প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

হাসপাতালেই হবে চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস

প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাসপাতালে চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা যাতে হাসপাতালে বসেই প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারেন সেজন্য সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘সরকারি কর্মচারী হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদনের সময় প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এ দিন জামলাপুরে ‘শেখ হাসিনা নকশি পল্লী’সহ ছয় প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে একনেক। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ২ হাজার ৬৫০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। অর্থায়ন সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে আসবে। সভার পর ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সরকারি হাসপাতালেই যাতে চিকিৎসকরা একটা উইং (শাখা) নিয়ে বসে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারেন সেভাবেই হাসপাতালের অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। আপনারা বারডেমে দেখছেন একটা উইং আছে, স্পেশালিস্ট ডাক্তাররা বসেন। আমরা কেন এটা করব না।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, চিকিৎসক ও রোগীরা বাইরে বাইরে দৌড়ান। এখানেই (হাসপাতালে) তাদের একটা সুন্দর জায়গা দিয়ে দেন। এখানেই তারা প্র্যাকটিস করতে পারেন। যাতে চিকিৎসকদের বাইরে যেতে না হয় এবং রোগীরাও সরকারি হাসপাতালেই সেবা পান। তাই প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালের ভেতরই চিকিৎসকদের জন্য আলাদা চেম্বার করে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

মন্ত্রী মান্নান বলেন, একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালে ডে-কেয়ার সেন্টার, কিডনি, হার্ট, ক্যানসার ও পক্ষাঘাতগ্রস্তদের জন্য ব্লক তৈরি এবং রোগীরা যাতে আলো-বাতাস পান, এমনভাবে হাসপাতালের অবকাঠামো তৈরিরও নির্দেশ দিয়েছেন।

হাসাপাতালগুলোতে ডে-কেয়ার সেন্টারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, অনেক নার্স বা সিস্টাররা আছেন, তাদের সন্তান থাকতে পারে। রোগীও আছেন, শিশু কোলে নিয়ে আসেন, এদের জন্য একটা ডে-কেয়ার সেন্টার করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া কিডনি, হার্ট, ক্যানসার ও পক্ষাঘাতগ্রস্তদের জন্য আলাদা আলাদা ব্লক তৈরি করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এটা কিন্তু রাতারাতি হবে না। তবে করতে হবে এখন থেকে। এগুলোর করার জন্য উইশ করেছেন। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের যে ধরনের ডিজাইন, দেখলে মনে হয় বাসা বা ফ্ল্যাট। মানে একটা হোটেল হোটেল ভাব। প্লেনে যারা ঢাকায় এসেছেন, তারা বলেছেন, বন্দর বন্দর মনে হয় ঢাকাকে। হাজার হাজার কনটেইনার যেন ওপর থেকে মনে হয়।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এটা পরিবর্তন করুন, ডিজাইনটা একটু সুন্দর করুন। খোলামেলা করুন। রোগীরা যাতে আলো-বাতাস পেতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করুন। প্রয়োজনে ব্যাংককে, চেন্নাইয়ে বাইরের দেশগুলোতে ভালো ভালো হাসপাতাল আছে, সেগুলো দেখে আসুন, তারা কীভাবে বিল্ডিংগুলো করছে, দেখুন।

জামালপুরে ৩০০ একর জমিতে নির্মাণ করা হবে ‘শেখ হাসিনা নকশি পল্লী’। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭২২ কোটি টাকা। অন্য প্রকল্প হলো-সরকারি কর্মচারী হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণ প্রকল্প, এর খরচ ধরা হয়েছে ৩৭৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। বরিশাল-ভোলা-লক্ষীপুর জাতীয় মহাসড়কের বরিশাল হতে ভোলা হয়ে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩১২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। শরীয়তপুর-ইব্রাহিমপুর ফেরিঘাট পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৫৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। নীলফামারী-ডোমার সড়ক ও বোদা-দেবীগঞ্জ সড়ক এবং ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর যথাযথ মানে উন্নীতকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৫০ কোটি ২৪ লাখ টাকা এবং লেবুজাতীয় ফসলের চাষের সম্প্রসারণ, ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পে ব্যয় হবে ১২৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরে (২০১৮-১৯) আট মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন হয়েছে ৩৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। এতে মোট ব্যয় হয়েছে ৭০ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা।

 

"