চলচ্চিত্র শিল্পীরা স্বাধীনতার দাবি সমর্থন করেন

প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

একাত্তরের মার্চ মাসের সেই অগ্নিঝরা আন্দোলনমুখর একেকটি দিন ছিল একেকটি নতুন ইতিহাস সৃষ্টির দিন। আজ ১২ মার্চ। এই দিনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী পরিষদের এক সভায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে সাংবাদিক সমাজকেও এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হবার আহ্বান জানানো হয়। চলচ্চিত্র এবং চিত্রশিল্পীরাও প্রত্যক্ষ সমর্থন করে স্বাধীনতা আন্দোলনে শরিক হন। এদিন স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এক ঘোষণায় পাকিস্তানের জাতীয় সংগীত ‘পাকসার জামিন’ বাতিল করে ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ এই রবীন্দ্র সংগীতকে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

সকালেই একটি ভ্রাম্যমাণ স্কোয়াড নিয়ে বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ও সুরকার আপেল মাহমুদ ঢাকাজুড়ে রাস্তায় রাস্তায় এই সংগীত পরিবেশন করেন। তখন তার সঙ্গে ছিলেন বিশিষ্ট গীতিকার ফজলে খোদা ও বেতারের কয়েকজন সংগীতশিল্পী। এদিকে বগুড়ার জেল ভেঙে ২৭ জন কয়েদি বেরিয়ে আসেন। পুলিশের গুলিবর্ষণে একজন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়। বিকেল ৩টায় ২৪টি সরকারি, আধা-সরকারি ও সায়ত্তশাসিত সংস্থার ইউনিয়নের সমন্বয়ে কাউন্সিল বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সামনে গণজমায়েত করে। বিকেল ৪টায় ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের পৃথক পথসভা ও খন্ড মিছিল, ৫টায় ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) সদরঘাটে পথসভা গণজমায়েত করে। রাতে কাকরাইলে আর্মড সার্ভিসেস বোর্ড অফিসে দুটো বোমা নিক্ষেপ করা হলে আগুন ধরে যায়। এই পরিস্থিতিতে বেশকিছু জার্মান ও ব্রিটিশ নাগরিক ঢাকা ত্যাগ করলেও ঢাকায় বিদেশি কূটনীতিক মিশনের লোকেরা ‘বাংলা’ ছাড়ার চিন্তা করছিলেন না। এদিনও মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, আতাউর রহমান খান, ন্যাপ নেতা অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ পৃথক বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ক্ষমতা হস্তান্তর করে অবিলম্বে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার আওতাধীন এবং তার মাধ্যমে পাকিস্তানের ঐক্য ও সংহতি রক্ষার আহ্বান জানান।

 

"