নিপীড়িত জাতিসত্তার আত্মমর্যাদার প্রতীক

প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ama ami

১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে অধিকার সচেতনতা সৃষ্টি হয়, তারই প্রতিফলন দেখতে পাওয়া যায় ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে। পরবর্তীতে সামরিক স্বৈরাচার এবং শোষণ বঞ্চনাবিরোধী আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায়ে বাঙালির প্রাণে শক্তি ও সাহস জুগিয়েছে ৫২-এর জাগরণ। ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ঐতিহাসিক ৬ দফা ও ১১ দফার সংগ্রাম, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাবিরোধী আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচনে জনতার রায়, একাত্তরের অসহযোগ এইভাবে ধাপে ধাপে পরিণতি লাভ করে বাঙালির স্বাধিকার সংগ্রাম। স্বাধিকারের দাবি রূপান্তরিত হয় স্বাধীনতার সংগ্রামে। ৯ মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে বাহান্নতে ছাত্র তরুণরা আন্দোলনের সূচনা করলেও, সেই পথ বেয়ে শুধু যে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনই দানা বেধেছিল তাই নয়, এতদিন পর অমর একুশে হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্বব্যাপী নিপীড়িত জাতিসত্তার আত্মমর্যাদাবোধের প্রতীকে। মাতৃভাষা বাংলার জন্য বাঙালির রক্তে রচিত হওয়া একুশের যে সোপান, আজ এটি বিশ্বময় সব নিপীড়িত নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রতীক হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘ একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতির কারণে অমর একুশে ফের তার উজ্জ্বলতা ছড়িয়ে দিল বিশ্বব্যাপী। বিশ্বে বর্তমানে প্রচলিত ভাষার সংখ্যা ৬ শতাধিক, মতান্তরে ৭ হাজার। এইসব ভাষার অনেকগুলোরই নিজস্ব বর্ণমালা নেই। আবার অনেক ভাষা বিলুপ্ত হয়েছে কিংবা হারিয়ে যাবার উপক্রম হয়েছে। মহান একুশে ফেব্রুয়ারি নিঃসন্দেহে বিশ্বের প্রতিটি জাতি-গোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষার অধিকার ও সুরক্ষার সংকল্পদীপ্ত দিবস। তাই অমর একুশে শুধু বাঙালির নয়, সব নিপীড়িত জাতিসত্তা চেতনার পথ প্রদর্শক হয়ে উঠেছে।

বস্তুত মাতৃভাষার সুরক্ষা, বিকাশ এবং এর অবাধ অনুশীলনের অধিকার ছাড়া কোনো জাতির অগ্রসরতার পথ প্রশস্ত হতে পারে না। এর মানে এই নয় যে মানুষ মাতৃভাষা ভিন্ন অন্য কোনো ভাষা শিখবে না বা চর্চা করবে না। বিশ্বায়নের এই যুগে এমনটি চিন্তাও করা যায় না। প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য ভাষাও শিখতে হবে। তবে বাঙালি হিসেবে আমাদের এই বিষয়টি দৃঢ় চিত্তে লালন করতে হবে, একুশ মানেই আমাদের মাথা নত না করার ইতিহাস।

"