শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই উঠে আসবে নেতৃত্ব : প্রধানমন্ত্রী

আপনার মাঝে মায়ের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পাই : ভিপি নুর

প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদের নবনির্বাচিত নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ওঠে আসবে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই। সেজন্য স্কুল ক্যাবিনেট চালু করা হয়েছে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে ডাকসুর নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এসব কথা বলেন।

এদিকে ডাকসু নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে বলেন, ছোটবেলায় আমি মাকে হারিয়েছি। আপনার মাঝে আমি আমার মায়ের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পাই। তখন প্রধানমন্ত্রী তাকে পাশে বসান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পা ছুঁয়ে সালাম করেন ভিপি নুর। শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্ব ও উন্নয়নকাজ বিশ্বে তাকে প্রশংসনীয় অবস্থানে নিয়েছে উল্লেখ করে ভিপি নুর ডাকসু কার্যকরে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।

ডাকসু ভিপির বক্তব্য দেওয়ার পর আমন্ত্রিত নেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ডাকসু নির্বাচন যেন শান্তিপূূর্ণ হয়, এটা সবসময় বলেছি। ছাত্রছাত্রীরা যা চাইবে, তাই হবে। ভোট কে কত পেল, সেটা বড় নয়। যারা জয়লাভ করেছে, তাদের সবার কিন্তু এই বিবেচনা রাখতে হবেÑ কে ভোট দিল কে দিল না সেটা বিষয় নয়।

নির্বাচনে ভিপি পদে হেরে যাওয়া শোভনের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোটে হারার পর শোভন আমার কাছে এসেছে। আমি শোভনকে বলেছি, ভোটে হেরেছ, এবার যাও তাকে (নুর) অভিনন্দন জানাও। সে তা-ই করেছে। আমি এজন্য শোভনকে ধন্যবাদ জানাই। সে রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। তার দাদা এমপি ছিলেন, বাবা উপজেলা চেয়ারম্যান। সে তার রাজনৈতিক উদারতা দেখিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব খুঁজছি। সেটা ছাত্রজীবন থেকেই শুরু হলে ভালো। আমরা স্কুলজীবন থেকেই শুরু করেছি; ছোটবেলা থেকেই গণতন্ত্রের চর্চা থাকুক।

একসময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় অস্ত্রের ঝনঝনানি ছিল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, গুলি-বোমা ছিল প্রতিদিনকার ব্যাপার। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে, এক দলের নেতাকর্মীরা অন্য দলের নেতাকর্মীদের হত্যা করত। আমরা ক্ষমতায় এসে চিন্তা করলাম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় অস্ত্রের প্রতিযোগিতা কেন থাকবে?

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তো লেখাপড়ার জায়গা। ২০০৮ থেকে ২০১৮ এই ১০ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় অস্ত্রের ঝনঝনানি হয়নি। শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির আমল থেকে ডাকসু নির্বাচন বন্ধ ছিল। ডাকসু নির্বাচনটা চ্যালেঞ্জ ছিল আমাদের জন্য। আমরা সেটা করতে পেরেছি।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ঘোষণা দিয়েছিল আওয়ামী লীগকে শিক্ষা দিতে ছাত্রদলই যথেষ্ট। আমি ছাত্রলীগের হাতে কলম তুলে দিয়ে জবাব দিয়েছিলাম, অসির থেকে মসির জোর বেশি। সেটাই আমাদের প্রমাণ করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষার জন্য আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রসঙ্গ প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, যারা কোটা আন্দোলন করেছে, যুক্তি দিয়ে তাদের আন্দোলনের বিষয়টি বলতে হবে। কিন্তু ভিসির বাড়িতে আক্রমণ কেন? তার বেডরুম পর্যন্ত ঢুকে যাওয়া, ভিসির গাড়িতে আগুন দেওয়া কখনোই গ্রহণযোগ্য না। আমাদের সময়েও ভিসির বাড়ির সামনে অবস্থান-ধর্মঘট করা হতো। খুব বেশি কিছু হলে ভিসির বাড়ির ফুলের টবই ভাঙা।

সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের প্রসঙ্গ প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিউজিল্যান্ডে তিনজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। আমি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। পাশাপাশি এ ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের তীর্ব নিন্দা জানাই।

শনিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে একটি প্রাইভেট কারে চড়ে গণভবনের উদ্দেশে রওনা দেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতা ও নবনির্বাচিত ডাকসু ভিপি নুর। তার সঙ্গে একই গাড়িতে ছিলেন ডাকসুর নবনির্বাচিত সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হুসেন। সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সমন্বয়কারী হাসান আল মামুন জানিয়েছেন, রাইড শেয়ারিং কোম্পানির একটি গাড়িতে করে গণভবনে যান নুর ও আখতার।

ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে ডাকসুতে জয়ী নেতারা ক্যাম্পাস থেকে গণভবনে রওনা হন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে চড়ে। ডাকসুর নবনির্বাচিত জিএস গোলাম রাব্বানী ও এজিএস সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনও বাসে ছিলেন।

বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ভিপি নুর এবং সমাজসেবা সম্পাদক আখতার গণভবনে প্রবেশ করেন। গণভবনের ফটকে নেমেই জিএস রাব্বানীর সঙ্গে কোলাকুলি করেন নুর। এরপর একে একে সবাই ভেতরে ঢোকেন। ডাকসুর পাশাপাশি বিভিন্ন হল সংসদের নির্বাচিত নেতারাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গণভবনে যান।

 

"