ধর্ষকদের নাম পরিচয় ভালোভাবে প্রচার করুন

প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধর্ষকের প্রতি যেন সবার ঘৃণা জন্মায় সেজন্য তাদের নাম-পরিচয় ‘ভালোভাবে’ প্রকাশের আহ্বান

জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আজকাল আমরা দেখি প্রায়ই শিশু ধর্ষণ ও নারী ধর্ষণ। এটা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। যারা করে তারা সমাজের শত্রু। তাদের প্রতি ঘৃণা। এভাবে তাকে একেবারে সমাজ থেকে বের করে দেওয়া প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে গতকাল শনিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্যে এই আহ্বান জানান তিনি।

ধর্ষণকারীর শাস্তি নিশ্চিতে সরকারের সচেষ্ট থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা জানেন এরই মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের শাস্তির ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি। ধর্ষণকে বিশ্বব্যাপী সমস্যা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমনকি উন্নত সভ্য দেশেও এই সমস্যাটা কিন্তু রয়েছে। এর বিরুদ্ধে আরো জনমত সৃষ্টি করা দরকার। নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করতে জনসচেতনতার ওপর জোর দেন তিনি। একটা কথা মনে রাখতে হবে, শুধু আইন করলে সহিংসতা বৈষম্য দূর হবে না। এজন্য সমাজের সচেতনতা সৃষ্টি করা একান্তভাবে দরকার। দেশকে গড়ে তুলতে নারী-পুরুষ সবাইকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, একটা কথা মনে রাখতে হবে, সমাজের অর্ধেক যেখানে নারী তাদের বাদ রেখে একটা সমাজ কখনো গড়ে উঠতে পারে না। সেক্ষেত্রে সবাইকে এক হয়ে কাজ করা সব থেকে প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।

বক্তব্যের শেষে শেখ হাসিনা বলেন, যে সম্মাননাই পাই না কেন সবই আমার দেশের মানুষের। আজকে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে যেই সম্মাননাটা পেয়েছি, সেটা আমি উৎসর্গ করে যাচ্ছি আমার বাংলাদেশের মা-বোনদের, বিশ্বের সব নির্যাতিত নারীদের।

তিনি বলেন, একটা সমাজকে যদি গড়ে তুলতে হয় আর সেই সমাজের যেখানে অর্ধেকই নারী, তাদের বাদ রেখে একটা সমাজ কখনো গড়ে উঠতে পারে না। কাজেই সেক্ষেত্রে সবাইকে এক হয়ে কাজ করাÑ এটাই সব থেকে বেশি প্রয়োজন।

বর্তমান সরকার নারীর ক্ষমতায়নে সমাজের সর্বস্তরে পুরুষের পাশাপাশি তাদের সমঅধিকার নিশ্চিত করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী নারী সমাজকে নিজের ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে নিজেদেরই সক্ষমতা অর্জনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যদিও ক্ষমতা দিয়েছি (স্থানীয় সরকারে) তবুও তারা সব জায়গায় ক্ষমতাটি প্রয়োগ করতে পারেন না। যারা দায়িত্বে আছেন (স্থানীয় সরকারে) তাদের নিজেদের ক্ষমতাটা নিজেদের অর্জন করে নিতে হবে। কেউ (ক্ষমতা) কখনো হাতে তুলে দেয় না, এটা হলো বাস্তবতা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার আইনে আমরা এক তৃতীয়াংশ নারী আসনের ব্যবস্থা করেছি। ইউনিয়ন এবং উপজেলাসহ সব জায়গায় একজন চেয়ারম্যানের সঙ্গে ভাইস চেয়ারম্যানের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।

শিশু এবং নারী ধর্ষণকে অত্যন্ত গর্হিত একটি অপরাধ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ধর্ষিতা নারীর পরিচয় গোপন রেখে ধর্ষণকারীকে সমাজের সবার কাছে তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কন্যাশিশুরা যেন কোনোভাবেই বৈষম্যের শিকার না হয় সেই সচেতনতাটা আমাদের সমাজে এরই মধ্যে এসে গেছে। আর আমি এটাই মনে করি সমাজকে গড়ে তুলতে হলে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবারই একান্তভাবে কাজ করা দরকার।

‘বিশ্বে যা কিছু সৃষ্টি চির কল্যাণ কর, অর্ধেক তার আনিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর,’Ñ

কাজী নজরুলের কবিতার এই পঙ্ক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যে সমঅধিকার সেই অধিকারের কথা তিনি স্পষ্টভাবে বলে গেছেন। কাজেই সমাজ ও দেশেকে কল্যাণময় করতে হলে নারী-পুরুষের একসঙ্গে কাজ করাটা জরুরি।’

অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি, মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন্নাহারও বক্তব্য দেন।

 

"