রংমিস্ত্রির আড়ালে ভয়ংকর প্রতারক চক্র!

প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদেশি মুদ্রা বাজারমূল্যের চেয়ে কমে বিক্রির নামে ক্যাম্পে আসা গ্রামের সাধারণ হজযাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা করত চক্রটি। গতকাল শুক্রবার কারওয়ান বাজারের র?্যাব মিডিয়া সেন্টারে অর্থ আত্মসাৎকারী চক্রের সাত সদস্য সম্পর্কে এ তথ্য জানিয়েছেন র?্যাব-১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম।

গ্রেফতার হওয়া এ চক্রের প্রধান হলেন আবু শেখ (৩৮)। অন্য সদস্যরা হলেন শাহিন মাতব্বর, মহসিন মিয়া, আবুল বাশার, কামরুল শেখ, ইশারত মোল্লা ও আবদুর রহমান মোল্লা। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছে থেকে ১ হাজার ৫০০ রিয়েল, ১০টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। র?্যাব জানায়, এই প্রতারণাকারী চক্রের সাত সদস্যই রংমিস্ত্রি। তারা এ পেশার আড়ালে এ কাজ চালিয়ে আসছে। তারা বলেছে, রংমিস্ত্রি কাজের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে। তারপর বাসায় বয়স্ক ব্যক্তিদের কাছে রিয়াল দেখিয়ে অল্প দামে বিক্রি করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়।

র?্যাব-১-এর অধিনায়ক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতারক চক্রটি বিদেশি মুদ্রা (রিয়াল) বাজারমূল্যের চেয়ে, কমমূল্যে বিক্রি করতে হজযাত্রীসহ সাধারণ মানুষকে টার্গেট করত। এরই মধ্যে এই প্রতারণা করে চক্রটি লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চক্রটি জানিয়েছে, হজের মৌসুমে ক্যাম্পে আসা গ্রামের হজযাত্রীদের টার্গেট করত তারা। সৌদি রিয়ালের বড় এক বান্ডিলের ভেতরে সাদা কাগজ বা অন্যকিছু ঢুকিয়ে দিত। টাকা ও রিয়াল হাতবদলের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেখে ফেলবে বলে দ্রুত কাজ শেষ করত চক্রটি। পরবর্তী যখন ভিকটিম যাত্রী তার রিয়াল বান্ডিল খুলে গুনতে শুরু করত, তখন ২-৪টি ছাড়া ভেতরে সাদা কাগজ বা অন্য কিছু পেত।

সারোয়ার বিন কাশেম আরো বলেন, এ প্রতারক চক্রটি গুলশান বনানীর অভিজাত এলাকায়ও প্রতারণা করত। যানজটে আটকে থাকা বিভিন্ন প্রাইভেট গাড়িকে টার্গেট করে তাদের কাছে রিয়াল বিক্রির কথা বলত। এমন কৌশলে তারা রিয়াল রাখতে, বোঝার উপায় থাকত না। মনে হতো অনেক রিয়াল রয়েছে। কম দামে রিয়াল পাওয়ার আশায় অনেকেই তাদের ফাঁদে পা দেয়।

 

"