দুদকের প্রতিবেদন

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ৩৩ খাতে দুর্নীতি

প্রকাশ | ১২ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ৩৩ খাতে দুর্নীতির আশঙ্কা করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের এক প্রতিবেদনে দুর্নীতির এই খাতগুলো চিহ্নিত করা হয়। সংস্থাটি বলছে, এর মধ্যে ২১ খাতে পদক্ষেপ নিলে দুর্নীতি বন্ধ হবে। গতকাল সোমবার বিকেলে শেরেবাংলা নগরে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের হাতে প্রতিবেদনটি তুলে দেন দুদক কমিশনার মো. মোজাম্মেল হক খান। সরকারি সেবা প্রদানের প্রক্রিয়াকে পদ্ধতিগত সংস্কারের মাধ্যমে ঘুষ-দুর্নীতি, দীর্ঘসূত্রিতা এবং জন হয়রানি বন্ধে দুদকের গঠিত টিম এই প্রতিবেদন তৈরি করে।

এই বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার ছিল দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া। আমরা এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সহায়তা করব। অর্থ মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি হওয়ার আগে প্রতিরোধ করব। আমার মন্ত্রণালয়ে বড় কর্মকর্তা থেকে শুরু করে নিম্ন পর্যায় পর্যন্ত কেউ যেন দুর্নীতি না করতে পারে সেই বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, ৩৩ খাতে দুর্নীতি হয় এমন নয়। এসব খাতে সব কাজ যেন স্বচ্ছতা নিয়ে হয় সেই বিষয়ে পদক্ষেপ নেব। আমরা হারাম কাজ থেকে দেশকে মুক্ত করব। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দুর্নীতি মুক্ত দেশ গড়ব।

দুদক কমিশনার বলেন, যেখানে সেবা ও কেনাকাটা আছে সেখানে দুর্নীতি হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ৩৩ খাতে দুর্নীতির সুযোগ থাকে। এর মধ্যে ২১টি খাতে পদক্ষেপ নিলে দুর্নীতি বন্ধ হবে।

তিনি বলেন, কমিশন ২০১৭ সালে ২৫টি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে ২৫টি প্রাতিষ্ঠানিক টিম গঠন করে। প্রতিটি টিমকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান আইন, বিধি, পরিচালনা পদ্ধতি, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ অপচয়ের দিকগুলো বিশ্লেষণ করে এসব প্রতিষ্ঠানের জনসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সফলতা ও সীমাবদ্ধতা, আইনি জটিলতা, সেবা গ্রহীতাদের হয়রানি ও দুর্নীতির কারণ চিহ্নিত করে তা বন্ধে সুপারিশ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়। একইসঙ্গে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিশনে প্রস্তাব পেশ করতে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

দুদক কমিশনার বলেন, যেমন পেনশন দেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতির সুযোগ থাকে। মানুষের ভিজিট যেখানে বেশি সেখানে দুর্নীতির সুযোগও বেশি। অর্থমন্ত্রীর সততা নিয়ে আমাদের গর্ব আছে। আমার বিশ্বাস অর্থমন্ত্রী এসব বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন।

 

"