একনজরে নির্বাচন

প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসু একসময়ের দ্বিতীয় সংসদ হিসেবে পরিচিতি পেলেও দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে অকার্যকর ছিল। তবে আজকের ভোটের মধ্য দিয়ে সে অবস্থার পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে।

১৯২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাসু) সৃষ্টি করা হয়। এটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক কার্যকলাপের উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি পায়। ওই সময় প্রতিটি ছাত্র এক টাকা দিয়ে সদস্য হতে পারতেন। সে সময়র তিনটি হলÑ ঢাকা হল, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ও জগন্নাথ হল। প্রতিটি হল থেকে একজন করে শিক্ষক ও ছাত্র প্রতিনিধি এবং উপাচার্য মনোনীত একজন শিক্ষক নিয়ে সংসদ গঠন করা হতো। তখন থেকেই সহসভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক

ছাত্র প্রতিনিধিদের মধ্য থেকেই নির্বাচন করা হতো। এ সময় ছাত্র সংসদের কার্যক্রম শুধু সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তখন ছাত্র সংসদ সাধারণ মিলনায়তন পরিচালনা, বিতর্ক সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করত।

ডাসু থেকে ডাকসু

১৯৫৩ সালে গঠনতন্ত্র সংশোধন করা হয়। নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।

ডাকসু গঠনতন্ত্র ও সংশোধন : ১৯২৫ সালের ৩০ অক্টোবর সংসদের সাধারণ সভায় খসড়া গঠনতন্ত্র অনুমোদন করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী পরিষদ অনুমোদন করলে তা কার্যকর হয়। এতে ছাত্র প্রতিনিধি ও মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত পরিষদ কর্তৃক কর্মকর্তা নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়।

১৯৩৯ সালে গঠনতন্ত্র সংশোধনের মাধ্যমে বলা হয় মুসলমান হল থেকে সহসভাপতি হলে হিন্দু হল থেকে সাধারণ সম্পাদক কিংবা হিন্দু হল থেকে সহসভাপতি হলে মুসলমান হল থেকে সাধারণ সম্পাদক হবে। সাম্প্রদায়িক প্রভাবের কারণে এই সংশোধন করা হয়। আর গঠনতন্ত্রে এই সংশোধনের মধ্য দিয়ে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের উপশম হয়।

১৯৪৪-৪৫ সালে বিশ্ব নির্বাহী পরিষদ আরেকটি সংশোধন অনুমোদন করে। চারটি হলের প্রতিটি থেকে চারজন করে ষোলোজন এবং মেয়েদের মধ্য থেকে একজন ছাত্রী প্রতিনিধি ছাত্রছাত্রীরা সংসদের জন্য নির্বাচন করতে পারতেন। এ ১৭ জনের পরিষদ থেকে একজন ভিপি ও একজন জিএস নির্বাচিত হতেন।

১৯৫৩ সালে পুনরায় গঠনতন্ত্রে সংশোধন করা হয়। নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ডাকসু। উপাচার্যকে সভাপতি এবং ১৬ ছাত্র প্রতিনিধি থেকে ১০ কর্মকর্তা নির্বাচনের ব্যবস্থা রাখা হয়। কোষাধ্যক্ষ থাকতেন একজন শিক্ষক।

১৯৯১ সালের ১৭ জুন সিন্ডিকেটের সভায় একটি সংশোধনী আনা হয়। এতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা প্রিলিমিনারি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল আর্টসের ডিগ্রি পাস কোর্স, বিএফএ, বিবিএ, ডিপ্লোমা, পরিসংখ্যান ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সিনিয়র সার্টিফিকেট কোর্সের শিক্ষার্থীরা ভোটার হতে পারবেন। কিন্তু তাদের মধ্যে যারা কোনো কোর্সে শিক্ষাবিরতি দিয়ে পুনঃভর্তি হয়েছেন বা ফি দেওয়ার সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে, তারা সে সুযোগ পাবেন না। ১৯৯৮ সালে সর্বশেষ ডাকসু গঠনতন্ত্রের সংশোধন করা হয়েছিল।

ডাকসু গঠনতন্ত্রে বলা হয়েছে, ডাকসু নির্বাচনের পর মাত্র এক বছর তার কার্যকারিতা থাকবে। এ সময়ের পর যদি ডাকসু নির্বাচন না হয়, তবে তিন মাস পর্যন্ত কার্যকারিতা থাকবে। এরপর ডাকসু বাতিল হয়ে যাবে। আর কেবল নিয়মিত ছাত্ররাই ডাকসুর কর্মকর্তা কিংবা সদস্য হতে পারবেন। যদি ডাকসুর কর্মকর্তা নির্বাচিত হওয়ার পর কারো ছাত্রত্ব শেষ হয়ে যায়, সঙ্গে সঙ্গে ডাকসু হতে তার পদও বাতিল হয়ে যাবে।

সর্বশেষ চলতি বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন করার লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমানকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটি গঠন করা হয়। গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটি গত বৃহস্পতিবার ১৩টি ছাত্র সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে সোমবারের মধ্যে লিখিত প্রস্তাব দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

ডাকসু ভবন : ডাকসু প্রতিষ্ঠার শুরুতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন পুরোনো কলাভবনে ডাকসু অফিসের কার্যক্রম চালানো হতো। ১৯৬২ সালে নীলক্ষেত সংলগ্ন কলাভবনের শিক্ষাকার্যক্রম শুরু হলে ডাকসু অফিস কলাভবনের পূর্বদিকের নিচতলায় স্থানান্তর করা হয়।

১৯৮০ সালে কলাভবনের পূর্ব-দক্ষিণের কোণে (জাপান স্টাডিজ যেখানে ঠিক সেখানে) ডাকসুর অফিস কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৮২ সালে আলাদা ডাকসু ভবন নির্মাণ করা হয়। তখন থেকে বর্তমান মধুর ক্যান্টিনের সামনে ডাকসুর নিজস্ব ভবনে ডাকসুর দাফতরিক কার্যক্রম শুরু হয়।

 

"