ডিএসসিসির ছয় মাসে রাজস্ব বকেয়া ৭২ শতাংশ

হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া ৬৯ শতাংশ

প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

হাসান ইমন
ama ami

২০১৮-১৯ অর্থবছরের গত ছয় মাসে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ২৮ শতাংশ রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। অর্থ্যাৎ ৯০৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য মাত্রা থেকে মাত্র ২৫৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা আদায় করতে সক্ষম হয়েছে সংস্থাটি। আর রাজস্ব আদায়ের ৭২ শতাংশই বকেয়া রয়ে গেছে। এছাড়া গত অর্থবছরে সংস্থাটি মাত্র ৪৩ শতাংশ রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। এর আগের বছরগুলোতেও রাজস্ব আদায়ে করুণ অবস্থা ছিল সংস্থাটির। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতি বছরই রাজস্ব আদায়ে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে দীর্ঘ প্রচারণা ও হুশিয়ারিসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে না সংস্থাটি। গত তিন অর্থবছরের সংস্থার বাজেট পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রতি বছর বাজার সেলামি, কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া, হোল্ডিং ট্যাক্স ও বিজ্ঞাপন খাতে আয়ের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় তার বড় অংশই অনাদায়ী থেকে যাচ্ছে। ফলে কাক্সিক্ষত রাজস্ব আয় সম্ভব হচ্ছে না।

জানা গেছে, সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আদায়ের প্রধান খাত হোল্ডিং ট্যাক্স। হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ে বরাবরই ব্যর্থ হচ্ছে করপোরেশন। গত অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে দেখা যায়, হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫১৫ কোটি টাকা, আদায় হয়েছে মাত্র ১৮০ কোটি টাকা। আদায়ের পরিমাণ ২৮ শতাংশ। আর চলতি অর্থবছরের মধ্যে গত ছয় মাসে ৩১ শতাংশ অর্থ্যাৎ ১০২ কোটি টাকা আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া ২০১৭-১৮ অর্থবছরেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৩৫ কোটি টাকা কম হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করে সংস্থাটি।

এছাড়া ডিএসসিসির রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ঘাটতি থাকে বাজার সেলামি খাতেও। গত অর্থবছরে বাজার সেলামির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩১৩ কোটি টাকা। সংস্থাটি আদায় করতে পেরেছে মাত্র ৫৩ কোটি টাকা। আর চলতি অর্থবছরের গত ছয় মাসে ১০ শতাংশ অর্থ্যাৎ ৩০ কোটি টাকা আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাজার সেলামি আদায়ের লক্ষ্য ছিল ৬৫০ কোটি টাকা। যার মধ্যে আদায় ১০৫ কোটি টাকা। ট্রেড লাইসেন্স বাবদ গত ছয় মাসে আয় হয়েছে ৪০ শতাংশ অর্থ্যাৎ ৩৩ কোটি টাকা। যার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৮০ কোটি টাকা। কর্মকর্তারা বলছেন, ট্রেড লাইসেন্স থেকে মূলত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত অর্থ্যাৎ মূলত তিন মাস ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন বেশি হয়। বাকি মাসগুলোতে তেমন একটা হয় না। কিন্তু গত তিন মাসে যা আদায় হয়েছে, বাকিমাসগুলোতে এর অর্ধেক টাকাও আসবে না।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে কোরবানি উপলক্ষে অস্থায়ী পশুর হাট থেকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৩০ শতাংশ কম আদায় হয়েছে। চলতি অর্থবছরের পশুর হাট থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা কমালেও এবার আরো কম আদায় করেছে সংস্থাটি। এবার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ কোটি ৫০ লাখ, যার মধ্যে আয় হয়েছে ৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা। প্রতি বছরে পশুর হাট থেকে কম টাকা আদায়ের প্রসঙ্গে কর্মকর্তারা বলছেন, অদৃশ্য সিন্ডিকেট সদস্যরা আগে থেকে তাদের মধ্যে সমঝোতা করে রাখেন। যাতে সিটি করপোরেশন গরুর হাট ইজারা না দিতে পারে। পরে সিন্ডিকেট সদস্যরা নামমাত্র কিছু টাকা দিয়ে হাট বাগিয়ে নিতে পারে।

সম্পত্তি হস্তান্তর কর বাবদ গত ছয় মাসে ২৬ শতাংশ অর্থ্যাৎ ২৬ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। যার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০০ কোটি টাকা। এছাড়া রাস্তা খনন ফি বাবদ আদায় হয়েছে ১ কোটি টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৫ শতাংশ।

এক কর্মকর্তা বলেন, বিগত বছরগুলোর মতো এবারও রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ব্যবধান থাকবে। কারণ হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করা যাচ্ছে না। বাসিন্দাদের বার বার নক করলেও তারা অনেকটা ধীরগতিতে দিচ্ছেন। এছাড়া সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদেরও কিছুটা অবহেলা রয়েছে। এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রাজস্ব কর্মকর্তাদের পরিচ্ছন্নতা অভিযানসহ ডিএসসিসির বিভিন্ন দাফতরিক কাজে ব্যস্ত রাখা হয়েছিল। সে জন্য তারা রাজস্ব আদায়ের দিকে মনযোগ দিতে পারেনি। এখন থেকে তারা মাঠে নেমে পড়েছে। আশা করি, বাকি ছয় মাসে রাজস্ব আদায়ে যতটুকু বাকি শতভাগ আদায় হবে।

"