বিএনপিতে ঐক্যফ্রন্টের লাভ-ক্ষতি

জামায়াত প্রশ্নেও অবস্থান স্পষ্ট হয়নি

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে গড়ে তোলা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের লাভ-ক্ষতি নিয়ে হিসাব কষছেন বিএনপির নেতারা। এ জোট গঠন, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং বর্তমানে এর প্রাসঙ্গিকতা নিয়েও প্রশ্ন অনেকের। তাছাড়া জামায়াতকে জোটে রাখা না রাখা নিয়েও দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগছেন বিএনপির নেতারা।

তাদের ভাষ্য, দলের রাজনীতি এখন অনেকটাই জোটকেন্দ্রিক। ২০-দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে বের হতে হবে। এজন্য নিজেদের মেধা, শ্রম ও অভিজ্ঞতা কাজে লাাগিয়ে দলকে শক্তিশালী করতে হবে। বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রাতে দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই মত দিয়েছেন তারা। বৈঠকে জোটসঙ্গীদেরও চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

আড়াই ঘণ্টাব্যাপী রুদ্ধদ্বার এ বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা দলের সাংগঠনিক অবস্থা ও জোটের রাজনীতির চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে প্রথমবারের মতো স্কাইপিতে যুক্ত হন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি সব নেতার বক্তব্য শোনেন। পরে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। জানা গেছে, বৈঠকে সবচেয়ে গুরুত্ব পেয়েছে ঐক্যফ্রন্টে থাকা না থাকার বিষয়টি। পাশাপাশি জামায়াতকে বিএনপি জোটে রাখা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তবে এই দুটি বিষয়ে তারেক রহমান নেতাদের বক্তব্য শুনলেও কোনো মত দেননি।

বৈঠকে উপস্থিত বিএনপির একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য জামায়াতকে ২০-দলীয় জোটে রাখার বিরোধিতা করে বলেন, জামায়াত নানা কারণে বিএনপির জন্য দায় হয়ে পড়েছে। এছাড়া কয়েক বছর আগে যে বাস্তবতায় জামায়াতের সঙ্গে জোট করা হয়েছিল সেটি আর এখন নেই। এখন জামায়াতের সাংগঠনিক ভিত্তিও নেই। আন্দোলনেও তাদের পাশে পাওয়া যায় না। এ অবস্থায় তাদের জোটে রেখে লাভ নেই।

আরেকজন স্থায়ী কমিটির সদস্য তাকে সমর্থন করে বলেন, জামায়াত বিএনপির জোটে থাকলে জোটের অপর সঙ্গীরাও আপত্তি তুলছে, বিষয়টি ভেবে দেখা দরকার।

তবে বৈঠকে উপিস্থত স্থায়ী কমিটির অপর এক সদস্য জামায়াত প্রসঙ্গে বলেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জামায়াতের সঙ্গে জোট করেছেন। জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত বিতর্কের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এসব প্রচার করা হয়েছে। একটি দেশের নাম উল্লেখ করে ওই নেতা বলেন, ওই দেশটি নানা অজুহাতে বিএনপিকে নসিহত করলেও তারা আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে কখনো কিছু করবে না। তাই জামায়াত বিষয়ে সরকার কোনো কিছু না করলে বিএনপির পক্ষ থেকেও কিছু করা ঠিক হবে না।

সূত্র জানায়, বৈঠকে দলের স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের নাম উল্লেখ না করে তার সমালোচনা করে বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল নাকি ভুল ছিল, তা ইতিহাস একদিন তুলে ধরবে। তবে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা প্রধানমন্ত্রী হবেন এ আশায় নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন। তখন ওই নেতাকেই শীর্ষ নেতা মেনে নেওয়া উচিত ছিল কিনা এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।

বিএনপিকে স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এখন নির্বাচন শেষ। এ নির্বাচনে যা অর্জন হওয়ার তা হয়েছে। তাই এবার এসব ঐক্যফ্রন্ট রাজনীতিকে বন্ধ করে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে, দলকে গোছাতে হবে। সারা দেশে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়াতে হবে বলেও তিনি মনে করেন।

বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ।

 

"