কমছে রোহিঙ্গাদের সহায়তা : মানবিক সংকটের আশঙ্কা

প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

মিয়ানমার থেকে সেদেশের সেনা নির্যাতনের কারণে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্য প্রথমদিকে সবাই মানবিক সহায়তায় হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। মানবিক সহায়তায় এগিয়ে এসেছিল এ দেশের নানা মহলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দাতাগোষ্ঠী। কিন্তু এখন যতই দিন যাচ্ছে ততই আগের মতো তেমন সাড়া মিলছে না দাতাগোষ্ঠীগুলোর। আগের চেয়ে কমে আসছে সহায়তার পরিমাণ। যার কারণে সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা এনজিও কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, দাতাগোষ্ঠীগুলোর সেই আগের মতো জৌলস নেই রোহিঙ্গাদের প্রতি।

জানা যায়, চলতি বছরে রোহিঙ্গাদের খাদ্য, চিকিৎসা, বাসস্থানসহ নানা খরচ মেটাতে জেনেভায় যৌথ সাড়া দান পরিকল্পনা তথা জিআরপি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলেও এখনো তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এর ফলে রোহিঙ্গাদের মানবিক সেবা প্রদানে বেগ পেতে হচ্ছে সরকার ও জাতিসংঘকে। তার ওপর রোহিঙ্গাদের সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে অপব্যয়ের অভিযোগ তুলেছেন দেশীয় এনজিও সংস্থার কর্মকর্তারা। রোহিঙ্গাদের আপত্তিতে একদিকে বন্ধ আছে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার (প্রথম পর্যায়); তার ওপর আগের প্রায় ১২ লাখের সঙ্গে নতুন যোগ হয়েছে ভারত ফেরত হাজারও রোহিঙ্গা। মাঝেমধ্যে নতুন করে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের ঘটনাও ঘটছে সীমান্তের নানা পয়েন্ট দিয়ে। এমতাবস্থায় রোহিঙ্গাদের সংখ্যা, চাহিদা ও সংকট বাড়লেও তাদের প্রতিদিনের চাহিদার জোগান কমে আসছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপ (আইএসসিজি) সূত্রে জানা যায়, গত বছর বাজেট ছিল ৯৫১ মিলিয়ন ডলার এ বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৯২১ মিলিয়ন ডলারে। প্রত্যাবাসন সম্ভব না হওয়ায় রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে ২০১৯ সালের জন্য জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান বা জেআরপি বাংলায় যৌথ সাড়া দান পরিকল্পনা তৈরি করে তা জেনেভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় এ প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। এ প্রস্তাবনায় চলতি বছরের জন্য লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯২১ মিলিয়ন ডলার।

কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য, খাদ্যসহ তাদের সবকিছুর ব্যয় বাড়ছে। তবে এখনো আগের মতো সাড়া দিচ্ছে না দাতা সংস্থাগুলো। তাই সামনে সংকটের মুখে পড়তে পারে দেশ। কারণ দাতা সংস্থাগুলো যদি সাড়া না দেয়, তাহলে সরকারকেই তাদের ব্যয় বহন করতে হতে পারে। কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বিদেশি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে কেন আমরা কিছু তৈরি করতে পারলাম না। আদৌ কি সে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা আছে। বিদেশি কর্মকর্তার বিলাসিতায় অনেক টাকা খরচ করা হচ্ছে। নিজেদের কর্মকর্তা থাকলে তাহলে বিদেশিদের পেছনে এত খরচ হতো না। ২০১৯ সালের শেষের দিকে বড় ধরনের সংকট হতে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপের মুখপাত্র সৈকত বিশ^াস বলেন, রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্তদের মান উন্নয়নের বিষয়টি মাথায় রেখে জিআরপি প্রণয়ন করা হয়েছে। দাতাগোষ্ঠীগুলো আগের মতো সাড়া দেবে বলে আশা করছি।

উল্লেখ্য, শরণার্থী বিষয়ক কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, প্রাথমিক নিবন্ধনে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ১২ লাখের মতো রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। দীর্ঘ দেড় বছরের বেশি সময় ধরে তাদের মানবিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী জানান, রোহিঙ্গাদের যত সম্ভব মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিলে উখিয়া-টেকনাফের মানুষের স্বস্তি ফিরিয়ে আসবে।

 

"