মা-মেয়ে হত্যা

চট্টগ্রামে প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার ৩

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামের আলোচিত মা-মেয়ে খুনের ঘটনায় প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত বুধবার রাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার আসামিরা হলেন মো. মুসলিম (২৫)। সে রাঙামাটি জেলার লংগদু থানার দক্ষিণ মরিশ্যারচর এলাকার মইয়ুব আলীর ছেলে, সাহাবুদ্দিন (৩৭) বাঁশখালি থানার শেখেরখিল সামাদ আলী শিকদার বাড়ির মৃত মোজ্জাফর রহমানের ছেলে এবং মো. মাসুদ রানা (৩৯) কুমিল্লা জেলার চান্দিনা থানার বাতাকাশি মধ্যমপাড়া কাজী বাড়ির মোহাম্মদ মনির হোসেনের ছেলে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই হত্যাকান্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) আমেনা বেগম।

সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, এই ঘটনার পর গত ২৩ জুলাই মৃত মনোয়ারা বেগমের নাতি মুশফিকুর রহমানকে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর তিনি মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। তবে তিনি ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ যুক্ত থাকার কথা আদালতে স্বীকার করেননি। পুলিশ মৃত মেহেরুন্নেছার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি উদ্ধার করার পর ঘটনার সঙ্গে একাধিক ব্যক্তি যুক্ত থাকার প্রমাণ পান।

গত ১২ মার্চ নগরীর আমাবাগান রেললাইনের পাশ থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত রাজমিস্ত্রি মুসলিমকে গ্রেফতার করেন নগর গোয়েন্দা পুলিশ। এই আসামিকে গ্রেফতারের পর হত্যাকান্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দেন তিনি।

নিজে যুক্ত থাকার পাশাপাশি হত্যাকান্ডের সঙ্গে আরো চারজন যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেন। এর মধ্যে দুই আসামির সম্পত্তির লোভ, দুই আসামির পূর্ব শত্রুতা এবং এক আসামি নগদ অর্থর জন্য এই হত্যাকান্ড ঘটান বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার দেওয়া তথ্য মতে, ১৩ মার্চ অন্য দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অন্য আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আসামিদের থেকে মৃত মেহেরুন্নেছার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) মিজানুর রহমান, গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মো. ইলিয়াছ খান প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৫ জুলাই নগরীর খুলশী এলাকায় সেপটিক ট্যাংক থেকে বাড়ির মালিক মেহেরুন্নেছা ও তার মা মনোয়ারা বেগমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় মুশফিকুর রহমানকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের নামে খুলশি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন মৃত মনোয়ার বেগমের ছেলে মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান। এই ঘটনায় একজন ছাড়া সব আসামি গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

 

"