ভারত-বাংলাদেশ ৪ প্রকল্প উদ্বোধন

বন্ধুত্ব আরো এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় শেখ হাসিনা-মোদির

প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক আরো এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। গতকাল সোমবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশে চারটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুই নেতা এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে আর নরেন্দ্র মোদি দিল্লিতে তার কার্যালয়ে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘নতুন ও অপ্রচলিত খাত যেমন ব্লু ইকোনমি ও মেরিটাইম, পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, মহাকাশ গবেষণা, ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ রফতানি, সাইবার সিকিউরিটি প্রভৃতি খাতে উভয় দেশ সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করেছে। এসব বহুমাত্রিক সহযোগিতা আমাদের সম্পর্ক এক অপরের সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক তৈরি করেছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

দুপুর সোয়া ১টার দিকে ভিডিও কনফারেন্স শুরু হয়। কনফারেন্সের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। এরপর বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক, বহুপক্ষীয় সহযোগিতার মাধ্যমে আমাদের এ অঞ্চল ও এর বাইরে সন্ত্রাসবাদ দূর করতে আমরা বদ্ধপরিকর। বাংলাদেশ সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের প্রতি শূন্য সহনশীলতার নীতি পোষণ করে। কোনো সন্ত্রাসবাদী সংগঠনকে কখনোই বাংলাদেশের মাটিতে আশ্রয় দেওয়া হবে না। টানা তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর আপনার সঙ্গে আমার এটাই প্রথম ভিডিও কনফারেন্স। বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে আমাদের বিজয় ঘোষণার পরপরই আমাকে ও আমার দলকে অভিনন্দন জানানোর জন্য আপনাকে আবারও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দ্বিতীয় লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) আওতায় ভারত থেকে দোতলা বাস, একতলা এসি ও নন-এসি বাস এবং ট্রাক আমদানি; ভারতীয় আর্থিক অনুদানে পাঁচ জেলায় (জামালপুর, শেরপুর, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া) ৩৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন; ভারতীয় অনুদানে বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়ায় ১১টি পানি শোধনাগার স্থাপন এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোতে ভারতের ন্যাশনাল নলেজ নেটওয়ার্ক (এনকেএন) সম্প্রসারণের আওতায় বাংলাদেশে ওই নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণের উদ্বোধনে অংশগ্রহণ করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার বহুমাত্রিক সহযোগিতার ফলে প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরো মজবুত হলো।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভারত থেকে বিআরটিসির জন্য বাস পাওয়ায় আমাদের দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার আরো উন্নয়ন হবে। এছাড়া যানবাহন সংকটেরও অনেকটা সমাধান হবে। যাত্রীদের দুর্ভোগ কমবে। পানি শোধনাগার, কমিউনিটি ক্লিনিকসহ অন্য যেসব প্রকল্পের উদ্বোধন হলো, সেগুলো বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণে আসবে।’ প্রধানমন্ত্রী আগামী ১১ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদির সাফল্য কামনা করেন।

অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদি শুভেচ্ছা বক্তব্যে উল্লেখ করেন, পরিবহন সেক্টরসহ বিভন্ন সেক্টরে আমরা বাংলাদেশকে যে সহযোগিতা করছি তাতে বাংলাদেশের মানুষ উপকৃত হবে। এসব সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরো মজবুত হবে। শেখ হাসিনার সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা গৌরবের বলেও মনে করেন মোদি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য যে কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন আমি তার সফলতা কামনা করি। আগামী নির্বাচনে আবার ক্ষমতায় আসতে পারলে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তিনি বাংলায় বলেন, ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্ব চিরজীবী হোক।

বিআরটিসি সূত্র জানায়, ভারত থেকে প্রাপ্ত ঋণে কেনা ৬০০ বাস ও ৫০০ ট্রাকের মধ্যে ৩০০টি ডাবল ডেকার, ১০০টি নন-এসি, ১০০টি সিটি-এসি ও ১০০টি ইন্টারসিটি এসি বাস। ট্রাকগুলোর মধ্যে ৩৫০টি ১৬ দশমিক ২ টন বহন ক্ষমতাসম্পন্ন এবং ১৫০টি ১০ দশমিক ২ টন বহন ক্ষমতাসম্পন্ন। এখন পর্যন্ত ৪৭টি বিআরটিসি বাস ও ২৫টি ট্রাক বাংলাদেশে পৌঁছেছে। বাকি বাস ও ট্রাক চলতি বছরের জুনের মধ্যে পৌঁছাবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, দুই প্রধানমন্ত্রী ভারত সরকারের অনুদানের আওতায় জামালপুর, শেরপুর, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক উদ্বোধন করেন। বাকি যেসব প্রকল্পের উদ্বোধন হয় সেগুলো হলোÑ পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া পৌরসভায় ১১টি পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট এবং সার্ক দেশগুলোতে ন্যাশনাল নলেজ নেটওয়ার্ক (এনকেএন) সম্প্রসারণের আওতায় বাংলাদেশে এনকেএন সম্প্রসারণ।

 

"