বিএনপির তৃণমূলে কড়া বার্তা

নির্বাচনের নাম নিলেই বহিষ্কার

প্রকাশ | ০৯ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

বদরুল আলম মজুমদার

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বর্তমান সরকারের আমলে আর কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। এ প্রশ্নে খুব কড়াকড়ি অবস্থানে রয়েছে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এমন বাস্তবতায় সারা দেশে এখন উপজেলা নির্বাচনের হাওয়া বইছে। দলীয়ভাবে নির্বাচনে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় মাঠ পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মী স্থানীয়ভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দি¦তা করছেন। এভাবে দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে নির্বাচনে যাওয়ায় সারা দেশে এ পর্যন্ত ১২৯ জনকে বহিষ্কারের কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় দফদর। আরো বেশ কিছু নেতাকে বহিষ্কার করার নোটিশও দিয়ে রাখা হয়েছে।

জানা যায়, আসন্ন উপজেলা নির্বাচন বর্জনের দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বিএনপির তৃণমূলের যে নেতারা ওই নির্বাচনের প্রার্থী হচ্ছেন তাদের ব্যাপারে বহিষ্কারের মতো কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দলটির গত ২১ দিনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ও দফতরের তথ্য থেকে জানা গেছে, এ ব্যাপারে গত ২১ দিনে ১১২ নেতাকে বহিষ্কার করছে বিএনপি।

গত বুধবার বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক বেলাল আহমেদ স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির মহিলাবিষয়ক সম্পাদক রেহানা বেগম হাসনা, নেত্রকোনা জেলাধীন খালিয়াজুরি উপজেলা বিএনপি নেতা মির্জা পারভেজ এবং মনোয়ারা বেগমকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই অভিযোগে গত রোববার সিলেট, হবিগঞ্জ, বগুড়া, নওগাঁ, রাঙামাটি ও বান্দরবন জেলার ৮২ জন নেতাকে বহিষ্কার করেছে দলটি। প্রতিটি বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কৃতদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতির কথা জানানো হয়।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী হুশিয়ারি দেন, উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির কোনো নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। যদি কেউ দলের সিদ্ধান্ত বরখেলাপ করে তাহলে তাকে বহিষ্কার করা হবে। তবে এসব কড়াকড়ি নির্দেশনা উপেক্ষা করে অনেকেই নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন। এ বিষয়ে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী হুসিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, উপজেলা নির্বাচনে দলের কোনো নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রিজভী আরো বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ছিল, উপজেলা নির্বাচনও একইভাবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হবে। সুতরাং স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে, উপজেলা নির্বাচনের ভবিষ্যৎ কি? এই নির্বাচনও যে আগের দিন রাতেই অনুষ্ঠিত হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য গত ৫ ও ৬ মার্চ বহিষ্কৃত নেতারা হলেনÑ মৌলভীবাজারে রেহানা বেগম হাসনা, নেত্রকোনার মির্জা পারভেজ, মনোয়ারা বেগম, মৌলভীবাজারের লিটন আহমেদ, শ্রীমঙ্গলের হেলেনা আক্তার চৌধুরী, আবদুল মুয়ীন ফারুক, পারভীন আক্তার লিলি, চট্টগ্রামের এস এম ছলিম উদ্দিন চৌধুরী প্রকাশ খোকন চৌধুরী, আফরোজা বেগম জোলি, শাহ নেওয়াজ বেগম, শাহিদা আকতার শেফু।

এছাড়া হবিগঞ্জের এস এম শাহজাহান, মনজুর উদ্দিন আহমদ শাহীন, চুনারুঘাটের এস লিয়াকত হাসান, জেলা কৃষক দলের মাহবুবুর রহমান আওয়াল, মাধবপুরের আবদুল আজিজ, বানিয়াচং উপজেলার তানিয়া খানম, সুফিয়া আক্তার হেলেন, বাহুবলের নাদিরা খানম, লাখাই যুবদলের তাউস আহমদ, সিলেটের মাজহারুল ইসলাম ডালিম, জিল্লুর রহমান সোয়েব, শামছুল আলম, মাওলানা রশীদ আহমদ, সোহেল আহমদ চৌধুরী, আবদুর রহমান খালেদ, আশরাফ উদ্দিন রুবেল, নাজমা বেগম, স্বপ্না শাহীন, আবদাল মিয়া, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের খালেদুর রশীদ ঝলক, যুবদল নেতা সুন্দর আলী, জকিগঞ্জের ইয়াহইয়া বেগম, ছাত্রদলের ফজলে আশরাফ মান্না, গোয়াইনঘাটের লুৎফুল হক খোকন, শাহ আলম স্বপন, জয়নাল আবেদীন, মহিলা দলের খোদেজা বেগম কলি, জৈন্তাপুরের আবদুল হক, বিশ্বনাথের মিসবাহ উদ্দিন আহমদ, আহমদ নূর উদ্দিন, জুবেল আহমদ, নুরুন্নাহার ইয়াসমিন, কোম্পানীগঞ্জের লাল মিয়া, আবিদুর রহমান, ফেঞ্চুগঞ্জের ওয়াহিদুজ্জামান সুফী, মনির আলী নানু মিয়া, হারুন আহমদ চৌধুরী, জহিরুল ইসলাম মুরাদ, সাহেদ আহমদ, ফেরদৌসী ইকবাল, বালাগঞ্জের গোলাম রব্বানী, সেবু আক্তার মনি। বগুড়ার মাছুদুর রহমান, টিপু সুলতান, রাফি পান্না, সারিয়াকান্দির গোলাপী বেগম, সোনাতলার জিয়াউল হক লিপন, রঞ্জনা খান, নয়নতারা, শিবগঞ্জের মোছা. বিউটি বেগম, নন্দীগ্রামের আলেকজান্ডার, এ কে আজাদ, কাহালুর শাহাবুদ্দিন, মমতাজ আরজু কবিতা, ধুনটের আখতার আলম সেলিম, আলিমুদ্দিন হারুন, সদর থানার মোছা. নাজমা আক্তার, মাহিদুল ইসলাম গফুর, শাজাহানপুরের আবুল বাশার, জাহেরুল ইসলাম, সুলতান আহম্মেদ, মোছা. জুলেখা বেগম, মোছা. কোহিনুর বেগম, রহিমা খাতুন মেরি, ডা. মেহেরুল আলম মিশু, আনোয়ার এহসানুল বাশার জুয়েল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সুরাইয়া জেরীন রনি, গাবতলীর তাহমিনা আকতার রুমা, শ্যামল সরকার। নওগাঁর নিয়ামতপুরের সদরুল আমিন চৌধুরী, মোছা. মনোয়ারা বেগম, মান্দার আহসান হাবীব, সাপাহার উপজেলার জয়নুল আবেদীন, আশরাফুল ইসলাম, ধামইরহাটের হিলা মোছা. শাহিনা, রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের নূর নাহার বেগম, নানিয়ারচরের নুরুজ্জামান হাওলাদার, রাঙামাটির রনো চাকমা, বান্দরবানের আবদুল কুদ্দুছ, আবুল কালাম, শিরিন আক্তার, রুমা উপজেলার জিমসম লিয়ান বম ও হামিদা চৌধুরীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

"