লক্ষ্য চাকরির সুযোগ বাড়ানো

৩ বছরে ব্যয় হবে ৬ হাজার কোটি টাকা

আর্থিক ও নীতি সহায়তা দেবে বিশ^ব্যাংক

প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

শাহজাহান সাজু

নীতিগত সহায়তা দিয়ে উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে চাকরির সুযোগ তৈরি করবে সরকার। নাগরিকদের জন্য অধিক ও ভালো চাকরির সুযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রে যেসব ঘাটতি ও সমস্যা রয়েছে তা দূর করতে কর্মপন্থা নির্ধারণ এবং তা বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা হবে। এজন্য আগামী তিন বছরে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। চাকরি প্রার্থীকে দক্ষ করে সময়োপযোগী চাকরি দেওয়া হবে। সরকারি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বেকারদের জন্য চাকরির সুযোগ তৈরি করে দিতে সরকারের এই উদ্যোগে অর্থায়নের পাশাপাশি নীতিগত

সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘জব ডেভেলপমেন্ট পলিসি ক্রেডিট (ডিপিসি)।’ আগামী তিন বছরে অর্থাৎ ২০১৮-২১ পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ৭৫ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা পাবে। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা।

বিশ্বব্যাংকের এই কর্মসূচি শ্রমঘন কর্মকান্ড বিনিয়োগ বৃদ্ধি, চাকরির গুণগত মানোন্নয়ন, ঝুঁকি সহনীয়তা বৃদ্ধি এবং চাকরিতে নারী, যুবক ও অভিবাসীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। এছাড়া এতে বাজারভিত্তিক দক্ষতারও সৃষ্টি হবে।

জানা যায়, তার মধ্যে গত বছরের ডিসেম্বর মাসের প্রথম বছরের জন্য ২৫ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ প্রস্তাব বিশ্ব ব্যাংকের বোর্ড সভায় অনুমোদন করা হয়েছে। এরই মধ্যে বাজেট সহায়তা হিসেবে এই অর্থ সরকার চাকরির বাজার উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে ব্যবহার শুরু করেছে। চলতি বছরের ২৫ কোটি মার্কিন ডলারের দ্বিতীয় কিস্তি শিগগিরই অনুমোদন করা হতে পারে।

সূত্র জানায়, শিল্প খাতে কর্মসংস্থানের গতি ত্বরান্বিত ও বহুমুখী করার উদ্দেশ্যে শিল্প ও বাণিজ্য পরিবেশের আধুনিকায়ন, শ্রমিকের সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারকরণ এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকারে কর্মে প্রবেশের উপযোগী নীতি-কর্মসূচি প্রণয়নের উদ্দেশ্যে বিশ্বব্যাংক কর্মসংস্থান কর্মসূচিভিত্তিক নীতি কৌশল ঋণ সহায়তা অনুমোদন করেছে। বাংলাদেশে এটি বিশ্বব্যাংকের প্রথম নীতি-কৌশল ঋণ সহায়তা। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকার কলকারখানা প্রতিষ্ঠা ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে পুরনো আইন সংশোধন বা পরিবর্তন করে নতুন আইন প্রণয়ন করছে। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সরকারের জব ডেভেলপমেন্ট পলিসি ক্রেডিট (ডিপিসি) কর্মসূচি বাস্তবায়নে ঢাকায় এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, রাজস্ব, ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে সংস্কার করা হবে। দেশে এখন ৬০ শতাংশ কর্মক্ষম জনশক্তি রয়েছে। তাই দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশ জনসংখ্যার বোনাসকাল ভোগ করতে পারবে। এ বছর ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে। বেসরকারি খাতে সুযোগ বৃদ্ধি করায় আগামী ৫ বছরে আরো চাকরির সুযোগ আসবে। কর হারে ও ব্যাংক খাতে সংস্কার করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে এসব খাতে সংস্কার হয়নি, এসব সংস্কার হলে সবাই সুবিধা পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জানা যায়, বাংলাদেশের উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে অধিক ও উন্নত চাকরির সুযোগ একটি পূর্বশর্ত। উৎপাদন খাতে বহুমুখিতায় অধিক হারে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এই সংস্কার বিনিয়োগ পরিবেশ, ব্যবসা-বাণিজ্যের বাধা অপসারণ এবং শুল্ক ও বাণিজ্য সহায়তা আধুনিকায়নে সহায়তা করবে।

জানা যায়, প্রস্তাবিত বাজেট সহায়তার আওতায় চাকরির সুযোগ তৈরিতে বিশ্ব ব্যাংক আগামী তিন বছরে ৭৫ কোটি ডলার ঋণ দেবে তা শোধ করতে ৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩০ বছর সময় পাবে বাংলাদেশ। ওই অর্থের ওপর বার্ষিক ০.৭৫ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ এবং ১.২৫ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। অনুত্তোলিত অর্থের ওপর বার্ষিক সর্বোচ্চ ০.৫ শতাংশ হারে কমিটমেন্ট চার্জ দিতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত এক দশকে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিশেষ করে প্রবৃদ্ধি অর্জন, দারিদ্র্য নিরসন হয়েছে ব্যাপক। তবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে বাংলাদেশের জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জ। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তিনটি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাব, মানসম্মত কর্মসংস্থানের অভাব এবং কর্মসংস্থানে নারীদের পিছিয়ে থাকা। তবে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে সরকারের এই উদ্যোগে দেশে নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হবে।

এছাড়া এই কর্মসূচির আওতায় বিনিয়োগে ওয়ানস্টপ সেবা সম্পর্কিত আইনের আওতায় বিধিবিধান জারি করা হবে। এছাড়া নতুন কোম্পানি আইন তৈরি এবং ব্যবসা পরিচালনার আইনি কাঠামো সহজ ও স্বয়ংক্রিয় করার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।

 

"