রোকেয়া হলের ঘটনা সাজানো নাটক

ছাত্রলীগ

প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রোকেয়া হলে ট্রাংকে যে ব্যালট পেপার পাওয়া গেছে, তার সঙ্গে আসল ব্যালটের কোনো মিল নেই। এটা সাজানো নাটক বলে দাবি করেন ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের জিএস প্রার্থী গোলাম রাব্বানী। একে ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে তার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়েছে ছাত্রলীগ। গতকাল সোমবার মধুর ক্যান্টিনে সংগঠনের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান গোলাম রাব্বানী।

গোলাম রব্বানী বলেন, ‘রোকেয়া হলে সাদা কালো অফসেটের যে ব্যালট পেপার পাওয়া গেছে, তার সঙ্গে অরিজিনাল ব্যালটের কোনো মিল নেই। ক্রস দেওয়া হয়েছে সেটারও কোনো মিল নেই।’ তিনি বলেন, ‘রোকেয়া হলে ভোটকেন্দ্রের বাইরে অতিরিক্ত ব্যালট পেপারগুলো নিরাপত্তার জন্যই অন্য একটি কক্ষে রাখা হয়েছিল।’

গোটা বিষয়টিই নূর-লিটনের ষড়যন্ত্র দাবি করে ছাত্রলীগের ভিপি প্রার্থী রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, এটা এক ষড়যন্ত্রের অংশ। নাটক সুন্দর করে মঞ্চস্থ করা হয়েছিল। আগের রাতে তারা এক হয়েছিল। ছাত্রলীগকে ঠেকানোর জন্য সবাই এক হবে সহজেই অনুমেয়। তারা হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দিয়েছে।

বাম সংগঠনগুলোর প্যানেলের ভিপি প্রার্থী ছাত্র ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী, কোটা আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ভিপি প্রার্থী নুরুল হক নূর ও জিএস প্রার্থী রাশেদ খানকে মামলায় আসামি করা হবে বলে ছাত্রলীগ নেতারা জানিয়েছেন। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ‘ষড়যন্ত্র’ করায় তাদের ছাত্রত্ব বাতিল ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিও তুলেছে সরকার সমর্থক সংগঠনটি।

রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, যারা ভোট বর্জনের কথা বলছেন তারা নাটকটি সুন্দর করে মঞ্চস্থ করতে চেয়েছিলেন। তাদের প্রতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমর্থন নেই বুঝে তারা একটি সেফ এক্সিট খুঁজছিল।

কুয়েত মৈত্রী হলসহ বিভিন্ন ঘটনায় ভোট দিতে না পারা এবং বাধা দেওয়া হয়েছে বলে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে রাব্বানী বলেন, ‘কোন হলে কাকে বাধা দেওয়া হয়েছে সুনির্দিষ্টভাবে বলতে হবে। আমরা শতভাগ ভোট কাস্ট হোক সেটা চেয়েছি। সবাই যেন ভোট দিতে পারে সেজন্য আমরা আন্তরিক ছিলাম। যেখানেই অভিযোগ শুনেছি, আমরা ছুটে গিয়েছি এবং সমাধানের চেষ্টা করেছি।’

রেজওয়ানুল হক শোভন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রগতিশীল ছাত্র জোট, শিক্ষার্থী অধিকার আন্দোলনের প্রার্থীরা ভোট বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের যে দাবি তুলেছেন, তা ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দেন ছাত্রলীগ নেতারা। শোভন বলেন, গত ১০ বছরে ঢাবিতে শিক্ষার পরিবেশ সুন্দর রাখতে ছাত্রলীগের ভূমিকা রয়েছে।

ক্যাম্পাসের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখার স্বার্থে যা করণীয়, আমরা তা-ই করব। কাউকে এস্টাব্লিশ করব না, যার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে ভয়ভীতি সৃষ্টি হয়, শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট হয়।

ছাত্রলীগের প্রার্থীদের ভোট দেওয়া ওই ব্যালট পেপার উদ্ধারের ঘটনায় কুয়েত মৈত্রী হলের ভারপ্রাপ্ত প্রাধ্যক্ষকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এ নিয়ে রাব্বানী বলেন, কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে বিষয়ে আমাদের কোনো কথা নেই। ছাত্রদের ১৩টি হলে ভোটগ্রহণ নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই বলে দাবি করেন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক।

ভোটকেন্দ্রে প্রভাব খাটানোসহ যেসব অভিযোগ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এসেছে, তা প্রত্যাখ্যান করেন সংগঠনটির নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগের ঢাবি শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস, ডাকসুতে এজিএস প্রার্থী ও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনও অন্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

 

"