যেভাবে টাইগাররা বেঁচে যান আজ দেশে ফিরছেন

প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

অনেকেই ভাগ্যকে বিশ্বাস করেন না। তবে ভাগ্য সহায় থাকা বা না থাকা বলে একটি কথা প্রচলিত আছে ক্রিকেটে। জানিনা, সেই ভাগ্য বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সহায়তা করেছে কিনা। তবে গতকাল যেভাবে বেঁচে যান এই ক্রিকেটাররা, তাতে ভাগ্য সহায় আছে বলেই মনে করছেন বোদ্ধারা। প্রাণে বেঁচে যাওয়া ক্রিকেটাররা দেশে ফিরে আসছেন।

তড়িঘড়ি করে সে ব্যবস্থাও করা হয়েছে। আজ শনিবার সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের দুপুর ১২টার (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা) ফ্লাইটে দেশের বিমান উঠবেন টাইগাররা। গতকাল শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে জুমার নামে যাওয়া বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা হামলাস্থলের এক নারীর সতর্কবার্তায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে বেঁচে যান।

আজ শনিবার শুরু হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার চলতি সিরিজের তৃতীয় টেস্ট। কিন্তু ম্যাচটি সমঝোতার ভিত্তিতে বাতিল ঘোষণা করেছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।

এদিকে জনপ্রিয় ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি মোহাম্মদ ইসাম নিশ্চিত করেছেন টিম হোটেলে নিরাপদেই আছেন তামিম-মুশফিকরা। তিনি নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডকে বলেন, আমার মনে হয় না তারা এখন ক্রিকেট খেলার মতো অবস্থায় আছেন। তারা যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরতে চান।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে উপস্থিত থাকা বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটার তামিম ইকবাল নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে লিখেন, পুরো দল গোলাগুলির হাত থেকে বেঁচে গেল। খুবই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা, সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন। দলের ডেটা অ্যানালিস্ট শ্রিনিবাস তার টুইটার অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, মাত্রই এক বন্দুকধারীর হাত থেকে রক্ষা পেলাম। এখনো শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক হচ্ছে না। ভয় কাজ করছে সর্বত্র।

মারি ভিল্লাভারায়েন বলেন, আমি ঘটনার পরপরই ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা কিছু দেখেননি। তবে গুলির আওয়াজ শুনে হাগলি পার্ক দিয়ে মাঠে ফিরে গেছে। কোচিং স্টাফের সবাই টিম হোটেলেই ছিলেন। খেলোয়াড়রা গোলাগুলির শব্দ শুনেই দৌড়ে নিরাপদ স্থানে গেছেন।

অজ্ঞাত নারীর কল্যাণে বেঁচে গেলেন তামিম-মিরাজরা : মসজিদে ঢোকার ঠিক আগমুহূর্তে অজ্ঞাত এক নারী এসে তামিমদের সতর্ক করে জানান যে, মসজিদের ভেতরে গোলাগুলি হচ্ছে, এখন ভেতরে যাওয়া ঠিক হবে না। সেখানে উপস্থিত বাংলাদেশি সাংবাদিক জানিয়েছেন এমন তথ্য।

অজ্ঞাত সে নারী তখন গাড়ি চালিয়ে ফিরছিলেন ঘটনাস্থলের রাস্তা দিয়েই। তিনি নিজেও গুলিবিদ্ধ হন। কিছুদূর এগোনের পর তিনি যখন দেখতে পান বাংলাদেশ দলের বাস সে পথেই এগোচ্ছে, তখন সঙ্গে সঙ্গে জানান যে, সামনে গোলাগুলি হচ্ছে, এগোনো ঠিক হবে না।

সেই মহিলার সতর্কবার্তা শুনে তড়িঘড়ি করে টিম বাসের মধ্যে ঢুকে যায় বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা এবং শুয়ে পড়েন মেঝেতে। খানিক পরেই ঘটনাস্থলে থাকা নিরাপদ হবে না ভেবে তামিম-মিরাজরা বাস থেকে বেরিয়ে হাগলি পার্ক দিয়ে চলে যান ওভাল স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে।

উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম টুইট করেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ্?! ক্রাইস্টচার্চে হামলার ঘটনা থেকে আল্লাহ্? আজ আমাদের বাঁচিয়ে দিলেন। আমরা অনেক বেশি ভাগ্যবান। কখনোই এমন ঘটনার সম্মুখীন হতে চাই না। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।

অন্যদিকে টিভির পর্দায় এ হামলার খবর পেয়ে দেশে বসে মুষড়ে পড়েছিলেন দলের অন্যতম সিনিয়র সদস্য তামিম ইকবালের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা ইকবাল। দেখেছেন স্বামীর টুইট। যেখানে লেখা ছিল, ‘পুরো দল গোলাগুলির হাত থেকে বেঁচে গেল। খুবই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা, সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’ তামিমের কাছ থেকে এমন বার্তা দেখেই খানিক নির্ভার হন আয়েশা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দোয়া চেয়েছেন নিজের স্বামী ও তার সতীর্থদের জন্য।

বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় আছেন : এ ঘটনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, আমাদের ক্রিকেটাররা ভালো এবং সুস্থ আছেন। বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের ক্রিকেটারদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিচ্ছে। শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

যে দেশগুলো নিজেদের সন্ত্রাসমুক্ত বলে দাবি করে, সে দেশে এমন হামলা অনেক দুঃখজনক মন্তব্য করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিউজিল্যান্ডে আমাদের কোনো দূতাবাস নেই, যে কারণে বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ খবর নিতে হচ্ছে।

পরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজানের সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আমাদের দেশেও এ রকম সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল, সে হামলার খবরও আমরা আগে থেকে জানতাম না। একইভাবে নিউজিল্যান্ডে এ সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। এ রকমের হামলা আগে থেকে ধারণা করা মুশকিল। তাই এটিকে দুর্ঘটনাই বলা যায়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ক্রিকেটারদের কম নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে এমনটি আমার জানা নেই।

নিউজিল্যান্ডে এ হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা নিজেদের সন্ত্রাসমুক্ত দেশ বলে দাবি করে তাদের দেশেই মাঝে মধ্যে এমন ঘটনা ঘটে। আমরা ভালো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছি। আমাদের দেশে গত দুই তিন বছরে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুমার নামাজের কিছুক্ষণের মধ্যে দুটি মসজিদে একসঙ্গে হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। হামলায় যে অস্ত্রগুলো দিয়ে গুলি চালানো হয়েছে এগুলোতে সাইলেন্সার লাগানো ছিল বলে শব্দ হয়নি। হামলায় নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি এক নারী রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকা বিসিবির পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা দ্রুত দেশে ফিরে আসবেন। বিসিবির সভাপতি সঙ্গে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের আলোচনা হয়েছে। আজ-কালের মধ্যে ফিরে আসবেন ক্রিকেটাররা।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন অহমদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

"