ঐক্যফ্রন্টের এমপিদের সংসদে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

সংসদ প্রতিবেদক

বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিজয়ী সংসদ সদস্যদের সংসদে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, যারা (ঐক্যফ্রন্ট) নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেও অল্প সিট পেয়েছেন বলে অভিমানে তারা পার্লামেন্টে আসছেন না। আমার মনে হয়, তারা একটা ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ ভোটের মালিক জনগণ, জনগণ যাকে খুশি তাকে ভোট দেবে এবং সেভাবেই জনগণ ভোট দিয়েছে। কাজেই আমার আহ্বান থাকবে, যারাই নির্বাচিত সংসদ সদস্য, তারা সবাই পার্লামেন্টে আসবেন, বসবেন এবং যার যা কথা সেটা বলবেন।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে এ-সংক্রান্ত সম্পূরক প্রশ্নটি উত্থাপন করেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইমাম। জবাবে তিনি আরো বলেন, সংসদে বসার সুযোগটা তারা কেন হারাচ্ছেন আমি জানি না। আমার আশা, তারা সংসদে আসবেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ী হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারতসহ ৯৭টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং বিভিন্ন সংস্থান প্রধানরা তাকে অভিনন্দন জানানোর কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব অভিনন্দন বার্তায় বিশ্ব নেতারা বাংলাদেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির জন্য আমাদের সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নোত্তরে সংসদ নেতা বলেন, দারিদ্র্যবিমোচন এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকে বিগত দশ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের অভাবনীয় সাফল্য বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

সরকারি দলের সদস্য মামুনুর রশীদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। স্বাধীনতাবিরোধী একটি চক্র মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি হিসেবে ব্যবহারের মাধ্যমে রাজনীতি করে দেশের সুনাম ক্ষুণœ করতে চেয়েছে। তবে আমাদের ঐকান্তিক চেষ্টার ফলে বারবার তা ব্যর্থ হয়েছে। কুচক্রী মহল যাতে কোনোভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের ক্ষেত্র তৈরি না করতে পারে, সে ব্যাপারে আমরা সজাগ রয়েছি।

সংসদ নেতা বলেন, গ্রামের মানুষকে আমরা যেমন নাগরিক সুবিধা দিতে চাচ্ছি। কারণ একটু ভালো হলেই গ্রাম থেকে শহরে চলে আসা, এটা আমার আসলে কোনো দিনই পছন্দ ছিল না। কেননা, আমি গ্রামে জন্ম নিয়েছি, গ্রামেই বড় হয়েছি। কাজেই সব সময় আমার একটা আকাক্সক্ষা, যখনই আমি অবসর নেব তখন গ্রামের বাড়িতে গিয়েই থাকব। কারণ পল্লীর সবুজ শ্যামল সুন্দর পরিবেশ সব সময় আমাকে টানে।

সরকারি দলের মাহফুজুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে অন্যতম বিষয় ছিল তারুণ্যের শক্তি, বাংলাদেশের সমৃদ্ধি। নির্বাচনী ইশতেহারে এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমরা দেশের নতুন প্রজন্ম, বিশেষ করে যুবসমাজের উন্নয়নের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। এরই মধ্যে এ লক্ষ্যে, উপজেলা পর্যায়ে যুবকদের প্রশিক্ষণ-সংক্রান্ত একাধিক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের নবম ওয়েজবোর্ড : সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছরে বাংলাদেশে গণমাধ্যমের সব বিভাগে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে। সাংবাদিকদের জন্য নবম ওয়েজবোর্ড ঘোষণা করা হয়েছে। সর্বস্তরের সাংবাদিকদের জন্য এর বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতি পাঁচ বছর পরপর ওয়েজবোর্ড গঠন করছে। নবম ওয়েজবোর্ড, সব সংবাদপত্রের গণমাধ্যমকর্মীর শতকরা ৪৫ ভাগ মহার্ঘ-ভাতা প্রদানের জন্য সুপারিশ করেছে। এ ছাড়া ওয়েজবোর্ড কর্তৃক দাখিলকৃত রোয়েদাদের সুপারিশমালা পরীক্ষা করে দ্রুত গেজেট প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন, গণমাধ্যমবান্ধব এ সরকার মিডিয়া সেক্টরে আরো উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দিতে বদ্ধপরিকর।

"