রাজধানীর ৪ এলাকা নিয়ে উন্নয়নের নতুন পরিকল্পনা

* জলাশয় সংস্কার ও উন্নয়ন করা হবে * কমিউনিটি সেন্টার ও লাইব্রেরি নির্মাণ করা হবে * ডিএসসিসির ৯০০ কোটি টাকার প্রকল্প

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

হাসান ইমন

কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, পুরান ঢাকা এবং খিলগাঁও এলাকা নিয়ে নতুন করে উন্নয়নের পরিকল্পনা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এসব এলাকার আবর্জনায় ভর্তি জলাশয়গুলো সংস্কার ও উন্নয়ন করা হবে। নির্মাণ করা হবে ২১টি কমিউনিটি সেন্টার ও পাবলিক লাইব্রেরি। এ চার এলাকার ভাঙাচোড়া রাস্তাগুলো সংস্কার ও উন্নয়ন করা হবে। এছাড়া ডিএসসিসি এলাকার জলাশয়গুলোর পাড় বাঁধাই করে বেঁধে গাছ লাগানো হবে। এতে করে হাতিরঝিলের মতো প্রাকৃতিক পরিবেশ সুন্দর হবে। সঙ্গে সঙ্গে নগরবাসীর বিনোদন স্থান বাড়বে। এসব প্রকল্পে ডিএসসিসি খরচ করবে ৯০০ কোটি টাকা।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে রাজধানীতে দিন দিন তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন সমস্যা। যার প্রভাব পড়ছে নাগরিক জীবনে। তাই নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ৮৮০ কোটি টাকার প্রকল্পটি হাতে নিয়েছে ডিএসসিসি। প্রকল্পের নাম ‘ঢাকা নেইবারহুড আপগ্রেডিং প্রকল্প’। প্রকল্পটি চলতি বছরের ৫ মার্চ একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের জুন মাস নাগাদ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। প্রকল্পের আওতায় ডিএসসিসি এলাকায় ২১টি নতুন কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ করা হবে। এছাড়া বাসাবো, খিলগাঁও, লালবাগ এলাকায় তিনটি জলাশয় রয়েছে। যেগুলো বর্তমানে ময়লা আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছে, সেগুলো সংস্কার ও উন্নয়ন করে ব্যবহার যোগ্য করে তোলা হবে। ড্রেনের পানি মেশিনের মাধমে শোধন করে পুকুর বা জলাশয় ফেলা হবে। প্রকল্পের আওতায় ডিএসসিসি এলাকার ড্রেন সংস্কার করা হবে এবং কামরাঙ্গীচর, লালবাগ, পুরান ঢাকা এবং খিলগাঁও বাসাবো এলাকার যেসব রাস্তাঘাট ভাঙাচোরা সেগুলোর মেরামত করা হবে এবং নতুন রাস্তা তৈরি করা হবে। এছাড়াও এ প্রকল্পের আওতায় এসব এলাকায় কিছু পাবলিক টয়লেট, কমিউনিটি সেন্টার, কাম মাল্টিপারপাস বিল্ডিং নির্মাণ করা হবে যার ওপরে জিমনেশিয়ান বা লাইব্রেরি থাকবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য এসটিএস নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ডিএসসিসি এলাকাতে যেসব নদী, পুকুর বা ঝিল রয়েছে সেগুলোর উন্নয়ন করে দুই পাশে বাঁধাই করে দেওয়া হবে এবং দুই পাশে বিভিন্ন গাছ লাগানো হবে যাতে করে অবসরে মানুষ এখানে এসে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসে একটু সময় কাটাতে পারে।

এ বিষয়ে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, এসব এলাকার বর্তমান অবস্থা আমরা সার্ভে করে দেখেছি। ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ায় এখানে বড় কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব না। এছাড়া এখানে নতুন কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য জায়গারও সংকট রয়েছে। তাই এখানে বর্তমানে যে অবস্থা রয়েছে তার ওপরেই আমাদের কাজ করতে হবে। যেমন ডিএসসিসি এলাকাতে যেসব নদী, পুকুর বা ঝিল রয়েছে সেগুলোর উন্নয়ন করে দুই পাশে বাঁধাই করে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে দুই পাশে বিভিন্ন গাছ লাগানো হবে যাতে করে অবসরে মানুষ এখানে এসে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসে একটু সময় কাটাতে পারে। এছাড়া এলাকার যেসব রাস্তাঘাট ভাঙাচোরা ও ব্যবহার অযোগ্য রয়েছে সেগুলো ঠিক করা হবে। এবং নতুন রাস্তা তৈরি করা হবে। এছাড়াও এই প্রকল্পের আওতায় এসব এলাকায় কিছু পাবলিক টয়লেট, কমিউনিটি সেন্টার, কাম মাল্টিপারপাস বিল্ডিং নির্মাণ করা হবে যার ওপরে জিমনেশিয়ান বা লাইব্রেরি থাকবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য এসটিএস নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ বিষয়ে প্রকল্পর পরিচালক ও ডিএসসিসির প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পটি ৫ মার্চ একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করতে দেড় বছরের মতো সময় লাগবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এসব এলাকার নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি এলাকার চিত্র বদলে যাবে।

এই কর্মকর্তা আরো বলেন, নগরীতে দিনকে দিন জনসংখ্যা বাড়ছে। সেই হিসাবে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা সেভাবে বাড়ছে না। তাই নগরবাসীর জন্য কমিউনিটি সেন্টার, জিমনেশিয়াম, লাইব্রেরি, পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করতে এ প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা গেলে নগরবাসী নতুন করে কিছু সুযোগ-সুবিধা পাবে।

 

"