যশোর বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিং : ৯ ছাত্রকে বহিষ্কার

প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

যশোর প্রতিনিধি

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীকে র‌্যাগিং, যৌন নিপীড়ন ও বিকৃত যৌনচারে বাধ্য করায় ৯ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া তাদের অপরাধের বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ নির্দেশনা জারি করে বলে রেজিস্ট্রার আহসান হাবীব জানিয়েছেন। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে দুজনকে আজীবন, একজনকে দুই বছর এবং ছয়জনকে এক বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ও ভুক্তভোগী সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের ছাত্র।

রেজিস্ট্রার আহসান হাবীব সাংবাদিকদের বলেন, র‌্যাগিং, যৌন নিপীড়ন এবং বিকৃত যৌনাচারে বাধ্যকরণের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি ভুক্তভোগী ১২ জনসহ মোট ৪০ শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে। সন্দেহভাজন জড়িতদের সঙ্গেও তদন্ত কমিটি কথা বলেছে উল্লেখ করে হাবীব বলেন, এ ঘটনায় জড়িত ছাত্ররা তদন্ত কমিটির সদস্যদের সঙ্গে অসংলগ্ন, ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন এবং র‌্যাগিংয়ে জড়িত ছাত্ররা যে অপরাধ করেছেন এ বিষয়ে তারা অনুতাপ বা দুঃখ প্রকাশ করেননি।

প্রক্টর অফিসে অভিযোগ করায় র‌্যাগিংয়ের শিকার ছাত্রদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে অভিযোগ প্রত্যাহারে বাধ্য করানো হয়। এ সংক্রান্ত ফোন কলের রেকর্ডও তদন্ত কমিটির হাতে রয়েছে বলে হাবীব জানান। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে র‌্যাগিংরোধ ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাসহ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত কমিটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহিষ্কারের সুপারিশ করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আচরণবিধি অনুযায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আজীবন বহিষ্কৃত ছাত্ররা হলেন দ্বিতীয় বর্ষের অলি উল্লাহ ও মাহমুদুল হাসান। দুই বছরের জন্য চতুর্থ বর্ষের রজিবুল হক রজব এবং এক বছরের জন্য চতুর্থ বর্ষের আবদুল কাদের বহিষ্কৃত হয়েছেন। এক বছরের জন্য বহিষ্কৃতরা হলেন দ্বিতীয় বর্ষের আল মুজাহিদ আফ্রিদি, শহিদুল ইসলাম, রোকনুজ্জামান রোকন, অনুপ মালাকার ও শামীম বিশ্বাস। এছাড়া এ ঘটনায় পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগে চতুর্থ বর্ষের আবু বক্কর সিদ্দিকী, দ্বিতীয় বর্ষের শতদল পাল ও ইমরান হোসেনকে চূড়ান্তভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে অন্তত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ১২ জন শিক্ষার্থীকে র‌্যাগিং, যৌন হয়রানি ও বিকৃত যৌনাচারে বাধ্য করা হয়। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী উপাচার্য বরাবর অভিযোগ করলে কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

 

"