অনিয়ম পেলেই কেন্দ্র বন্ধ

প্রথম ধাপের ৭৮ উপজেলায় ভোট আজ

প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

গাজী শাহনেওয়াজ

পাঁচ বছর পর স্থানীয় স্তরের উপজেলা পর্যায়ের ভোটগ্রহণ আজ রোববার থেকে শুরু হচ্ছে। পঞ্চম উপজেলা পরিষদেও এ নির্বাচন পাঁচ ধাপে সম্পন্ন হবে। স্থগিত ও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে ৭৮ উপজেলায় ভোট হবে। এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছিল ৮৬টিতে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ ভোট আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। ভোটারদের নির্বিঘেœ ভোটদানের জন্য নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ভোটের নির্বাচনী সামগ্রী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে গতকাল পুলিশি পাহারায় কেন্দ্রে নিয়ে যান কর্মকর্তারা। গত শুক্রবার থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন শুরু করেছে। ভোটকেন্দ্রের ভেতর-বাইরের নিরাপত্তায় থাকবে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন থেকে কিছুটা তফাৎ থাকছে এবারের নির্বাচনে। বিএনপি প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করায় একতরফা হয়ে উঠেছে এ নির্বাচনটি। তবে ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় কোন্দল সৃষ্টি হয়েছে নির্বাচনকে ঘিরে। প্রতীক পরিচয় আলাদা হলেও দলীয় পরিচয়ে সব প্রার্থী সমান এ বিবেচনায় কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। ফলে বিএনপির অংশগ্রহণবিহীন নিরুতাপ নির্বাচনেও ভোটের উত্তাপ দেখা যাচ্ছে। এ উত্তাপের আঁচ লেগেছে নির্বাচন কমিশনেও। শঙ্কামুক্ত নির্বাচন হবে, এ ঘোষণা দুই দিন আগে ইসি থেকে দেওয়া হলেও দলীয় কোন্দলের এ নির্বাচনে কমিশনকে নড়েচড়ে বসতে হয়েছে। নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না, এ ঘোষণা দিয়ে কমিশন থেকে বলা হয়েছে, অনিয়মের প্রমাণ মিললেই বন্ধ করে দেওয়া হবে নির্বাচন। আর খোদ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে উস্মা প্রকাশ করে বলেন, দিন দিন নির্বাচনের পরিবেশ অবনতির দিকে যাচ্ছে।

নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করা হয় কমিশন থেকে। গতকাল কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেসুর রহমান অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের কথা জানিয়ে বলেন, যদি কোথাও কোনো রকম অনিয়ম দেখা যায়, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে সেই কেন্দ্রের নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়া হবে। এরই মধ্যে এ বিষয়ে কমিশন সংশ্লিষ্টদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাচন হচ্ছে একটি স্থানীয় নির্বাচন। প্রার্থীরা যথেষ্ট তৎপর থাকেন। তারা সেভাবে প্রচার ও ক্যাম্পেইন করেছেন। আমরা মনে করি, এই নির্বাচনে উপস্থিতির হার অনেক বেশি হবে।

কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কি কোনো নজির আছে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেক সময় কিন্তু হয়েছে। একেবারে যে হয়নি তা না। অনেক সময় আমরা করেছি। স্পেসিফিক যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। অবশ্যই আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি।

কমিশনের এই হুশিয়ারি উচ্চারণের মধ্যে গতকাল সমাজকল্যাণমন্ত্রীর এপিএস মিজান নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার খাটানোর অভিযোগে লালমনিরহাটে ইসি বাদী হয়ে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ৪৮০টির বেশি উপজেলায় পাঁচ ধাপে ভোট হবে। যার প্রথম ধাপে ভোট ১০ মার্চ অর্থাৎ আজ রোববার হচ্ছে। বাকি ধাপগুলোর মধ্যে ১৮ মার্চ, ২৩ মার্চ ও ৩১ মার্চ। শেষ ধাপের ভোট হবে আসন্ন ঈদুল ফিতরের পর সুবিধাজনক সময়ে।

ইসি সচিবালয় জানিয়েছে, ৭৮ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ কোটি ৪২ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫০ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ৫ হাজার ৮৪৭টি। চেয়ারম্যান পদে ২০৭ জন, ভাইস চেয়ারম্যান ৩৮৬ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৪৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ধাপে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ২৮ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ১৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান ছয়জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাতজন।

ইসির যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে কমিশন। সব রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে কমিশনের সিদ্ধান্ত জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে কাউকে কোনো ছাড় না দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এর পরও ইসির নির্দেশনার ব্যত্যয় ঘটলে এবং অনিয়ম ঠেকাতে ব্যর্থ হলে দায়ভার রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারকেই নিতে হবে।’

ইসির সিদ্ধান্ত রয়েছে, নির্বাচনে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা-অনিয়ম কিংবা আইনবহির্ভূত ঘটনা ঘটলে যে কাউকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। এ অবস্থায় অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আসন্ন উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রভাবমুক্ত থাকতে হবে।

মাঠে থাকছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লক্ষাধিক সদস্য : ইসির কর্মকর্তারা বলেছেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে নির্বাচনের সময় মাঠে থাকবেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লক্ষাধিক সদস্য। পুলিশ, আনসার, গ্রামপুলিশ ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবে। আর স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিজিবি, র‌্যাব, কোস্টগার্ড, আর্মড পুলিশকে মোতায়েন করা হবে। সাধারণ ভোটকেন্দ্রে বিভিন্ন বাহিনীর ১৪ ও ঝুকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৬ জনের ফোর্স মোতায়েন থাকবে। সে হিসেবে ৬ হাজার ২১৯টি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য থাকবেন ৯৩ হাজারের বেশি।

 

"