহিনীতে সিগন্যাল কোরের ‘ষষ্ঠ শর্ট কোর্সে’ ক্যাপ্টেন হিসেবে যোগ দেন। পরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি ওই চাকরি থেকে চলে আসেন। ১৯৮২ সালে আর্মি থেকেই ফরেন সার্ভিসে যোগ দেন তিনি। প্রথমদিকে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি ছিলেন। পরে ২০০৭ সালের পর থেকে কাতারে এবং তারপর ভিয়েতনামে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন মারুফ জামান। পরে তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্ট্যাডিজে (বিআইএসএস) অতিরিক্ত মহাপরিচালক ছিলেন। ২০১৩ সালে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পর চাকরি থেকে অবসরে যান তিনি।

 

"